
বলেছিলে ভালোবাসা হলো সাত রঙের খেলা
পালেরমোর সেফালু’র সাগরপারে তোমার সাথে দেখা হবার কথা ছিল কাল।ছবিতে দেখা দূর্গের মত বাড়িঘর।সাগরপারের যে বেঞ্চটায় বসেছিলাম ,তারপাশেই স্ট্যান্ডে একটা সাইকেল রাখা।লাল সাইকেলটার পিছনের ক্যারিয়ারে একগোছা সূর্যমূখী।
সন্ধ্যানামার তখনো অনেক দেরী।কত মানুষ যে ছিল সেখানে।আমি চুপচাপ বসে মানুষ দেখছিলাম।ভাবছিলাম,তুমি ঈশান কোনের মেঘ ছাপিয়ে বৃষ্টির মত টুপটাপ আসবে কি?নাকি অস্ত যাওয়া সূর্য্যের আলোর রশ্মিতে আলো হয়ে ইলুউশনিস্ট মূভ্যির নায়ক এইসেনহেইম মত সামনে এসে দাঁড়াবে?
ভালোবাসা হলো ম্যাজিক।আর যারা ভালোবাসে তারা ম্যাজিশিয়ান।তুমিই বলেছিলে একথা।
বলেছিলে, ভালোবাসা হলো সাত রঙের খেলা।
বলেছিলে, তোমার কাছে ভালোবাসা হলো,জাম রঙের মত।কারণ,প্রথম যেদিন তোমার সাথে দেখা হয়েছিল, আমার পরণে ছিল জামরঙা ফুল ছাপানো এক কামিজ।
আমাদের ভালোবাসার দিনগুলোতে আমরা অনেক চিঠি লিখতাম।আমাদের দেখা হওয়া মানেই প্রতিদিন শেষ বিকালের একটা চিঠি।তোমার চিঠি মানে কত পাখির গল্প।গাছের গল্প।ফুলের গল্প।তোমার চিঠি মানে, শানু খালার গাওয়া রবীন্দ্র সংগীত।
মা বলতেন প্রার্থণায় সব হয়। আমি সে কথা মনের গভীরে গেঁথে রেখেছি।ধরো, একটা বিকালে সবাই যখন মাঠে গোল্লাছুট খেলায় মগ্ন।আমি বাড়ির পিছনের খোলা মাঠে রাখা গাছের গুড়িতে হেলান দিয়ে আকাশ দেখছি।মনে হচ্ছে আকাশ জুড়ে হেঁটে চলছে হাতির দল,একটা বড় হাতি তার শুঁড় বাড়িয়ে জল ছিটাচ্ছে।
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে খুব ইচ্ছে করতো তুমি আসো।আর আমরা একসাথে ভিজে ভিজে বৃষ্টির গান গাই।বৃষ্টিতে ছুটছি যখন বাড়ির দিকে, গলির মোরে পৌছাতেই,তুমি কোথা থেকে ছুটতে ছুটতে এসে হাতের মুঠোয় দিয়ে যেতে শেষ বিকালের চিঠি।
বিকালবেলা সেফালুর পুরাতন শহরের ইটবাঁধা রাস্তায় হাঁটছিলাম যখন, আমার ভাবনা জুড়ে সেই তুমি! তুমিময় ভাবনার অদ্ভুত শক্তি আছে জানো?
মনেহয়, তুমি পাশে আছো।মনেহয়, আমি চেনা গন্ধের মধ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছি।
মানুষের ভীড়ের কাছে উঁকি দিতেই দেখি, দূর থেকে তুমি আসছো।কাছে এসে, তোমার ঝোলানো ব্যাগ থেকে বের করে দিলে কতকিছু।ছোট্ট দুটো পাথরের হাতি।একটা ছোট্ট টেডী বিয়ার।একটা ডায়েরী,আরো কিছু টুকটাক জিনিস আর একটা ছেঁড়া টিকিট। Romagnano al Monte শহর এর।তুমি কি আজ সেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত শহর থেকে আসছো? যেখানে এই সভ্যতাতেও কোন বিদ্যুৎ নেই।বাড়িঘরগুলো শূন্য রেখে সবাই কোথায় চলে গেছে! কি করে থাকো জনমানবহীন সেইখানে? প্রশ্নটা করবো বলে পাশে তাকিয়ে দেখি,কোথায় তুমি?
পাশেই একটা ঝুলন্ত উইন্ডচাইমের দোকান।ভাবলাম টুংটাং প্রিয় শব্দের ভীরে বুঝি আছো! কত শত বাহারী উইন্ডচাইম সেই দোকানে! এই উইন্ডচাইমের ভীরে হারিয়ে আমার শুধু তোমাকে মনে পড়ে।মনেহয় তুমি শুধু সুরে সুরে ভেসে বেড়াচ্ছো ,আর আমি চোখ বুঁজে সুরের সেই মূর্ছণাতে ভেসে যাচ্ছি। ভেসে যাচ্ছি!
এভাবেই দেখা হতে হতেও আমাদের দেখা হয়না। তুমি ঘুমাতে যাবার সময় তোমার হাত আমার জন্য বাড়িয়ে রাখো,
আমি জানি সেই হাতের তালুতে চোখের পাপড়ি বিছিয়ে আছে তোমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা!
আমি মোমের পুতুল হয়ে গলে সরে যাই,
জানো তো ভালোবাসা মানে হলো একজন আর একজনকে সুখী দেখতে চাওয়া!
দুজন মানুষ দুজনকে সুখী দেখতে চাওয়া!
ভালোবাসা মানে শুধু দখলদারিত্ব বা পাওয়া না, ভালোবাসা মানে দূরভাসী নদীর মত একা ভাসা!
তুমুল ভালোবাসায় থেকো।
আমাদের দেখা হবে একদিন সোনালী দুপুর……..
তোমার মুমু
“তুমি কোন পথে যে এলে”
অটোয়া, কানাডা
