সাইবার হামলায় ১৮.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির দায়ে হ্যামিল্টন সিটি, বিমা অস্বীকৃতিতে করদাতাদের মাথাব্যথা

হ্যামিল্টনের মেয়র আন্দ্রিয়া হরওয়াথ

২০২৪ সালের ভয়াবহ সাইবার হামলার ক্ষতি এখন সরাসরি বহন করতে হচ্ছে অন্টারিওর হ্যামিল্টন নগরবাসীকে। বিমা কোম্পানি দাবি প্রত্যাখ্যান করায় ১৮.৩ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বিলের ভার পড়ছে শহরের করদাতাদের ওপর।

বুধবার অনুষ্ঠিত সিটি কাউন্সিলের সাধারণ বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণের আবেদন বাতিল করেছে কারণ সাইবার হামলার সময় নগর প্রশাসনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় বহুস্তর যাচাই (মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) পুরোপুরি কার্যকর ছিল না। সিটি প্রশাসনের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—যদি এই নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে, তবে কোনো সাইবার ক্ষতির ক্ষেত্রে বিমা কাভারেজ কার্যকর হবে না। এই ঘাটতিই এখন নগরীর আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -

হ্যামিল্টনের মেয়র আন্দ্রিয়া হরওয়াথ বলেন, “আমরা নাগরিকদের হতাশা বুঝতে পারছি। এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, এটি নগর ব্যবস্থাপনার একটি গভীর সতর্কবার্তা। আমাদের সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য করতে হবে। এই হামলা প্রমাণ করেছে, আমরা সেই প্রস্তুতিতে পিছিয়ে ছিলাম।”

২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হ্যামিল্টন সিটির নেটওয়ার্কে বিশাল সাইবার হামলা চালানো হয়, যা প্রায় ৮০ শতাংশ সিস্টেম অকেজো করে দেয়। এই হামলার ফলে বিজনেস লাইসেন্স ইস্যু, সম্পত্তি কর সংগ্রহ, গণপরিবহন পরিকল্পনা, ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া এবং নগরীর আর্থিক সেবা প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকে।

প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত জটিল র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণ, যা বাহ্যিক ইন্টারনেট-ফেসিং সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। হ্যাকাররা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ডেটা এনক্রিপ্ট করে এবং সেটি মুক্ত করার বিনিময়ে দাবি করে ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার মুক্তিপণ। তবে সিটি প্রশাসন মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, কারণ তারা অপরাধীদের সঙ্গে কোনো আর্থিক সমঝোতা করতে রাজি হয়নি।

ফলে সাইবার হামলার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে নগর প্রশাসনকে নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করতে হয়, যার পরিমাণ এখন ১৮.৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই অর্থের মধ্যে রয়েছে ডেটা পুনরুদ্ধার, সিস্টেম পুনর্গঠন, নিরাপত্তা জোরদার, এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন খরচ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যামিল্টনের এই ঘটনা কানাডার স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত। সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে। অনেক ছোট ও মাঝারি শহর এখনও পুরনো সিস্টেমে নির্ভর করছে, যেখানে নিরাপত্তা আপডেট বা বহুস্তর যাচাই পদ্ধতি নেই।

প্রাদেশিক পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. লরেন্স কার্টার বলেন, “হ্যামিল্টনের মতো একটি শহরে যদি এই মাত্রার আক্রমণ ঘটে, তাহলে বোঝা যায়—দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে। আজ এটি হ্যামিল্টন, কাল হতে পারে অন্য কোনো নগরী।”

এদিকে স্থানীয় করদাতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক অবহেলার কারণে এখন নাগরিকদের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় হচ্ছে এমন এক সমস্যার সমাধানে, যা আগে থেকেই প্রতিরোধ করা যেত। নাগরিকরা স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি তুলেছেন।

বর্তমানে হ্যামিল্টন সিটি নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গঠন করছে এবং ভবিষ্যতে সব বিভাগে বাধ্যতামূলক বহুস্তর যাচাই ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, সাইবার হামলার ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এর ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জোরদার হচ্ছে।

অর্থাৎ, এক বছরেরও বেশি সময় পরেও ২০২৪ সালের সেই সাইবার হামলার ক্ষত এখনো হ্যামিল্টনবাসীর জীবনে বাজে প্রভাব ফেলছে। নগর প্রশাসনের প্রযুক্তিগত ঘাটতি ও বিমা জটিলতার কারণে যে ভারী আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা শহরের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে গভীর দাগ ফেলবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent