কানাডা আর্কটিকের কত সংখ্যক হিমবাহ রক্ষা করা সম্ভব?

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তবে এই শতাব্দির মধ্যেই পৃথিবীর অধিকাংশ হিমবাহ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে এই শতাব্দির মধ্যেই পৃথিবীর অধিকাংশ হিমবাহ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে আশার কথা হলো উষ্ণতা বৃদ্ধির হার কমাতে পারলে কানাডাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো হিমবাহ এখনও রক্ষা করা সম্ভব। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নতুন বৈশ্বিক গবেষণায় এমনই সতর্কবার্তা ও সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

পিয়ার-রিভিউড বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ’-এ গত সোমবার প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, শিল্পায়ন-পূর্ব সময়ের তুলনায় যদি বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তাহলে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ হিমবাহ সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ২১০০ সালের অনেক আগেই ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটতে পারে।

- Advertisement -

গবেষণায় আরও বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতা যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা যায়, তবুও পরিস্থিতি খুব আশাব্যঞ্জক নয়। সে ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৩ শতাংশ হিমবাহ, অর্থাৎ আনুমানিক ৩৪ হাজার হিমবাহ পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। তবে উষ্ণতা যত বেশি বাড়বে, ক্ষতির মাত্রাও তত ভয়াবহ রূপ নেবে।

গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে ‘পিক গ্ল্যাসিয়ার এক্সটিংশন’। এর মাধ্যমে বর্তমান সময় থেকে এই শতাব্দির মাঝামাঝি যে বছরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হিমবাহ বিলুপ্ত হবে, সেই সময়কালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বাড়তে থাকে, তাহলে প্রায় ২০৪১ সালের দিকে সর্বোচ্চ হারে হিমবাহ বিলুপ্তি ঘটবে। ওই সময়ে প্রায় দুই হাজার হিমবাহ একসঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, উষ্ণতা বৃদ্ধির হার যদি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, তবে পরিস্থিতি আরও দ্রুত ও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে ‘পিক গ্ল্যাসিয়ার এক্সটিংশন’ সময়কাল ২০৫০ সালের মাঝামাঝি চলে আসবে এবং প্রতি বছর গড়ে চার হাজারের মতো হিমবাহ গলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। এরই মধ্যে বিশ্বের বহু অঞ্চলের হিমবাহ স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় হিসাব করা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ব প্রায় সাড়ে ছয় ট্রিলিয়ন টন বরফ হারিয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বরফ গলার হার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বেড়েছে।

নতুন গবেষণায় কানাডার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা যদি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা যায়, তবুও এই শতাব্দির শেষ নাগাদ কানাডার দক্ষিণ আর্কটিক অঞ্চলের প্রায় ৩৪ শতাংশ হিমবাহ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে উষ্ণতা আরও বাড়লে এই ক্ষতির মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, হিমবাহ শুধু বরফের স্তূপ নয় এগুলো পৃথিবীর জলচক্র, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, জীববৈচিত্র্য এবং কোটি মানুষের পানির নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর প্রভাব শুধু মেরু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা বিশ্বকেই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

- Advertisement -

Read More

Recent