
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সাস্কাচওয়ান প্রদেশের ক্যানোলা রপ্তানি সংকট নিরসনে চীনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথে হাঁটলেন। সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এবং অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের কারণে ক্যানাডিয়ান ক্যানোলা রপ্তানি কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় তিনি চীনে একজন সংসদ সদস্যকে বিশেষ দূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ক্যানোলা কানাডার সবচেয়ে বড় কৃষিজ রপ্তানি পণ্য। এর প্রায় ৮০ শতাংশ রপ্তানি হয় চীনা বাজারে, যার বার্ষিক আর্থিক মূল্য পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। কৃষিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানোলা শুধু কৃষক বা চাষির আয়ের উৎস নয়, পরিবহন খাত, প্রক্রিয়াজাত শিল্প, এমনকি কৃষিযন্ত্র নির্মাতারাও এ খাতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সুতরাং চীনের বাজারে প্রবেশাধিকারে বাধা সৃষ্টি হলে গোটা সাস্কাচওয়ান প্রদেশের অর্থনীতিই কেঁপে ওঠে।
চীনের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর ধরেই অস্থির। বিশেষ করে কৃষিপণ্যে নানা রকম শুল্ক ও কারিগরি প্রতিবন্ধকতা আরোপ করে আসছে বেইজিং। কানাডার ক্যানোলা রপ্তানিকারীরা বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন সরকার কেবল অভ্যন্তরীণ ভর্তুকি দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারবে না; বরং সরাসরি কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অবশেষে সেই দাবির প্রতিফলন ঘটল প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি ঘোষণা করেছেন, শুধু ক্যানোলা নয়, আন্তর্জাতিক শুল্কনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিল শিল্পকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি একটি দ্বৈত কৌশল একদিকে চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারের সঙ্গে আলোচনায় বসে কৃষক ও শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা, অন্যদিকে দেশের ভেতরে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সরাসরি প্রণোদনার মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কার্নির এই পদক্ষেপ কেবল সাস্কাচওয়ান নয়, বরং সমগ্র কানাডার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্যানোলা সংকট সমাধান হলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবহন, শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য–সম্পর্কিত আরও বহু খাতে। তাছাড়া, চীনের বাজার পুনরুদ্ধার করা গেলে কানাডার কূটনৈতিক অবস্থানও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নির উদ্যোগকে অনেকেই সাহসী ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিচ্ছেন। কৃষকরা আশা করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত চীনা শুল্ক ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং আবারও ক্যানাডার ক্যানোলা বীজ চীনের বাজারে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারবে। একই সঙ্গে শিল্পপতিরা আশাবাদী, সরকার ঘোষিত আর্থিক সহায়তা বাস্তবায়িত হলে অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিল খাতও ঘুরে দাঁড়াবে।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তকে কানাডার অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
