
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প শুধু আমাদের রপ্তানি আয়ের মূল ভিত্তি নয়—এটি লাখো শ্রমিকের জীবিকা, বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বিতার অন্যতম পথ। কয়েকমাস আগে নোবেল লরিয়েট ইউনুস সরকার ভারত থেকে সুতা ও তুলা আমদানীর ক্ষেত্রে স্থলপথের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালে ভারত থেকে ২.৩৬ বিলিয়ন ডলারের তুলা ও সুতা আমদানী করা হয়, যার বড় অংশ স্থলপথে।
শুধুমাত্র সমুদ্রবন্দর দিয়ে তুলা ও সুতার আমদানীর বাধ্যবাধকতার কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে কাঁচামাল সরবরাহে সংকট দেখা দেবে, এটা পাগলেও বুঝতে পারে; কিন্তু, প্রতারণার মাধ্যমে গদি দখল করা ড. ইউনুস এটি করেছে মূলত: পাকিস্তান থেকে তুলা আমদানী করার লক্ষ্য থেকে। পাকিস্তান বহুবছর পর বাংলাদেশ থেকে সম্পদ আহরণের সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশকে হারানো ভাই কী আর সাধে বলছে?
যাহোক, এতে করে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, রপ্তানি প্রতিযোগিতা কমবে, সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা, কারণ তাদের পক্ষে সমুদ্রপথে তুলা আমদানী সহজ না, লাভজনক তো নয়ই। ফলে, সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা অর্ডার বাতিল করতে পারে। তাছাড়া, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তো আছেই। ইউনুসের সেই আত্মঘাতি সিদ্ধান্তের কয়েকমাস পরে ভারতের পক্ষ থেকে পোশাক সহ কয়েকটি পণ্যের উপর স্থলপথে ভারতে রপ্তানীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উল্লেখ্য, গেল বছর ভারতে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের তৈরী পোশাক রপ্তানী করেছে, যার সিংহভাগ স্থলপথে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে গেছে। প্লাস্টিকসহ অন্যান্য যেসকল পণ্য সমুদ্রপথে ভারতে রপ্তানী করতে হবে, তার বাজার মূলত: ভারতেরও ওই রাজ্যগুলো, ইউনুসের ভাষায় ল্যান্ডলকড।
এখন সময়, পরিপক্ব কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে—দুই দেশ মিলে সমাধানের পথ বের করা, উন্মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করে এই অঞ্চলকে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন ও সহযোগিতার মডেল হিসেবে গড়ে তোলা। সংকট শুধু অর্থনীতির নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত। ক্ষুদ্র অর্থনীতির অধ্যাপক যখন বড় মাঠের খেলোয়াড়, তখন এর পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে বাধ্য।
ফুটনোট এবং…
রবীন্দ্রনাথের জীবন যদি কাটে আজীবন দুঃখের তপস্যায়, তো ড. ইউনুসের জীবন কেটেছে আজীবন তেলবাজিতে; তিনি তেল মেখেছেন, তেলে মজেছেন এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে তেল মেরে হাত পাকিয়েছেন। এমনকি যে নোবেল পুরস্কার, সেটাও বিল ক্লিনটনকে তেলে চুবিয়ে অর্জন করা–এমন অভিযোগ বহু পুরোনো। এরশাদের মিলিটারি সরকারের তেলে জ্বলেছিল গ্রামীন ব্যাংকের বাতি, বহুবছর বাদে ক্রমে ক্রমে তিনি তার মালিক বনে গেছেন। বিস্ময়কর বৈকি। তারচেয়ে বিস্ময়কর রাজনীতি-সংক্রান্ত তার ধারণা। রাজনীতির প্রথম পাঠ সমঝোতা, politics is the art of negotiations; অথচ, এর প্রথম সিঁড়িও তাকে মাড়াতে হয়নি। অথচ, বহুবছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির সবচে উঁচু পদটির দিকে তার দৃষ্টি। ২০০৭ সালে ধরি ধরি করেও ধরা দেয়নি; এবার একেবারে হাতের মুঠোয়। তাই গদিতে বসে বিস্ময়বালকের মতো তিনি রাজনীতিবিদদের দিকে তাকাচ্ছেন। তার সেই চোখের চাহনি বোঝার ক্ষমতা আমাদের রাজনীতিবিদদের নাই, সেই পাঠই তো নাই। এমন গোঁয়ার-গোবিন্দের পক্ষে রাজনীতিতে সফল হওয়ার কোন চান্স নাই, সেটা বলে আসছি যেদিন তিনি গদিতে বসেন সেদিন থেকে; কেউ বুঝতে চায়নি।
ক্যালগেরি, কানাডা
