এথনিক কমিউনিটিকে আরও সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছেন কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পোইলিভরে

এবারের ফেডারেল নির্বাচনে দলটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পেছনে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন

কানাডার রাজনীতিতে দৃশ্যমান একটি পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভরে। এবারের ফেডারেল নির্বাচনে দলটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পেছনে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন।

২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি ৩৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪৪টি আসনে জয় লাভ করেছে, যা ২০১১ সালের পর তাদের সেরা ফলাফল। যদিও দলটি এখনও সরকার গঠন করতে পারেনি এবং লিবারেল পার্টি ১৬৮টি আসনে জয় পেয়ে আবারও সংখ্যালঘু সরকার গঠন করেছে, তবুও অনেক বিশ্লেষকের মতে, পলিয়েভের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রচারণা কৌশল কনজারভেটিভদের ভবিষ্যতের পথ সুগম করছে।

- Advertisement -

বিশেষ করে গ্রেটার টরন্টো এরিয়া তে দলটির উত্থান চোখে পড়ার মতো। এই অঞ্চলে কনজারভেটিভ পার্টির ভোট বেড়েছে গড়ে ২২ শতাংশ পয়েন্ট, যার বড় অংশ এসেছে দক্ষিণ এশীয়, চীনা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অভিবাসী ভোটারদের কাছ থেকে।

শুধু ভোট নয়, মনোনয়ন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০২১ সালে যেখানে দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ১৪.৮ শতাংশ ছিলেন দৃশ্যমান সংখ্যালঘু , ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০.১ শতাংশে। এবার মনোনীত ৩১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৬১ জনই এসেছেন ভিন্ন জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে।

পোইলিভরের জনপ্রিয়তা কেবল মধ্যবয়সী বা প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ্যাবাকাস ডাটা-এর এক জরিপ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী অভিবাসী তরুণদের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে, যেখানে লিবারেলদের সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ২৫ শতাংশে। ইহুদি ভোটারদের মধ্যেও কনজারভেটিভদের প্রতি আস্থা বেড়েছে ১৮ শতাংশ, যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পোইলিভরে তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক চাপ, হাউজিং সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং দুর্বল জনসেবা ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরছেন। তাঁর ভাষায়, “আপনারা কেবল ভোটার নন, আপনারাই কানাডার ভবিষ্যৎ, এবং আমাদের দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

এই বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি ব্যবহার করছেন বহুভাষিক প্রচারণা, জাতিগত উৎসব ও ধর্মীয় আয়োজনে অংশগ্রহণ, এবং স্থানীয় কমিউনিটি লিডারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের কৌশল। দক্ষিণ এশীয় অধ্যুষিত ব্র্যাম্পটনের এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, “আমি জানি আপনাদের সন্তানরা কীভাবে হাউজিং পাচ্ছে না, আপনারা ব্যবসার লাইসেন্সে জটিলতায় পড়ছেন, আমি এসেছি এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কনজারভেটিভ পার্টি এখন আর শুধুমাত্র রূরাল এবং ওয়েস্টার্ন ভোটের ওপর নির্ভর করছে না। তারা শহুরে, অভিবাসী এবং তরুণ ভোটারদের মূলধারায় আনতে সচেষ্ট। পলিয়েভের নেতৃত্বে এই কৌশলিক দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকলে, ২০২৯ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন আর অধরা নাও থাকতে পারে।

এথনিক কমিউনিটিগুলোর এই রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি যদি স্থায়ী রূপ পায়, তাহলে ভবিষ্যতের কানাডীয় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা হবে আরও দৃশ্যমান, আরও প্রভাবশালী এবং নীতি-নির্ধারণে কেন্দ্রীয়, এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

- Advertisement -

Read More

Recent