
যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী লেখক অ্যালেক্সিস ডিভাইনের জীবনের কঠিন এক সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে তাকে মানসিক স্বান্তনা দেয় তার পোষা কুকুর বানি। তবে সেই স্বান্তনা কোনো প্রচলিত উপায়ে নয় ঘেউ ঘেউ বা কাছে এসে বসার মাধ্যমে নয়, বরং শব্দের মাধ্যমে।
ডিভাইন জানান, একদিন তিনি ফেসটাইমে তার সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং আবেগে কেঁদে ফেলেন। তিনি ফোনের পর্দায় মনোযোগী ছিলেন, বানি তখন পাশে ছিল। হঠাৎ করেই বানি একটি সাউন্ডবোর্ডের নির্দিষ্ট বাটনে চাপ দেয়, যেখান থেকে ভেসে আসে ‘না’ শব্দটি। ডিভাইন তখনও কুকুরটির দিকে তাকাচ্ছিলেন না। কিন্তু বারবার শব্দটি শোনার পর তিনি বুঝতে পারেন, বানি যেন তাকে কাঁদতে বারণ করছে।
ডিভাইনের ভাষায়, “মনে হচ্ছিল বানি মিনতি করে আমাকে বলছে কেঁদো না। একটু বিরতি দিয়ে যেন সে বোঝাতে চাইছিল, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’”
অ্যালেক্সিস ডিভাইন ‘আই অ্যাম বানি’ নামের বইয়ের লেখক। তার সঙ্গে বানির যোগাযোগের মাধ্যম হলো একটি বিশেষ সাউন্ডবোর্ড। এই বোর্ডটি মেঝেতে রাখা থাকে এবং এতে একাধিক বাটন রয়েছে, যেগুলো কুকুর সহজেই চাপ দিতে পারে। প্রতিটি বাটনে চাপ দিলে আগে থেকেই রেকর্ড করা একটি শব্দ শোনা যায়। ডিভাইনের দাবি, এখন পর্যন্ত বানি প্রায় ১০০টির মতো শব্দ ব্যবহার করতে শিখেছে।
এই ঘটনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে তা নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন প্রাণীর বৌদ্ধিক সক্ষমতা নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী ফেডেরিকো রোজানো এই বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগী হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার কগনিটিভ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
কারেন্ট সাময়িকীর ম্যাট গ্যালাওয়েকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোজানো বলেন, “আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আসলে এখানে কী ঘটছে, সেটা আমাদের বুঝতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, একদিন শত শত, এমনকি হাজার হাজার মানুষ এই বিষয় নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হবেন।”
গত মাসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল প্লস ওয়ান-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় রোজানো দেখিয়েছেন, গবেষণার আওতায় থাকা কুকুররা নির্দিষ্ট শব্দ বুঝতে সক্ষম। গবেষকদের মতে, এই সক্ষমতা কুকুর ও তাদের মালিকের মধ্যে আবেগগত বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে পারে।
কুকুরের মালিক হিসেবে এই গবেষণার ফলাফল ডিভাইনের কাছে খুব একটা বিস্ময়কর নয়। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না এটা কারো জন্য খুব অবাক করার মতো কিছু। বিশেষ করে যারা কুকুরের সঙ্গে বসবাস করেন, তারা জানেন কুকুর কোনো বস্তু, পরিস্থিতি ও শব্দের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুর মানুষের আবেগ বোঝার পাশাপাশি ভাষার নির্দিষ্ট সংকেত ধরতে পারছে এই ধারণা ভবিষ্যতে মানুষ ও প্রাণীর যোগাযোগ নিয়ে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
