
মনে আছে, দেখা হলে খুব ভালো লাগতো!প্রতিবার দেখা হবার দিন তুমি আমার জন্য নিয়ে আসতে তোমার বাগানের ফুল আর ভালোলাগা কোন বই। বই এর শেষ পাতায় তুমি লিখে আনতে চিঠি। পুরোটা ঠিক বই প্রসংগে নয়। কখনো নিজের ভালোলাগা, মন্দলাগা অনুভব ,কখনোবা প্রিয় কোন স্মৃতি।একবার লিখেছিলে তোমার প্রথম প্লেনে চড়ার অভিজ্ঞতার কথা।লিখেছিলে, প্লেনের জানালা দিয়ে আকাশ দেখে তুমি কেমন অবাক হয়েছিলে!
মেঘের উপরের শূন্য জায়গা দেখে মনে হয়েছিল মেঘের মাঠের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছো। তুলো তুলো মেঘের দিকে তাকিয়ে তোমার মনে হয়েছিল কোন লেপ কাঁথার কারিগর এলে ঠিক ব্যাগ ভরে নিয়ে যেতো সব।আর সেইসব মেঘের তুলো ভরে বালিশ বানাতো। একথা পড়ে আমি খুব হেসেছিলাম।এরপর তুমি বলেছিলে, বালিশ নিয়ে তোমার অবসেশন এর কথা। ভীষন ঘুমকাতুরে তুমি, বালিশ তো ভালোবাসবেই!
তোমার সাথে আমার দেখা হবার জায়গাগুলো ছিল খুব অদ্ভুত। প্রথমবারের কথা মনে আছে, টাওরমিনা স্টেশন এর ভেতর!
সিসিলিতে।
এক ক্যাফে তে।
খুব কম মানুষের সমাগম এখানে।
একটু পরপর ট্রেন এসে চলে যাচ্ছিল। ট্রেন তোমার প্রিয় আর স্টেশন !
তুমি শাড়ি পড়ে এসেছিলে।
আমি বলেছিলাম ,সবুজ আমার পছন্দ।তুমি সবুজ শাড়ির সাথে মিলিয়ে সবুজ ফুল পাতার একটা ব্লাউজ পড়েছিলে। তোমার লম্বা কালো চুল দেখে আমি তো অবাক। তুমি যখন কথায় কথায় হাসতে হাসতে নুয়ে পড়ছিলে ,আমি তোমাকে দেখছিলাম। আমি পড়ে গিয়েছিলাম তোমার পছন্দের সাদা শার্ট আর নীল জিনস এর প্যান্ট।
কোন ট্রেন স্টেশন যে এমন সুন্দর আর শান্ত হতে পারে এখানে না এলে আমার জানা হতোনা। তুমি তোমার ব্যাগ খুলে বের করলে কত কিছু।তোমার নিজের বানানো ,আমার জন্য উলের একজোড়া হাতমোজা।একটা নীল মাফলার আর একটা চায়ের মগ।
আমি তোমার জন্য একটা রেশমী স্কার্ফ আর এক প্যাকেট চকলেট নিয়ে গিয়েছিলাম।
তুমি চকলেট পেয়ে আনন্দে প্রজাপতির মত খুশি হলে,যেনো খাওনি কখনো!
ময়ূর রং স্কার্ফ টায় তোমাকে ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছিল।
তোমাকে দেখে আমার কবিতার বনলতা সেন এর কথা মনে পড়ছিল। তোমাকে সেকথা বলতেই বললে,জীবনানন্দ? আমি মাথা নাড়তেই ,তুমি আমাকে অবাক করে দিয়ে জীবনানন্দের “স্বপ্ন” কবিতা থেকে পড়া শুরু করলে।”
পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন,
……..
সেই মুখ আর আমি র’বো সেই স্বপ্নের ভিতরে।”
আমরা দুজন কতক্ষন বসেছিলাম সেখানে? সেইদিন? সেই স্বপ্নের ভিতরে?
“স্বপ্নের ভিতর আবার, বারবার”
অটোয়া, কানাডা
