অন্টারিওতে গ্যাসের দাম কমল

অন্টারিওজুড়ে চালকরা বৃহস্পতিবার থেকে পাম্পগুলোতে লক্ষণীয় স্বস্তি পাচ্ছেন

অন্টারিও প্রদেশজুড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্যাসের দামে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য পতন। লিটারপ্রতি গ্যাসের দাম কমেছে পুরো ১০ সেন্ট, যা দীর্ঘদিন পর চালকদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। এই মূল্যহ্রাসের কারণে প্রদেশজুড়ে গ্যাস স্টেশনগুলোতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যস্ততা বেড়েছে।

গ্যাস মূল্যের এই পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কানাডিয়ান্স ফর অ্যাফোর্ডেবল এনার্জির প্রেসিডেন্ট ড্যান ম্যাকটিগ। তিনি আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, যারা গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে চান, তারা যদি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তবে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় করবেন।

- Advertisement -

বুধবার পর্যন্ত অন্টারিওতে গ্যাসের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১৪৩.৯ সেন্ট। বৃহস্পতিবার সেই দাম নেমে এসেছে ১৩৩.৯ সেন্টে, যা ঠিক ১০ সেন্ট কম। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যেসব চালক একবারে ৫০ থেকে ৬০ লিটার গ্যাস ভরেন, তারা এবার ৬ থেকে ৭ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন।

ম্যাকটিগ জানিয়েছেন, এই দামের পতনের পেছনে রয়েছে একটি মৌসুমি পরিবর্তন গ্রীষ্মকালীন গ্যাস থেকে শীতকালীন গ্যাসে রূপান্তর। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বছরে দুইবার এই পরিবর্তন ঘটে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে।

গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকায় গ্যাসোলিন সহজে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। তাই পরিশোধন কোম্পানিগুলোকে এতে অ্যালকাইলাইট নামক উপাদান মিশাতে হয়, যা দামে বেশি। এর ফলে গ্রীষ্মে গ্যাস উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু শীতে এই বাড়তি অ্যালকাইলাইটের প্রয়োজন পড়ে না। তার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় বিউটেন, যা অনেক সস্তা। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যায় এবং তার প্রভাব পড়ে খুচরা দামে অর্থাৎ, গ্যাসের দাম নিচে নেমে আসে।

ম্যাকটিগ চালকদের সতর্ক করে বলেন, “আমি কখনোই সকালে বা বিকালে গ্যাসোলিন কিনি না।” তার মতে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে গ্যাস স্টেশনে গেলে সর্বোচ্চ সাশ্রয় পাওয়া যায়। কারণ, ওই সময় স্টেশনগুলো সাধারণত তাদের মুনাফার মার্জিন কিছুটা কমিয়ে রাখে, যাতে বেশি ক্রেতা আসে। কিন্তু সকালে দাম আবার বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে অনেক স্টেশনে গ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ১২৭.৯ সেন্টে নেমে আসতে পারে। তবে বাজারে যদি নতুন কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে শুক্রবার সকালে আবার দাম বাড়তে পারে, যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৩৩.৯ সেন্টে।

গ্যাস নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সময় বেছে নেওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত।

সপ্তাহান্তে বা সকালবেলায় গ্যাস ভরার অভ্যাস পরিবর্তন করলে মাস শেষে ভালো সাশ্রয় পাওয়া সম্ভব।

গ্রীষ্ম থেকে শীতের রূপান্তরকালে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) দাম কমে এই সময়টিকে সাশ্রয়ের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে প্রায় সবকিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে গ্যাসের দামে এই পতন অন্টারিওর সাধারণ চালকদের জন্য নিঃসন্দেহে একটুখানি স্বস্তি এনে দিয়েছে। যদিও এই মূল্যহ্রাস মৌসুমি এবং অস্থায়ী, তবুও অনেকের জন্য এটি আর্থিকভাবে কিছুটা সহায়ক প্রমাণিত হবে।

- Advertisement -

Read More

Recent