মাদক গ্রহণের কথা অস্বীকার পেনি ওলেকসিয়াকের

কানাডার তারকা সাঁতারু ও সাতবারের অলিম্পিক পদকজয়ী পেনি ওলেকসিয়াকের সামনে আপাতত কঠিন সময়

কানাডার তারকা সাঁতারু ও সাতবারের অলিম্পিক পদকজয়ী পেনি ওলেকসিয়াকের সামনে আপাতত কঠিন সময়। তিনবার মাদক পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তার চোখ ভবিষ্যতের দিকে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এখনো তার স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে।

সিবিসি স্পোর্টসের সাংবাদিক ডেভিন হেরোক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলেকসিয়াক স্পষ্টভাবে মাদক গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে ফিরতে চান তিনি।

- Advertisement -

টরন্টোর বাসিন্দা এই সাঁতারু কানাডার অন্যতম সফল অলিম্পিয়ান। তার ঝুলিতে রয়েছে সাতটি অলিম্পিক পদক, যা তাকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম করে তুলেছে। তবে সাম্প্রতিক এই নিষেধাজ্ঞা তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে জানা গেছে, ওলেকসিয়াক নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত না থাকায় মাদক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং নিয়ম অনুযায়ী, একজন অ্যাথলেটকে পরীক্ষার জন্য যে স্থানে থাকবেন বলে আগাম জানাতে হয়, সেখানে তাকে পাওয়া না গেলে সেটিকে ‘মিসড টেস্ট’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এ ধরনের তিনটি ঘটনা ঘটে, যার ফলস্বরূপ তার বিরুদ্ধে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

তবে ওলেকসিয়াক জোর দিয়ে বলেছেন, পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হওয়া মানেই মাদক গ্রহণ করা নয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার ক্ষেত্রে কখনোই পারফরম্যান্স-এনহান্সিং ড্রাগ গ্রহণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনকি এটা নেওয়ার কথা আমার চিন্তাতেও আসেনি।”

তিনি আরও জানান, পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার পেছনে একাধিক বাস্তব কারণ ছিল। একই সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। “প্রথমেই আমি এর জন্য ক্ষমা চাইছি। এমনটা ঘটুক আমি কখনোই চাইনি। এটা আমার প্রত্যাশার মধ্যেও ছিল না। দিনশেষে আমি কিছু ভুল করেছি এবং এজন্য আমি অনুতপ্ত,” বলেন ওলেকসিয়াক।

বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি নিজের দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছেন না এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ সুবিধাও পাচ্ছেন না। ফলে তাকে পাবলিক সুইমিং পুলেই অনুশীলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

সব সীমাবদ্ধতা ও বিতর্কের মাঝেও ওলেকসিয়াক আশা ছাড়ছেন না। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হলে আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তার লক্ষ্য স্পষ্ট সবকিছু পেছনে ফেলে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে আবার কানাডার প্রতিনিধিত্ব করা।

- Advertisement -

Read More

Recent