
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে প্রাক্তন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ‘সফট পাওয়ার’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হবে না।” জাতীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা-ও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
ট্রুডোর এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে ভবিষ্যতে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে পারে। শুধু মন্তব্যেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন চিত্র ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে, যা কানাডায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এই প্রেক্ষাপটেই ডাভোসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রুডো সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বক্তৃতায় ট্রুডো ‘সফট পাওয়ার’-এর উদাহরণ টেনে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ আনেন। তিনি বলেন, সামরিক শক্তির বাইরেও জনগণের মানসিক দৃঢ়তা, প্রতিরোধের মানসিকতা ও পরিচয় রক্ষার সংকল্প একটি জাতির জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, “কখনোই জনগণের সমাধান ও পরিচয় রক্ষার শক্তিকে অবমূল্যায়ন করবেন না।” এই বক্তব্যে তিনি মূলত বোঝাতে চান, একটি দেশের অস্তিত্ব কেবল ভূখণ্ড বা সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না জনগণের ঐক্য ও আত্মপরিচয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রুডো আরও বলেন, বিশ্ব এখন একটি “নতুন যুগে” প্রবেশ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ধারা চলেছে, তা ধীরে ধীরে শেষের দিকে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর আগে বেইজিং সফরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’-এর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। ডাভোসে ট্রুডোর বক্তব্যেও একই ধরনের পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায় বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত চিত্র নিয়ে ট্রুডো বলেন, এই বিষয়ে কানাডিয়ানদের অবস্থান পরিষ্কার ও ঐক্যবদ্ধ। তিনি জানান, কানাডা কখনোই বিশ্বকে শাসন করার স্বপ্ন দেখে না; বরং দেশটি ঐতিহাসিকভাবে আলোচনার টেবিলে মানুষকে একত্র করার ভূমিকা পালন করে এসেছে। কূটনীতি, সমঝোতা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে কানাডার অবদানকে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
ডাভোসে অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ট্রুডোর জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ে। যদিও তিনি এখন আর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নেই, তবুও নীতি, কূটনীতি ও বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে তার উপস্থিতি এবং বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, অফিসের বাইরে থাকলেও ট্রুডো এখনো একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।
এদিকে, ট্রুডোর ব্যক্তিগত জীবনও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন পপ তারকা ক্যাটি পেরির সঙ্গে তার সম্পর্ককে ঘিরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্মে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই জুটিকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করছে।
সব মিলিয়ে ডাভোসের মঞ্চে ট্রুডোর বক্তব্য শুধু কানাডার সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তাই দেয়নি, বরং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনীতি ও ‘সফট পাওয়ার’-এর গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
