কানাডার মাদক কারবারীর অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের জেল

বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত বিলিয়ন ডলারের মাদক চক্র পরিচালনার অভিযোগে কানাডার নাগরিক সি চি লপকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত

বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত বিলিয়ন ডলারের মাদক চক্র পরিচালনার অভিযোগে কানাডার নাগরিক সি চি লপকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত। প্রায় তিন বছর ধরে গোপন ও রুদ্ধদ্বার শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার মেলবোর্নের আদালত সর্বসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য খুলে দেওয়া হলে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

চীনা বংশোদ্ভুত ৬২ বছর বয়সী সি চি লপ টরন্টোর সাবেক বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতে তিনি ‘এশিয়ার এল পাচো’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে মাদক পাচারের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে, যা বহু বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলেছিল।

- Advertisement -

সি চি লপকে ধরতে বৈশ্বিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত অভিযান চলছিল। সেই অভিযান শেষ হয় ২০২১ সালে, যখন নেদারল্যান্ডসের আর্মস্টারডাম বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি কানাডায় ফেরার চেষ্টা করছিলেন। ডাচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি আইনি নিশ্চয়তার ভিত্তিতে যেখানে বলা হয়েছিল, তাকে ২৫ বছরের বেশি সাজা দেওয়া হবে না অস্ট্রেলিয়ায় বিচারের জন্য তাকে হস্তান্তর করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান।

দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিচার কার্যক্রম গোপনে অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার আদালত উন্মুক্ত হলে জানা যায়, গত মাসে সি চি লপ বিপুল পরিমাণ সীমান্ত-নিয়ন্ত্রিত মাদক পাচারের চক্রান্তের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার সময় তিনি বিশেষ কোনো আবেগ প্রকাশ করেননি। পুলিশি পাহারায় মাথা নিচু করে আদালতে বসে ছিলেন তিনি।

বিচারক পিটার রোজেন রায়ে সি চি লপের কর্মকাণ্ডকে “নিখাদ শয়তানি” বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংগঠিত অপরাধে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এর ফলে সমাজে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে।

গ্রেপ্তারের আগে সি চি লপকে সংঘবদ্ধ অপরাধ জগতের সবচেয়ে ‘আকাঙ্ক্ষিত’ চরিত্রদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিপুল অর্থ ও ক্ষমতার জোরে তিনি বহু বছর ধরে সংবাদ শিরোনামের বাইরে থাকতে সক্ষম হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, তার নেটওয়ার্ক এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত ছিল এবং বহু স্তরে পরিচালিত হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে এটি দেখায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও বড় অপরাধীরা শেষ পর্যন্ত আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারে না।

কারাদণ্ড শেষে সি চি লপকে কানাডায় ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তার কাছে বর্তমানে কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট নেই বলে বিশ্বাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে মুক্তির পর তার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও আলাদা করে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

এই মামলার রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অবস্থানকে আবারও স্পষ্ট করল এবং দেখাল, সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রেও বিচার এড়ানো সম্ভব নয়।

- Advertisement -

Read More

Recent