
ডা.তাজনূভা জাবীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক। আমার সাবেক সহকর্মী। দীর্ঘদিন আমরা একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। আমাদের দু’জনের ডিপার্টমেন্ট ভিন্ন ছিল। কিন্তু নানান সময় খুব কাছে থেকে তাকে চেনা এবং জানা। গত কয়েকদিন যাবত তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা, কর্দয ভাষায় চরিত্রহণন চলছে। যা খুবই দু:খজনক ও বেদনাদায়ক।
দু:খজনক এই কারণে যিনি এই কাজটি করেছেন তিনিও একসময় আমাদের সহকর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য ও ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্ত একজন নারী সহকর্মীকে মিথ্যা ভিত্তিহীন অপবাদে এভাবে চরিত্রহনন করা বেদনাদায়ক। তার এই আচরণে লজ্জিত।
তাজনূভা যখন ১৭ বা ১৮ জুলাই ছাত্র জনতা হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ায়, সুদুর কানাডা হতে তার ছবি দেখে গর্বিত হই, একই সাথে শংকিত হই ফ্যাসিবাদের রোষানলে তার পরিনতি কি হবে ভেবে। কিন্ত তাজনূভা অবিচল ছিলেন ফ্যাসিবাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত। সেই মুর্হুতে ছাত্র জনতার পাশে প্রগতিশীল শিক্ষকদের নেটওয়ার্কের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ড. আসিফ নজরুলসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ( সবার নাম এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না) ছাড়া অন্য কোন পেশাজীবিদের কেউ সাহস করে রাজপথে নামেনি,মুখ খুলতে সাহস পায়নি। নাহিদ, আসিফদের পাশে তখন এড. জেড. আই পান্না, এড. মানজুর আল মাতিনদের সাথে আমাদের সহকর্মী ডা. তাজনূভা জাবীন, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, ড. শহীদুল আলম, নির্মাতা আশফাক নিপুন, ইমেল হক, প্রমুখরাই ছিলেন। তাদের দেখে তখন অনেকেই রাজপথে নেমে আসতে শুরু করে। সেই দিনগুলোতে তাজনূভা শুধু রাজপথে নয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে নানান লেখা পোস্ট করেছেন। প্রতিবাদ সংঘটনে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাস্ট্র ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর রাজনীতিতে আসা। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার জন্যই রাজনীতির মতন কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাজনূভার সুচিন্তিত মতামত, বক্তব্য দেশ-বিদেশে সবার নজর কেড়েছে। আগামীদিনের একজন বলিষ্ঠ নেত্রী হয়ে উঠার সকল সম্ভাবনা যখন স্ফুরিত হচ্ছে ঠিক তখনই কুৎসিত ভিত্তিহীন, নির্লজ্জ আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাজনূভা শুধু নয় আজ নারীর চরিত্রহনন করা কিছু মানুষের রুটিনওয়ার্ক হয়ে গেছে।
নারীকে অপমান অপদস্থ করে সুস্থ সমাজ প্রত্যাশা করা যায় না। এর বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে রুখে দাঁড়াতে হবে। যদি এখনই শক্ত অবস্থান নিতে না পারা যায়, তাহলে পরিবর্তন কিংবা নতুন রাজনীতির আলাপ অন্তঃসারশূন্য থেকে যাবে।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
