
ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার রিপোর্টার প্রধান উপদেষ্টার কোন কথা শুনে এরকম শিরোনাম দিয়ে রিপোর্ট করেছেন, আমার ধারণা নেই৷ বলতে দ্বিধা নেই, প্রধান উপদেষ্টা কি বলেছেন সেদিকে না গিয়েও বলতে পারি প্রধান উপদেষ্টা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস রক্ষা করতে চান না তো অবশ্যই। যা আছে তাও ধ্বংস করার ঘৃণ্য প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।
৫ আগস্টের পর বত্রিশ নাম্বার লুটপাট করা হলো। ঢাকা সহ যারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু ম্যুরাল ভাস্কর্য ছিল, বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল ভাস্কর্য, বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্য সবই ভেঙে দেওয়া হলো। এগুলো কি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস রক্ষার নমুনা!
চিরজীবনের জন্য বাঙালির কাপুরুষোচিত ঘৃণ্য অধ্যায় সংঘটিত হলো এই প্রধান উপদেষ্টার আমলেই : ঘোষণা দিয়ে বুলডোজারের ধারালো ধাতব ফলায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঐতিহাসিক বত্রিশ নাম্বার!
সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বার ঐতিহাসিক বাড়ি বুলডোজারের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা শুনেও কেন সেটা রক্ষা করার পদক্ষেপ নিলেন না, প্রশ্নের জবাবে বলেছেন পুলিশ নাকি ভয়ে বত্রিশ নাম্বার রক্ষা করতে যায়নি! তাহলে সেনাবাহিনী সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছিল! তারপর কেন ঢাকার বিজয় সরণির বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুঞ্জয়ী ভাস্কর্য ও ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয় পর্যন্ত স্মারক চিত্রের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া হলো! একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সরকার ঘোষণার মেহেরপুরের সেই ঐতিহাসিক বৈদ্যনাথতলার স্মারক ভাস্কর্যগুলো ভেঙে দেওয়া হলো কেন, কারণ ব্যাখ্যা করবেন, মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়? মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের স্মারক ভাস্কর্য কেন ভেঙে দেওয়া হলো, জবাব দেবেন?
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, আপনি কি বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতাদের অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের চেতনাকে মুছে দিতে উদ্যত হয়েছেন? এ পর্যন্ত আপনার সকল কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি তো তাই প্রমাণ করে!
কিন্তু আমার সাধারণ বোধবুদ্ধিতে এর কোন কারণ দেখিনা। অন্তত দীর্ঘ মেয়াদে এতে আপনার লাভ-ক্ষতির খতিয়ান অনুমান করে আমি আঁতকে উঠি! আপনি একজন নোবেলজয়ী বিশ্বখ্যাত সম্মানি ব্যক্তিত্ব। অথচ, আপনি এমন এক ভয়ংকর ও ঘৃণ্য রাজনীতির ধ্বংসযজ্ঞের কাজে নিজেকে স্থাপিত করছেন, যা না করলে আপনার ব্যক্তিগত ক্ষতি নেই। অথচ, বাঙালির কাছে চিরজীবনের জন্য একটি ঘৃণার অধ্যায় রচিত হচ্ছে আপনারই শাসনামলে!
বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অধিক জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা হতে চান? তা কোন জাতির জীবনে, কোন কালে, কোন মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়! কেননা, একাত্তরের মতো এমন মুক্তির আকাঙ্ক্ষার ঢেউ লাগেনি কোন মানবজাতির বুকে৷ আকাশ কাঁপিয়ে ডান হাতের তর্জনী তুলে আর কেউ বলতে পারেননি – আর…জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, এখনো সময় আছে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ধ্বংসযজ্ঞের সুস্পষ্টভাবে জবাব দিন।
সুস্পষ্টভাবে বলছি এগুলো কোন রাজনৈতিক দলের বা সরকার প্রধান বা শাসনের ব্যর্থতা সফলতার চিহ্ন নয়। এগুলো তিরিশ লক্ষ শহীদের, আবারও বলছি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হানীর ইতিহাসের শোকগাথা ও গৌরবময় জাতীয় ঐতিহ্যের সম্পদ। এগুলো ধ্বংস করার অধিকার কারো নেই। কারো নেই৷ কারো নেই! আপনাদেরকেও এই অধিকার কেউ দেয়নি!
সাবধান করে দিচ্ছি বারংবার, ইতিহাসকে ধ্বংস করবেন না। নিজেদেরকে ধ্বংস করবেন না। ভবিষ্যতে নিজেদেরকে জনরোষ থেকে রক্ষা পেতে জাতির কাছে এখনই ক্ষমা চেয়ে এগুলো পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিন। পুনরুদ্ধারের প্রকল্প হাতে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের রূপরেখা ও তফসিল ঘোষণা করুন।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
টরন্টো, কানাডা
