
২৫০ কোটি ডলারের দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রকল্প বাছাই ও অর্থ বরাদ্দে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অডিটর জেনারেল শেলি স্পেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনির কার্যালয় প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল এবং একাধিক ক্ষেত্রে কোনো কারণ নথিভুক্ত না করেই আমলাদের সুপারিশকে উপেক্ষা করে অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল (Skills Development Fund) থেকে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও কর্মী ধরে রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু যে প্রকল্পগুলোকে মন্ত্রীর কার্যালয় বরাদ্দের জন্য অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার অর্ধেকের বেশিকে আমলারা মূল্যায়ন করেছিলেন – দুর্বল (Weak), নিম্ন (Low) অথবা, মধ্যম (Medium) মানের বলে। তবুও প্রথম পাঁচ ধাপে এসব প্রকল্পই পেয়েছে ৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলার।
এক সংবাদ সম্মেলনে অডিটর জেনারেল স্পেন্স বলেন “এটা গুরুতর সমস্যা। আমরা কর্মীদের জিজ্ঞেস করেছি কেন এই প্রকল্পগুলো বেছে নেওয়া হলো। তারা যদি মানদণ্ড বুঝতে না পারেন তাহলে প্রশ্ন আসে কীভাবে মন্ত্রীর কার্যালয় সিদ্ধান্ত নিল?” তিনি আরও জানান, অন্তত ৬৪টি নিম্ন বা মধ্যম মানের প্রকল্প বরাদ্দ পেয়েছে, এবং লক্ষণীয়ভাবে এসব প্রকল্পই নিবন্ধিত লবিস্টদের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছিল। এতে তহবিল বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে।
এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলিস পুরো ঘটনাকে বৈষম্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন – “করদাতাদের অর্থকে সরকার যখন নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করে, তার চেয়ে উদ্বেগজনক কিছু হতে পারে না। জনগণের আস্থার স্পষ্ট অপব্যবহার হয়েছে।” স্টাইলিসের মতে, সরকার রাজনৈতিক সুবিধা বা লবিস্টদের প্রভাবের ভিত্তিতে তহবিল বণ্টন করেছে যা প্রশাসনিক ন্যায়পরায়ণতার পরিপন্থী।
অন্যদিকে শ্রমমন্ত্রী পিচ্চিনির মুখপাত্র দাবি করেছেন যে তহবিল সবার জন্য উন্মুক্ত এবং ১,০০০-এর বেশি প্রকল্প সহায়তা পেয়েছে, এসব প্রকল্প এক লক্ষেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান বা দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। সরকারি পক্ষের যুক্তি, তহবিলের উদ্দেশ্যই ছিল দক্ষতার ঘাটতি পূরণ ও শ্রমবাজারকে সমৃদ্ধ করা, এবং তারা ফলাফলকে সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।
অডিটর জেনারেলের রিপোর্টে দেখা যায় – আমলাদের মূল্যায়ন কম নম্বর পেলেও লবিস্টদের সক্রিয়তা ছিল এবং মন্ত্রী-স্তরের হস্তক্ষেপে প্রকল্পগুলো বরাদ্দ পেয়েছে।
এ থেকে কয়েকটি স্পষ্ট প্রশ্ন উঠে আসে, যেমন ১) বরাদ্দের মানদণ্ড কী ছিল? ২) কেন দুর্বল মানের প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো? ৩) লবিস্টদের প্রভাব কি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে? ৪) মন্ত্রী-কার্যালয়ের ভূমিকা কি স্বচ্ছ ছিল?
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এখন চাপ বাড়ছে সরকার কীভাবে এই অনিয়ম ব্যাখ্যা করবে এবং ভবিষ্যতে তহবিল বণ্টনে কী ধরনের সংস্কার আনা হবে।
