
কানাডার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর মাদক পাচার চেষ্টার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রায় ৬৬ কিলোগ্রাম ক্যানাবিস জার্মানিতে পাচারের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এয়ার কানাডার এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নির্দোষ দুই যাত্রীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনাটি প্রথম ধরা পড়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি, যখন কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন দুটি স্যুটকেস পরীক্ষা করেন। সেগুলো দুই জার্মান নাগরিকের নামে ট্যাগ করা ছিল, যারা পৃথকভাবে জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন। পরীক্ষা করে প্রতিটি স্যুটকেসে ৩৩ কিলোগ্রাম করে মোট ৬৬ কিলোগ্রাম ক্যানাবিস পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে সন্দেহের তীর যায় ওই দুই যাত্রীর দিকে। তাদের গ্রেপ্তার করে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেন, স্যুটকেসগুলো তাদের নয় এবং তারা একে অপরকে চেনেনও না। তদন্তে তাদের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেলে ১২ মার্চ তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। পুলিশ জানায়, স্যুটকেস দুটি দেখতে প্রায় একইরকম ছিল এবং প্রকৃত যাত্রীরা এগুলো চেক-ইন করেননি। বরং বিমানবন্দরের লাগেজ বিভাগে কর্মরত এক এয়ার কানাডা কর্মী পরিকল্পিতভাবে নির্দোষ যাত্রীদের লাগেজ ট্যাগ ব্যবহার করে এই মাদক পাচারের চেষ্টা করেছিলেন।
অভিযুক্ত ওই কর্মীর নাম আতাশা উইদলি (৩২), যিনি মিসিসোগার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ১০ এপ্রিল ব্র্যাম্পটনের একটি আদালতে তার হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই ঘটনায় বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য নয়, নির্দোষ যাত্রীদের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
