অ্যালবার্টার ব্যাটেল রিভার

জন্ম মৃত্যুর মাঝে যে সময়ের ব্যপ্তি যে ট্রানজিশন সেই সময়টাতে মানুষ নানারকম সম্পর্ক গড়ে তোলে

এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউ যেতে চায় না। পৃথিবী মানুষকে তার মায়ার বন্ধনে বেধে ফেলে। তাই একজন মানুষের পক্ষে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে ছেড়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর একটি অনুভূতি।

একটি জায়গায় দীর্ঘদিন থাকলে সেই জায়গার প্রতি যেমন একটা মায়া জন্মে যায়, পৃথিবীটাও ঠিক তেমনি।

- Advertisement -

জন্ম মৃত্যুর মাঝে যে সময়ের ব্যপ্তি, যে ট্রানজিশন, সেই সময়টাতে মানুষ নানারকম সম্পর্ক গড়ে তোলে। বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন, বাবা-মা, ভাই-বোন,প্রিয়জন; এই সব সম্পর্কগুলিও মাকড়সার জালের মতো মায়ার জাল বুনে চলে। এই মায়ার জাল ছিন্ন করে চলে যাওয়াটা খুব কষ্টের।

তাই কোন মানুষকে যখন ডাক্তার বলেন , সে খুব দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, তার আয়ূ স্বল্প সময়ের মধ্যে আবদ্ধ তখন সেই মানুষটির অনুভূতি কি হয় তা একমাত্র ওই মানুষটির পক্ষেই বোঝা সম্ভব। চর্তুদিকের মানুষ তার সামনেই  স্বাভাবিক জীবন যাপন করে যাবে। তারা হয়ত মানুষটির প্রতি সমবেদনা, সহানুভূতি দেখাবে। হয়ত ব্যাথিতও হবে কিন্তু সেই মানুষটি যে একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেটি তারা কখনোই বুঝবে  না। ক্ষনিকের সেই অতিথীর জন্য কারো জীবনের আনন্দ, উৎসব থেমে থাকে না। সবাই সবার মতো করেই জীবনকে বয়ে চলে স্বাভাবিক গতিতে। কারো কোন কিছুই থেমে থাকে না। নিষ্ঠুর শোনালেও, এটাই কঠিন সত্য।

যেই মানুষটি জানে কিছু দিন পর তাকে চলে যেতে হবে সেই মানুষটির কাছে প্রতিটি মানুষের আচরন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্যরকম ভাবে ধরা দেয় । কারন, তার কাছে হঠাৎ করেই চলমান সময়টা কোথায় যেন ছন্দ হারিয়ে থেমে গেছে। অন্য সবার সময় স্বাভাবিক ভাবে চলছে।  তার ক্ষেত্রেই শুধু ব্যতিক্রম। কারন, সে আগের মতো হাসতে পারে না, আগের মতো ভাবতে পারে না, আগের মতো কাদতেও পারে না। তার কোন কিছুই আর আগের মতো থাকে না। সে এক গতিহীন নিশ্চল পাথরের মতো থমকে যায়।

তার পারিপার্শ্বিক সবাই এই পৃথিবীতে থেকে যাবে, তাকেই চলে যেতে হবে। সবাই জীবনের আনন্দ উৎসবে মেতে থাকবে। সে আর সেই সব আনন্দ উৎসবের অংশ থাকবে না। তার প্রিয়জনেরা সবাই থেকে যাচ্ছে। তাকে একাকি সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের এই ভাবনাগুলি খুবই কষ্টকর।

কারো জীবনে যেন এমন সময় না আসে। সবাই যেন সুস্থ্য স্বাভাবিক সুন্দরতম জীবনের নির্যসটুকু নিয়ে চলে যেতে পারে, সবার জন্য এমন শুভকামনা ব্যক্ত করি।

 

দুই

অ্যালবার্টার ব্যাটেল রিভার, ক্রফুটের  এমপি ডামিয়েন কুরেক কনজারভেটিভ পার্টির লিডার পিয়ের পলিয়েভের জন্য নিজ আসন  ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছেন।

নিয়ম হচ্ছে, তিনি নিজ আসন থেকে পদত্যাগ করবেন। আসনটি শূন্য হলে সেই আসল থেকে পিয়ের পলিয়েভ উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।

তাকে উপনির্বাচনে অন্য সব দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে হবে৷

ডামিয়েন কুরেক এপ্রিলের ২৮ তারিখে হয়ে যাওয়া ফেডারেল নির্বাচনে  তার আসনে ৮২% ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

তিন

ভারতের “অপারেশন  সিঁদুর” একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। অর্থাৎ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী স্থাপনাগুলির ম্যাপিং করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে।

আর এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর। পাকিস্তানের মূলভূখন্ডের ভিতরে এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়নি।

এই আক্রমণের nature পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,এটি কোন ক্রমাগত আক্রমণ নয়। একবারে ৯ টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে থেমে গেছে। আক্রমণ ক্রমাগতভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।

তাই এই আক্রমণ কোন সর্বব্যাপী আক্রমণ নয়।সীমিত আকারের আক্রমণ বলা যায়।

ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রাশিয়া ইউক্রেনের মূলভূখন্ডে ক্রমাগতভাবেই আক্রমণ চালিয়ে গেছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার মূলভূখন্ডে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়েছে।

রাশিয়া -ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ দিলাম বুঝার সুবিধার্থে।

ভারতের যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক তা কি ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের মতো?

মোটেও কিন্তু তা নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতের এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কারনে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী কিনা?

এর উত্তর হচ্ছে,বিষয়টি নির্ভর করে পাকিস্তানের পাল্টা আক্রমণের উপর। পাকিস্তানের পাল্টা আক্রমণ কেমন হবে সেটার উপরেই নির্ভর করছে দুই দেশ বড় ধরনের কোন যুদ্ধে জড়াবে কিনা।

তবে আজকের খবরে যেটি বুঝেছি, পাকিস্তান পাল্টা জবাব দেবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য।

দেখা যাক, পানি কোন দিকে গড়ায়।

আমার লেখার উদ্দেশ্য যুদ্ধের পক্ষে নয়। বুঝাতে চাচ্ছি, যুদ্ধ হবে কি হবে না তার কতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent