দুই বছরের সর্বোচ্চ খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি কানাডায়

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। কানাডায় খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশটির সামগ্রিক বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ২.৪ শতাংশে, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসিত ২.২ শতাংশের তুলনায় বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো এক বছর আগে ফেডারেল সরকারের ঘোষিত অস্থায়ী জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়া। সেই করছাড় উঠে যাওয়ার পর পণ্য ও পরিষেবার দামে যে সমন্বয় ঘটেছে, তার প্রভাব ডিসেম্বরের পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- Advertisement -

স্ট্যাটক্যানের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য খাতে মুদ্রাস্ফীতি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে মাংস, মাছ ও সবজির ক্ষেত্রে। গ্রোসারি পণ্যের দাম বছরে গড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে, যদিও মাসিক ভিত্তিতে পরিবর্তন খুব বেশি নয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে মূল্যবৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো ডিসেম্বর মাসে কফির দাম মাসিক হিসাবে ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, আর গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ১৬.৮ শতাংশ।

রেস্তোরাঁ খাতেও চাপ বেড়েছে। বার্ষিক তুলনায় রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বেড়েছে ৮.৫ শতাংশ। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানিয়েছে, এর একটি বড় কারণ হলো ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের জিএসটি ছুটির সময়কার কম দাম বার্ষিক হিসাব থেকে বাদ পড়া।

খাদ্য ও খুচরা বাজার বিশ্লেষক সিলভাঁ চার্লেবোয়া এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে একটি তথাকথিত ‘ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড’ থাকে, যেখানে দাম বাড়ানো সাধারণত সীমিত থাকে। তবুও ডিসেম্বর মাসে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা অস্বাভাবিক।

চার্লেবোয়া বলেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ১৭ দিন জিএসটি ছুটি চলেছিল। এতে ভোক্তারা সাময়িক স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মূল্য নির্ধারণে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।” তাঁর ভাষায়, এ ধরনের অস্থায়ী করছাড় বাজারে “সুযোগসন্ধানী আচরণ ও ভোলাটিলিটি বৃদ্ধির” ঝুঁকি তৈরি করে।

খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির নিরিখে জি৭ দেশগুলোর মধ্যে কানাডা বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে। কানাডায় খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির হার ৬.২ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে জাপান (৬.১ শতাংশ) এবং যুক্তরাজ্য (৪.২ শতাংশ)। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৩.১ শতাংশ, ইতালিতে ২.৬ শতাংশ, ফ্রান্সে ১.৭ শতাংশ এবং জার্মানিতে ১.৪ শতাংশ।

তবে সব খাতেই যে চাপ বেড়েছে, তা নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ডিসেম্বর মাসে পেট্রলের দাম কমেছে ১৩.৮ শতাংশ। এই পতন সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও হালকা করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ডিসেম্বরের এই মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যাংক অব কানাডার আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সুদের হার সিদ্ধান্তের আগে শেষ মূল্যসংক্রান্ত পর্যালোচনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ডিসেম্বরে নীতিমূলক সুদের হার ২.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছিল। বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রবণতা ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বাজার ও সাধারণ মানুষ।

- Advertisement -

Read More

Recent