
কানাডার ফেডারেল সরকার জানিয়েছে যে অনলাইন স্ট্রিমিং আইনের (Online Streaming Act) প্রাইভেসি সম্পর্কিত ধারা দুর্ঘটনাক্রমে বিল থেকে মুছে গেছে। বিষয়টি এখন তারা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে বলে হেরিটেজ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ সপ্তাহের শুরুতে ইউনিভার্সিটি অব অটোয়ার আইন বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল গেস্ট তাঁর এক ব্লগ পোস্টে বিষয়টি প্রথম তুলে ধরেন। গেস্টের মতে, আইনটি কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই মাস পরই এর গুরুত্বপূর্ণ প্রাইভেসি ধারা রহস্যজনকভাবে বিল থেকে বাদ পড়ে গেছে। তিনি বলেন, “এটা নিশ্চিতভাবেই সরকারের দিক থেকে একটা ভুল। প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টা এত গুরুত্বপূর্ণ যে, এমন ভুল হওয়া একেবারেই উচিত নয়। এটি যত দ্রুত সম্ভব ঠিক করতে হবে।”
ফেডারেল সরকারের হেরিটেজ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এটি ইচ্ছাকৃত কোনো পরিবর্তন নয় বরং “সমন্বিত সংশোধনী প্রক্রিয়ার সময় ঘটে যাওয়া একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।” বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং কীভাবে এই ত্রুটি ঘটেছে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
২০২৩ সালের এপ্রিলে অনলাইন স্ট্রিমিং বিল আইন হিসেবে পাস হয়। এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল নেটফ্লিক্স, ডিজনি+, ইউটিউবসহ অন্যান্য অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে কানাডার প্রচলিত ব্রডকাস্টিং আইন-এর আওতায় আনা।
তবে দশ মাস পর, সরকার যখন সরকারি ভাষা বিল (Official Languages Bill) পাস করে, তখন সেই আইনের একটি ধারা ভাষা-সংক্রান্ত সংশোধনের জন্য স্ট্রিমিং আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায়, সেই প্রক্রিয়ায় স্ট্রিমিং আইনের প্রাইভেসি সংক্রান্ত ধারা ভুলক্রমে প্রতিস্থাপিত হয়ে যায় সরকারি ভাষা বিলের সংশ্লিষ্ট ধারায়। ফলে গোপনীয়তা রক্ষার সংক্রান্ত মূল প্রভিশনটি কার্যত মুছে যায়।
প্রাইভেসি ধারা যুক্ত হয়েছিল সেনেটর জুলি মিভিল-ডেশেন-এর প্রস্তাবের মাধ্যমে। তিনি ফেডারেল প্রাইভেসি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সংশোধনী উত্থাপন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল “অনলাইন স্ট্রিমিং আইন এমনভাবে প্রয়োগ করা হবে যাতে তা ব্যক্তির গোপনীয়তা অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।”
মিভিল-ডেশেন বলেছেন, “এই ধরনের ভুল অত্যন্ত হতাশাজনক এবং বিস্ময়কর। আমি ভেবেছিলাম এত স্তরের যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে আইনটি যাবে যে এ ধরনের ভুল হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই ভুলটা কত দ্রুত ঠিক করা যায়।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভুলটি শুধুই প্রশাসনিক নয় এর প্রভাব পড়তে পারে কানাডার নাগরিকদের ডিজিটাল গোপনীয়তা অধিকারেও। মাইকেল গেস্টের ভাষায়, “যদি প্রাইভেসি ধারা বিল থেকে বাদ পড়ে থাকে, তাহলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আইন পাসের পর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হারিয়ে যাওয়া সরকারী নজরদারির দুর্বলতা নির্দেশ করে। এটি দ্রুত সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।”
ফেডারেল সরকার এখন বিষয়টি তদন্ত করছে এবং সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। তবে এ ঘটনার পর কানাডার আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইভেসি সম্পর্কিত ধারাটি দ্রুত পুনর্বহাল না করা হলে কানাডার ডিজিটাল নীতিমালার প্রতি নাগরিকদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
