
টাইপ-টু ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে প্রথমবারের মতো ওজেম্পিক ইনজেকশনের অনুমোদন দিয়েছে হেলথ কানাডা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত ডায়াবেটিস আক্রান্ত লাখো রোগীর জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশই কোনো না কোনো মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে ভোগেন। এসব ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনির কার্যক্ষমতা এতটাই হ্রাস পায় যে শেষ পর্যন্ত ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি রোগের এই বাড়তি ঝুঁকি রোগীদের মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ফেলে এবং জীবনযাত্রার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত বৃহৎ ক্লিনিক্যাল গবেষণা “ফ্লো ট্রায়াল”-এ দেখা গেছে, যেসব রোগী নিয়মিত ওজেম্পিক ইনজেকশন নিয়েছেন তাদের কিডনি জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ কমেছে। শুধু তাই নয়, এ ওষুধ ব্যবহারকারীদের হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদ্রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি।
এই গবেষণা ডেনমার্কভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক-এর অর্থায়নে পরিচালিত হয় এবং ফলাফল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। হেলথ কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গবেষণার এসব ফলাফলই নতুন অনুমোদনের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের নেফ্রোলজিস্ট ও গবেষণার কানাডিয়ান অংশের প্রধান ডা. ডেভিড চার্নি বলেন, “এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে ডায়ালাইসিস শুরু হওয়ার আগেই কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আমার রোগীরা সব সময় ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের ভয় নিয়ে থাকেন। নতুন চিকিৎসা সেই আতঙ্ক অনেকটাই দূর করবে।”
তিনি আরও জানান, রোগীরা যখন জানবেন তাদের ঝুঁকি কমে গেছে, তখন তাদের মানসিক চাপও হ্রাস পাবে, যা জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
ওজেম্পিক মূলত একটি ইনজেকশনযোগ্য ওষুধ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি এটি ক্ষুধা দমন করে, ফলে অতিরিক্ত ওজন কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্থূলতা চিকিৎসার জন্যও ওষুধটি ইতিমধ্যে আলাদা ব্র্যান্ড নামে অনুমোদন পেয়েছে।
এবার নতুন অনুমোদনের মাধ্যমে এটি একসঙ্গে দুই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে ১) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং ২) কিডনি জটিলতা প্রতিরোধে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অনুমোদন শুধু ব্যক্তিগত জীবনমান উন্নত করবে না, বরং দেশের স্বাস্থ্যব্যয়ও দীর্ঘমেয়াদে কমাবে। কিডনি প্রতিস্থাপন বা ডায়ালাইসিসের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাওয়ায় কানাডার স্বাস্থ্য খরচ কমে আসবে।
চিকিৎসক মহলের অভিমত, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগের দ্বৈত ঝুঁকি মোকাবিলায় ওজেম্পিক হবে এক গেম-চেঞ্জার। এ অনুমোদন রোগীদের শুধু শারীরিক সুরক্ষা নয়, মানসিক স্বস্তিও দেবে যা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
