
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর ভাড়াবাজারে পতনের ধারা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রেন্টালসডটসিএ এবং আরবানেশন-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহরটিতে গড় মাসিক বাড়িভাড়া দাঁড়িয়েছে ২,৪৮২ কানাডিয়ান ডলার যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫.৩ শতাংশ কম। আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ভাড়া কমেছে প্রায় ১১.৭ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পতন শুধু সাময়িক নয়, বরং বাজারে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। টরন্টোর আবাসন খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট ও কন্ডোমিনিয়াম নির্মাণ হয়েছে, যার ফলে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে অভিবাসন প্রবাহের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়া, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সুদের হার বৃদ্ধির কারণে ভাড়াটিয়াদের ক্রয়ক্ষমতা ও আগ্রহ কমে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাড়ার পতন সব ধরনের ইউনিটেই সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে, যা বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া কমেছে ৭.৯ শতাংশ, এক শয়নকক্ষের ইউনিটে ভাড়া হ্রাস পেয়েছে ৬.৯ শতাংশ এবং দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া কমেছে ৭.১ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ছোট ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রেও চাহিদা কমছে, যা সাধারণত ভাড়াবাজারে সবচেয়ে স্থিতিশীল সেগমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
শুধু টরন্টোতেই নয়, আশপাশের শহরগুলোতেও ভাড়ার নিম্নগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ – ওকভিলে এক শয়নকক্ষের ইউনিটের গড় ভাড়া ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২,৪৫৮ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম, বার্লিংটনে একই ধরনের ইউনিটের ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২,৩৫৬ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ কম। এতে স্পষ্ট, বৃহত্তর গ্রেটার টরন্টো এরিয়া জুড়েই ভাড়াবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
রেন্টালসডটসিএর যোগাযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক জিয়াকোমো লাডাসের মতে, “বাজারে নতুন ইউনিটের সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া আকর্ষণে নানা প্রণোদনা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন নির্মিত ইউনিটগুলোর গড় আয়তনও কমছে। ছোট আকারের অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা বাড়লেও সেগুলোর প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক চাহিদা আরও দুর্বল হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি সরবরাহের এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং চাহিদা দ্রুত না বাড়ে, তাহলে আগামী মাসগুলোতেও ভাড়ার ওপর নিম্নমুখী চাপ থাকতে পারে। তবে সুদের হার কমা, অভিবাসন বাড়া কিংবা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাজারে আবারও চাহিদা বাড়তে পারে যা ভাড়ার দামে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, টরন্টোর ভাড়াবাজার বর্তমানে একটি সমন্বয় পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অতিরিক্ত সরবরাহ এবং দুর্বল চাহিদার টানাপোড়েনে ভাড়ার হার ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে।
