
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিরোধের আগাম প্রভাব অর্থনৈতিক উপাত্তে দৃশ্যমাণ হতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে এপ্রিলে কানাডার শ্রমবাজারে ফাঁটল দেখা গেছে।
অর্থনীতিবিদরা প্রত্যাশা করছেন, অনিশ্চিত বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে অর্থনীতির এই দুর্বলতা গ্রীষ্মজুড়ে বিদ্যমান থাকবে। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, এই অবস্থা ব্যাংক অব কানাডাকে সাইডলাইনে ঠেলে দেবে এবং জুনে সুদের হার কর্তনের দিকে নিয়ে যাবে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা শুক্রবার বলেছে, জাতীয়ভাবে এপ্রিলে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ হার দেখা গিয়েছিল নভেম্বরে।
বিএমওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডগ পর্টার শক্রবার ক্লায়েন্ট নোটে লেখেন, এপ্রিলের জন্য এটা প্রথম উল্লেখযোগ্য উপাত্ত এবং এতে দেখা যাচ্ছে যে, শুল্ক অর্থনীতিতে এরই মধ্যে কামড় দিতে শুরু করেছে।
কানাডার উৎপাদন খাত এপ্রিলে কর্মসংস্থান হ্রাসে নেতৃত্ব দিয়েছে। খাতটিতে এপ্রিলে কর্মসংস্থান কমেছে ৩১ হাজার। এ খাতে কর্মসংস্থান বেশি কমেছে অন্টারিওতে। পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় খাতও এপ্রিলে কর্মসংস্থান হারিয়েছে ২৭ হাজার।
সিইউএসএমএ চুক্তির আওতাবহির্ভুত কানাডিয়ান পণ্য আমদানিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মার্চ থেকে শুল্ক কার্যকর করার পর কর্মসংস্থানের ওপর এই আঘাত আসল। সেই সঙ্গে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ি আমদানির ওপর লেভি আরোপও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অন্টারিওর উইন্ডসরে গত মাসে বেকারত্বের হার ১ দশমিক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা।
আরবিসির প্রধান অর্থনীতিবিদ নাথান ইয়ানজেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্থানীয় উপাত্ত অস্থিতিশীল এবং কমিউনিটিগুলোতে দুর্বলতা দেখা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলেছে, এপ্রিলে ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি ৩ দশমিক ৪ সেন্ট বেড়েছে, যা আগের মাসের বৃদ্ধির চেয়ে কিছুটা কম। মার্চে ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছিল গড়ে ৩ দশমিক ৬ সেন্ট।
আরবিসির পূর্বাভাস বলছে, সামনের মাসগুলোতেও বেকারত্বের হার বাড়তে থাকবে এবং এই গ্রীষ্মের কোনো এক সময় তা ৭ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হবে।
