
কানাডার ডাগ ফোর্ড সরকারের বিলি বিশপ বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টরন্টোর ওয়াটারফ্রন্টে অবস্থিত বিলি বিশপ টরন্টো সিটি বিমানবন্দরে বড় আকারের জেট বিমান পরিচালনার লক্ষ্যে রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য অধিগ্রহণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে যা একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে শহরের ভবিষ্যৎ আবাসন পরিকল্পনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও রাজনীতিকরা।
টরন্টো-সেন্ট পলের সিটি কাউন্সিলর জশ ম্যাটলো সম্প্রতি সিটির প্ল্যানিং অ্যান্ড হাউজিং কমিটির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সিটি স্টাফদের নির্দেশ দিতে বলেছেন, যদি বিমানবন্দরে জেট পরিচালনার জন্য ফ্লাইটপথ সম্প্রসারণ করা হয়, তাহলে এর ফলে ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ম্যাটলো মনে করেন, বিষয়টি কেবল পরিবহন বা অর্থনীতির প্রশ্ন নয়; এটি সরাসরি টরন্টোর চলমান আবাসন সংকটের সঙ্গে যুক্ত। তার ভাষায়, “অনেকেই বিমানবন্দর সম্প্রসারণকে উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, কিন্তু এটি ওয়াটারফ্রন্টের অন্যান্য সম্ভাব্য উন্নয়নকে স্থায়ীভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বিশেষ করে নতুন আবাসন নির্মাণের ক্ষেত্রে।”
টরন্টো বর্তমানে তীব্র আবাসন সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির দাম বৃদ্ধি, ভাড়া বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি শহরের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শহরের ওয়াটারফ্রন্ট এলাকা বিশেষ করে পোর্ট ল্যান্ডস নতুন আবাসন তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কিন্তু ম্যাটলোর আশঙ্কা, যদি বিমানবন্দরে বড় জেট বিমান ওঠানামা শুরু হয়, তাহলে নিরাপত্তা ও শব্দদূষণের কারণে আশপাশের এলাকায় ভবনের উচ্চতা ও ঘনত্ব সীমিত করতে হবে। ফলে উচ্চ-ঘনত্বের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “যদি আমাদের ওয়াটারফ্রন্টে ছোট আকারের ভবন নির্মাণ করতে বাধ্য হতে হয়, তাহলে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা কতটা থাকবে সেটা বড় প্রশ্ন। আমরা আসলে কত সংখ্যক নতুন আবাসন তৈরি করতে পারব, তা বোঝা জরুরি।”
বিমানবন্দর সম্প্রসারণের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন, এটি টরন্টোর ব্যবসা ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আনতে পারে। বড় জেট বিমান চালু হলে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ও আন্তঃনগর সংযোগ তৈরি হবে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, এই লাভের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে শহরের আবাসন সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই বিতর্ক এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, এটি টরন্টোর নগর পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একদিকে রয়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, অন্যদিকে রয়েছে শহরের বাসযোগ্যতা ও আবাসন সংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ। ম্যাটলোর আহ্বান স্পষ্ট যে কোনো বড় অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও নগর উন্নয়নগত প্রভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। বিশেষ করে এমন একটি শহরে, যেখানে আবাসন ইতিমধ্যেই একটি সংকটপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
