
কানাডার অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় শহর টরন্টোতে হেট-ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে শহরজুড়ে মোট ৪৪৩টি হেট-ক্রাইম রিপোর্ট করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
সবচেয়ে বেশি হামলার লক্ষ্য হয়েছেন ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা, রিপোর্ট অনুযায়ী, হেট-ক্রাইমের মোট ঘটনার প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল ইহুদিদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মুসলিম, কৃষ্ণাঙ্গ এবং LGBTQ2+ সম্প্রদায়ের সদস্যরাও বৈষম্যমূলক ভাষা, হুমকি ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এই ধরনের অপরাধ প্রধানত ঘটেছে ট্রানজিট ব্যবস্থা এবং পাবলিক প্লেসে, যেমন রাস্তা, পার্ক ও বাসস্টপে। তবে স্কুল, কলেজ এবং ব্যবসায়িক এলাকা থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগ এসেছে। শুধুমাত্র হেট-মোটিভেটেড অপরাধের জন্য দায়ের করা মামলার সংখ্যাও বেড়েছে ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের শুরু থেকে পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত রিপোর্ট হওয়া হেট-ক্রাইমের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ কমেছে। তা সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
পুলিশ বিভাগ হেট-ক্রাইম ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি চালু করেছে। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপর নির্ভর করে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। সামাজিক বিভাজন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ এসব অপরাধ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। কানাডার মতো বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজে সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চর্চাই হেট-ক্রাইম মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।
