বিনিয়োগ প্রতারণার বিরুদ্ধে এক টরন্টোবাসীর উদ্যোগ

কানাডায় বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণা দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে

কানাডায় বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণা দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিবছর হাজারো কানাডিয়ান নকল বিনিয়োগ প্ল্যাটফরম, ক্রিপ্টোকারেন্সি স্কিম এবং ভুয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পড়ে কোটি কোটি ডলার হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছেন স্বঘোষিত প্রযুক্তিবিদ আরমিন জামানি, যিনি নিজের দক্ষতা ও সময় ব্যয় করে এসব প্রতারণা উন্মোচনে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন।

জামানি জানান, প্রতারণার মাত্রা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনো ইমেইল বা টেক্সট মেসেজ পেলেই তা সন্দেহজনক মনে হয়। সাধারণত ক্রিপ্টোকারেন্সির নামে বড় মুনাফার প্রতিশ্রুতি, দ্রুত ধনী হওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতারকরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করে। তিনি বলেন, “আমার মতো অনেকেই প্রায় প্রতিদিন এমন বার্তা পায়। কিন্তু সবাই তো নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে না। যারা দুর্বল, তাদেরই মূলত নিশানা করে প্রতারকরা।”

- Advertisement -

মাত্র ২৯ বছর বয়সে আরমিন জামানি নিজের মধ্যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এসব স্ক্যাম সনাক্ত করার কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের বার্তা পেলেই আমার বিরক্ত লাগে। তাই মজা করেই ভাবলাম দেখি তো কারা এর পেছনে আছে। পরে দেখি, আমি আসলে অন্যদেরও প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে পারছি।”

গত মাসেই তিনি “রিভাইভো ক্যাপিটল” নামের কথিত ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফরম থেকে একটি ইমেইল পান। ইমেইলটি উপেক্ষা করার কয়েক মিনিট পরই আবার ফোন আসে। সেখানে বলা হয় “আমরা জানি আপনি আরমিন, এটিই আপনার ফোন নম্বর, এবং আমাদের প্ল্যাটফরমে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।” অথচ এই প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি আগে কখনো শোনেননি।

এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামেন জামানি। খোঁজ নিয়ে তিনি দেখতে পান, কানাডিয়ান ইনভেস্টমেন্ট রেগুলেটরি অর্গানাইজেশন (CIRO), কানাডিয়ান সিকিউরিটিজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস (CSA) এবং নিউ ব্রান্সউইক ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড কনজ্যুমার সার্ভিসেস কমিশনের (FCNB) সতর্ক তালিকায় বহুদিন ধরেই রিভাইভো ক্যাপিটলের নাম রয়েছে। এসব সংস্থা একাধিকবার বিনিয়োগকারীদের এই প্ল্যাটফরম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

তবুও অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ভুয়া ডোমেইন আর লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এখনও প্রতারণার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জামানি বলেন, “এখন অনলাইনে অনেক ফ্রি টুল আছে যেখানে কেউ চাইলে একটি ওয়েবসাইটের মালিক, অবস্থান বা হোস্টিং কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য জানতে পারে। আমি সেসব ব্যবহার করে রিভাইভো ক্যাপিটল সম্পর্কে খোঁজ নিই। পরে জানতে পারলাম, তাদের একাধিক ডোমেইন আছে এবং যেসব কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইট হোস্ট করছে তাদেরও খুঁজে পাই।”

তিনি এসব কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জনস্বার্থে যথাযথ তথ্য সরবরাহ করেন। তার দাবি, যেসব কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা সবাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে।

কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিপ্টো এবং অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। সরকারি সংস্থাগুলো একের পর এক সতর্কবার্তা দিলেও প্রতারকরা নতুন কৌশল নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অনলাইনে বিনিয়োগের আগে প্রত্যেককে অবশ্যই রেগুলেটরি লিস্ট, কোম্পানির রিভিউ, লাইসেন্সিং ও ডোমেইন তথ্য যাচাই করতে হবে।

আরমিন জামানির মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগী মানুষরা প্রতারণা ঠেকাতে সহায়ক হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে সতর্কতা ও সচেতনতা ছাড়া এই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

- Advertisement -

Read More

Recent