
কানাডা দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ধরে রাখা ‘হামমুক্ত দেশ’ হিসেবে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হারিয়েছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএএইচও) সোমবার এ মর্যাদা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির জনস্বাস্থ্য কাঠামো, ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
১৯৯৮ সালে কানাডা প্রথম হামমুক্ত দেশের স্বীকৃতি পায়। কিন্তু গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একাধিক প্রদেশে হাম সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এটিকে আর নিয়ন্ত্রণাধীন পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করতে পারছে না। ফলে মর্যাদা প্রত্যাহারই হয়ে উঠেছে অনিবার্য।
ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডন বোডিশ জানান, জনস্বাস্থ্য বাজেট সংকোচন, সমন্বিত ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রির অভাব এবং পারিবারিক চিকিৎসকের ঘাটতি এই তিনটি কারণই হাম সংক্রমণ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভ্যাকসিন সম্পর্কে ভুল ধারণা কিংবা গুজব, যা কানাডার মতো উন্নত দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে।
বোডিশের ভাষায়, “এ ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো পথ নেই ভ্যাকসিন আস্থা পুনর্গঠন ও শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরির জন্য বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, কমিউনিটির দোরগোড়ায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনস্বাস্থ্য কর্মী নেই। একই সঙ্গে দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় সংক্রমণ থামানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
কানাডায় এখনো কার্যকর কোনো জাতীয় ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রি নেই। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি অন্য প্রদেশে বা দেশের বাইরে ভ্যাকসিন গ্রহণ করে থাকেন, তার হালনাগাদ তথ্য জানা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে। এর ফলে আক্রান্তের যোগাযোগ-চিহ্নিতকরণ বা সংক্রমণের উৎস সনাক্ত করাও কঠিন হয়।
ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির মাইকেল জি. ডিগ্রুট ইনস্টিটিউট ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চের বৈজ্ঞানিক পরিচালক ম্যাথিউ মিলার জানান, “জাতীয় রেজিস্ট্রি অবশ্যই কাম্য, তবে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রাদেশিক পর্যায়ে ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রি ব্যবস্থা চালু করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে প্রদেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে সহজে তথ্য বিনিময় করতে পারবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামমুক্ত মর্যাদা হারানো কানাডার জন্য কেবল প্রতীকী ব্যর্থতা নয় এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতার ইঙ্গিত। ভ্যাকসিন আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রি গড়ে তোলা এই সবকিছুর জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ জরুরি।
তাদের মতে, যদি এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, শুধু হাম নয়, ঠেকানো সম্ভব এমন আরও বহু রোগ আবার ফিরে আসতে পারে।
