কানাডায় এথনিক মিডিয়া অস্তিত্ব সংকটে: বহুসংস্কৃতির কণ্ঠস্বর আজ হুমকির মুখে

সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে কানাডায় বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি এথনিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেমন প্রিন্ট টেলিভিশন রেডিও ও অনলাইন মিলিয়ে

কানাডায় এথনিক বা জাতিগত সম্প্রদায়ভিত্তিক গণমাধ্যম এক গভীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বহুসংস্কৃতির দেশ হিসেবে কানাডায় এই গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অনীহা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের জেরে এই খাতটি এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, কানাডায় বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি এথনিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেমন প্রিন্ট, টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন মিলিয়ে। এরা ৬০টিরও বেশি ভাষায় সংবাদ ও তথ্য সম্প্রচার করে থাকে। এর মধ্যে বাংলা, পাঞ্জাবি, চায়নিজ, ফার্সি, তামিল, আরবি, স্প্যানিশ ও আফ্রিকান ভাষাভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

- Advertisement -

তবে গত এক দশকে এসব প্ল্যাটফর্মের বড় অংশ বিজ্ঞাপন আয়ের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বা কেবল সীমিত অনলাইন উপস্থিতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। ছোট ছোট এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত বিজ্ঞাপন নির্ভর হলেও, সরকারি ও করপোরেট বিজ্ঞাপন মূলধারার ইংরেজি-ফরাসি মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

একাধিক কমিউনিটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও মালিকরা জানান, তাদের স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর প্রভাব থাকলেও সরকারি ফান্ডিং বা নীতিগত স্বীকৃতি মেলেনি। অনেকে কানাডার অনলাইন নিউজ অ্যাক্ট অনুযায়ী সরকারি অর্থায়নের জন্য আবেদন করলেও, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছেন।

প্রযুক্তিগত রূপান্তরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ছোট আকারের কমিউনিটি পত্রিকা, রেডিও বা টেলিভিশন চ্যানেল আধুনিক সফটওয়্যার, ডিজিটাল মার্কেটিং বা ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের খরচ বহন করতে পারছে না। ফলে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে তাদের সংযোগ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে, যাদের আগ্রহ এখন ইউটিউব, ফেসবুক বা টিকটকের মতো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে।

এই সংকটের কারণে বহু সংবাদমাধ্যম কর্মী ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। যে ক’টি এখনো চালু রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই চলছে স্বেচ্ছাশ্রম, পার্ট-টাইম স্টাফ এবং কমিউনিটি অনুদানের ওপর ভর করে।

এথনিক মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা শুধু খবর পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এরা তুলে আনে অভিবাসীদের সংগ্রাম, ভাষাগত বাধা, সংস্কৃতির সংরক্ষণ, ধর্মীয় নিপীড়ন ও বর্ণবৈষম্যের মতো বিষয়গুলো যেগুলো মূলধারার মিডিয়ায় প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এথনিক মিডিয়ার অস্তিত্ব রক্ষা কেবল একটি শিল্পখাত টিকিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের সুরক্ষা। কানাডার বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থাকে সচল রাখতে হলে এই গণমাধ্যমগুলোকে আর্থিক সহায়তা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নীতিগত স্বীকৃতি দিতে হবে।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন এথনিক মিডিয়ার পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই। নইলে কানাডার বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent