
কানাডার সবচেয়ে বড় শহর টরন্টোকে প্রায়ই বলা হয় দেশের ‘অপরাধের রাজধানী’। ২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে, শহরটিতে অপরাধের সংখ্যা দেশের যেকোনো শহরের তুলনায় বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চিত্র অনেকাংশেই জনসংখ্যার ঘনত্ব, উন্নত রিপোর্টিং ব্যবস্থা এবং নগরজীবনের জটিলতার ফল।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর টরন্টোতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার ছিল চুরি ও ডাকাতি, ৫০ হাজার গাড়ি চুরি ও ভাঙচুর, ৪০ হাজার প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ এবং ২০ হাজার সহিংস অপরাধ। একই সময়ে মন্ট্রিয়লে নথিভুক্ত অপরাধের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার এবং ভ্যাঙ্কুভারে ১ লাখ ১০ হাজার।
তবে জনসংখ্যার অনুপাতে টরন্টোর অপরাধের হার তুলনামূলকভাবে কম। প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে এখানে প্রায় ৯০০টি অপরাধ ঘটে, যেখানে মন্ট্রিয়লে এ হার ১,০২০ এবং ভ্যাঙ্কুভারে ১,১৫০। অর্থাৎ মোট সংখ্যায় টরন্টো শীর্ষে থাকলেও প্রতি ব্যক্তির হিসেবে ঝুঁকি কিছুটা কম।
২০২৪ সালে টরন্টোতে গাড়ি চুরি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এক বছরে ১২ হাজারের বেশি গাড়ি চুরি হয়েছে, যা কানাডার মোট গাড়ি চুরির প্রায় ৩০ শতাংশ। উত্তর ইয়র্ক, স্কারবোরো ও ইটোবিকো এলাকায় এসব অপরাধ বেশি ঘটেছে। পাশাপাশি সহিংস অপরাধও বেড়েছে ১৫ শতাংশ। শুধুমাত্র বন্দুক ব্যবহৃত হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫০, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
অর্থনীতির চাপও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কানাডিয়ান সেন্টার ফর জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক্স জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে চুরি, প্রতারণা এবং গাড়ি চুরির ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠিত অপরাধচক্র এসব অপরাধে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং চুরি হওয়া অনেক গাড়িই বিদেশে পাচার হচ্ছে।
টরন্টো পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, গাড়ি চুরি ও সহিংস অপরাধ দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে ৪০০-র বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন করে ৫,০০০ নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টরন্টোর অপরাধের মূল কারণ হলো জনসংখ্যা ও বিস্তৃত রিপোর্টিং ব্যবস্থা। তবে গাড়ি চুরি, সাইবার প্রতারণা ও সহিংস অপরাধ নাগরিক নিরাপত্তার জন্য এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়। তাদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ হ্রাস ও সংগঠিত অপরাধচক্র দমন করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
