
অন্টারিও প্রাদেশিক সরকারের অফিসে ফেরার নির্দেশের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুইন’স পার্কের বাইরে শত শত সরকারি কর্মচারী বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের দাবি কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া রিমোট ওয়ার্ক ও হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল এখনও কার্যকর ও ফলপ্রসূ, তাই সরকারকে জোরপূর্বক অফিসে ফেরার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
দুপুরের বিরতির সময় বিক্ষোভকারীরা অন্টারিও পুলিশ মেমোরিয়াল পার্কে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও পতাকা, যেখানে বড় অক্ষরে লেখা ছিল“Remote Work Works।” কর্মীরা একসঙ্গে স্লোগান দেন, “Our work matters, trust us where we work!” অর্থাৎ ‘আমাদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ, আমরা যেখানে কাজ করি, সেখানে আমাদের বিশ্বাস করুন।’
প্রাদেশিক সরকার গত আগস্টে ঘোষণা দেয়, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে সব সরকারি কর্মচারীকে অন্তত পাঁচদিন অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ রিমোট ও হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রেজারি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট কারোলাইন মালরোনি সেই সময় বলেন, “এই পদক্ষেপ অন্টারিওর শ্রমবাজারের বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন।” তবে কর্মীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত “বাস্তবতা বিবর্জিত” ও “মানবিক দিক উপেক্ষিত”।
এএমএপিসিইও (AMAPCEO) অন্টারিওর প্রাদেশিক সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী বৃহত্তম ইউনিয়ন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডেভ বালমার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “বিশ্ব বদলে গেছে। কাজের ধরন, প্রযুক্তি, কর্মসংস্কৃতি সবই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। যদি প্রিমিয়ার সত্যিই অন্টারিওর উন্নয়ন ও সুরক্ষা চান, তবে তার প্রথম দায়িত্ব হবে কর্মীদের প্রতি আস্থা প্রদর্শন করা তাদের প্রতি নয় যারা কখনোই জনগণকে ছেড়ে যাননি।”
এএমএপিসিইও প্রায় ১৪,০০০ সরকারি কর্মীর প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের মধ্যে প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও পেশাজীবী সব ধরনের কর্মীই রয়েছেন।
কেবল সরকারি খাত নয়, কানাডার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে অফিসে ফেরার নীতি গ্রহণ করছে। দেশের প্রধান চারটি ব্যাংক ইতিমধ্যে কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা ঘোষণা করেছে। অন্টারিও সরকারের পর ব্র্যাম্পটন, অটোয়াসহ বিভিন্ন মিউনিসিপাল প্রশাসনও একই পথে হাঁটছে।
২০২০ সালে মহামারির সময় হঠাৎ করেই সরকারি অফিসগুলো রিমোট ওয়ার্ক মডেলে চলে যায়। পরের বছর থেকেই শুরু হয় হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল, যা অনেকের মতে “উৎপাদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও সময়-সাশ্রয়ী।” এএমএপিসিইওর জরিপে দেখা গেছে, হাইব্রিড ব্যবস্থায় কর্মীদের কাজের দক্ষতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। তবে সরকারের যুক্তি “দলগত সংযোগ, সমন্বয় ও জনসেবার মান” বাড়াতে অফিসে উপস্থিতি প্রয়োজন।
কুইন’স পার্কের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার অন্টারিওর বিভিন্ন শহরেও ছোট ছোট সমাবেশ হয়। গুয়েল্ফ, কিংস্টন, ওশোয়া, পিটারবোরো, সেন্ট ক্যাথারিন্স ও সাডবারি শহরেও সরকারি কর্মীরা রাস্তায় নামেন। তারা ব্যানারে লেখেন “Work-life balance is not negotiable” এবং “Don’t drag us back to 2019!”
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্টারিও সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে পারে, তবে এটি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও চাকরি ত্যাগের প্রবণতাও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে অফিস মানেই ডেস্ক নয় এ ধারণা এখন বিশ্বব্যাপী গৃহীত। তাই একবিংশ শতাব্দীর কর্মসংস্কৃতি বুঝতে সরকারগুলোর আরও নমনীয় নীতি নেওয়া প্রয়োজন।
অন্টারিও সরকারের অফিসে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়তো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে যৌক্তিক, কিন্তু মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিতর্কিত। কুইন’স পার্কের বিক্ষোভ দেখিয়ে দিয়েছে রিমোট ওয়ার্ক শুধু একটি সুবিধা নয়, এটি এখন আধুনিক কর্মজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
