রিজেন্ট পার্কে লুইস মার্চ পার্ক – মানবতার এক অনন্য স্বীকৃতি

রবিবার বিকেলে আয়োজিত উৎসবমুখর এক অনুষ্ঠানে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ স্থানীয় কাউন্সিলর ক্রিস ময়েজ লুইস মার্চের পরিবারের সদস্য এবং রিজেন্ট পার্ক মাদারস অব পিস সংগঠনের প্রতিনিধিরা পার্কের নতুন নামফলক উন্মোচন করেন

টরন্টোর রিজেন্ট পার্কের হৃদয়ে থাকা এক টুকরো সবুজ জমি আজ হয়ে উঠেছে ইতিহাসের সাক্ষী। ছোট হলেও অর্থবহ এই গ্রিনস্পেসটির নাম এখন “লুইস মার্চ পার্ক” অস্ত্র সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী লুইস মার্চের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে টরন্টো সিটি এই নামকরণ করেছে।

রবিবার বিকেলে আয়োজিত উৎসবমুখর এক অনুষ্ঠানে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ, স্থানীয় কাউন্সিলর ক্রিস ময়েজ, লুইস মার্চের পরিবারের সদস্য এবং “রিজেন্ট পার্ক মাদারস অব পিস” সংগঠনের প্রতিনিধিরা পার্কের নতুন নামফলক উন্মোচন করেন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, তরুণ প্রজন্মের সদস্য, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শ্রদ্ধা, আবেগ ও আশার মিশ্রণ একজন মানুষ কীভাবে সমাজের চেহারা বদলে দিতে পারেন, সেটিই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই মুহূর্ত।

- Advertisement -

৪৮৫ শাটার স্ট্রিটে অবস্থিত ১.২ একর আয়তনের এই পার্কটি আগে পরিচিত ছিল “সুমাক–শাটার পার্কেট” নামে। আজ থেকে সেটিই হয়ে গেল “লুইস মার্চ পার্ক” এক নাম, যা শুধু একটি স্থান নয়, বরং টরন্টোর সামাজিক ন্যায়ের ইতিহাসে এক অনন্ত প্রতীক হয়ে রইল।

লুইস মার্চ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৫ সালের ১ আগস্ট। দীর্ঘদিনের স্কারবোরো অধিবাসী এই মানুষটি বিশ্বাস করতেন “প্রত্যেক মানুষ, তার পোস্টাল কোড, বর্ণ, শ্রেণি বা পেশা যাই হোক না কেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার রাখে।”

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “জিরো গান ভায়োলেন্স মুভমেন্ট” একটি সামাজিক আন্দোলন যা অস্ত্র সহিংসতার মূল কারণ খুঁজে তা নির্মূলের লক্ষ্যে কাজ করে। ২০১৩ সালের জুনে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি প্রথমে ৯০ দিনের প্রচারণা হিসেবে শুরু হলেও তা দ্রুতই রূপ নেয় এক দীর্ঘমেয়াদি মানবিক অভিযানে।

গত এক দশকে লুইস মার্চ টরন্টো ও গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার বিভিন্ন কমিউনিটিতে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে কাজ করেছেন। স্কুল, যুবকেন্দ্র ও কমিউনিটি হলে বক্তৃতা দিয়েছেন; অস্ত্র সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন; এবং সমাজে আশা, সহমর্মিতা ও পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তার প্রচেষ্টায় অনুপ্রাণিত হয়ে বহু তরুণ জীবনের দিশা বদলেছে কারও হাতে থাকা অস্ত্র জায়গা করে দিয়েছে কলমে, কেউ ফিরে পেয়েছে জীবনের প্রতি আস্থা।

টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে “লুইস মার্চের জীবন ও কাজ এই শহরের প্রান্তিক কমিউনিটির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার প্রতীক। তিনি শুধু অস্ত্র সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করেননি, বরং সমাজে সংলাপ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলেন।”

স্থানীয় কাউন্সিলর ক্রিস ময়েজ বলেন, “লুইস মার্চ দেখিয়েছেন, পরিবর্তন শুরু হয় এক ছোট পদক্ষেপ থেকেই। তাঁর সাহস ও মানবিকতার গল্প আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”

আজ যখন “লুইস মার্চ পার্ক” নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে টরন্টোর মানচিত্রে জায়গা পেল, এটি হয়ে উঠল শুধু একটি পার্ক নয় বরং আশার প্রতীক, শান্তির প্রতিজ্ঞা এবং এক মানুষের অবিচল সামাজিক দায়বদ্ধতার জীবন্ত দলিল।

এই নাম ভবিষ্যতের তরুণদের মনে করিয়ে দেবে একজন মানুষের দৃঢ় সংকল্প ও ন্যায়বোধ কতটা শক্তিশালী হতে পারে। লুইস মার্চ দেখিয়েছেন, একজন মানুষও যদি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে এবং তা বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়, তবে পুরো শহরের চেহারাই বদলে যেতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent