
অন্টারিওর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছেন প্রদেশটির বিরোধী দলীয় নেতা মারটি স্টাইলিস। ক্ষমতায় এলে ফোর্ড সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নথি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গণতদন্ত আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন স্টাইলিস।
সোমবার কুইন’স পার্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টাইলিস বলেন, তিনি যদি অন্টারিওর প্রিমিয়ার নির্বাচিত হন, তাহলে ফোর্ড সরকারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে। তার ভাষায়, জনগণের কাছ থেকে তথ্য গোপন করা, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতা এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রভাব এসব বিষয়ে একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত তদন্ত প্রয়োজন। তিনি সরাসরি ডাগ ফোর্ডকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি হয়তো আরেকটি জনাদেশ পাবেন না। কারণ, আপনি জেলে থাকতে পারেন।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্টাইলিসের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাতিল হওয়া একটি প্রাইভেট জেট ক্রয় সংক্রান্ত নথি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার সীমিত করতে চাইছে। জেট কেনার জন্য কত অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল, কেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত ছিল এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর সরকার দিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। সাংবাদিকদের সামনে স্টাইলিস বলেন, “বিলাসবহুল জেট কেনার বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর তারা দিতে চায় না। কত টাকা খরচ হয়েছে কিংবা আসলে কী ঘটেছে এসব বিষয়ও আড়াল করা হচ্ছে।”
তার অভিযোগ, সরকার পরিকল্পিতভাবে এমন আইন পাস করছে যাতে সাংবাদিক, বিরোধী দল কিংবা সাধারণ জনগণ সরকারি নথিতে প্রবেশ করতে না পারে। এতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রাইভেট জেট প্রসঙ্গের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে বহুল সমালোচিত গ্রিনবেল্ট বিতর্ক। অন্টারিওর পরিবেশ সংরক্ষিত গ্রিনবেল্ট এলাকার কিছু অংশ উন্নয়নের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এর আগেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, কিছু ডেভেলপারকে সুবিধা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। স্টাইলিস বলেন, সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কারা প্রভাব খাটিয়েছিল এবং কাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তার মতে, সরকারের নতুন আইন এসব তথ্য অনুসন্ধান করাকেই প্রায় অসম্ভব করে তুলছে। যদিও পরে ডাগ ফোর্ড ওই সিদ্ধান্তকে “ভুল” হিসেবে স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান, তবুও বিরোধীরা বিষয়টিকে এখনো রাজনৈতিক ও নৈতিক জবাবদিহিতার বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।
ফোর্ড সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার সীমিত করা। সম্প্রতি প্রাদেশিক সরকার এমন একটি আইন পাস করেছে, যার ফলে ফ্রিডম অব ইনফরমেশন (এফওআই) অনুরোধের মাধ্যমে জনগণ আগে যেসব সরকারি নথি পেতে পারত, তার অনেকটাই এখন আর পাওয়া যাবে না। বিরোধী দল ও স্বচ্ছতা বিষয়ক সংগঠনগুলোর দাবি, এই আইন সরকারের কর্মকাণ্ডকে আরও গোপনীয় করে তুলবে এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী ভূমিকা বাধাগ্রস্ত করবে। স্টাইলিসও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার জনগণের চোখ এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায় বলেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্টাইলিসের কঠোর বক্তব্য অন্টারিওর রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। যদিও ডাগ ফোর্ডের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই, তবুও বিরোধীরা তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে নির্বাচনের আগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি তথ্য গোপনের প্রশ্নই অন্টারিও রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গ্রিনবেল্ট কেলেঙ্কারি এবং সরকারি নথিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ফোর্ড সরকার এখন পর্যন্ত স্টাইলিসের “জেলে যেতে হতে পারে” মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। তবে ক্ষমতাসীন শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছে।
