
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তাদের পরিচর্যাকারীদের জন্য আরও সহজ, সমন্বিত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে অন্টারিও। প্রদেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা এবং কমিউনিটি কেয়ার প্রদানকারী ৩৫টিরও বেশি সংগঠনকে একত্রিত করে গঠন করা হয়েছে অন্টারিও ডিমেনশিয়া টাস্কফোর্স। উদ্যোগটির নেতৃত্ব দিচ্ছে আলঝেইমার সোসাইটি অব অন্টারিও এবং ব্রেইনওয়েল ইনস্টিটিউট। ডিমেনশিয়া কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়; এটি পরিবার, পরিচর্যাকারী এবং পুরো সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অথচ বর্তমানে অন্টারিওতে ডিমেনশিয়া-সংক্রান্ত সেবা ব্যবস্থা এতটাই বিচ্ছিন্ন যে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।
জানা গেছে, বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও ভোগান্তিই এই টাস্কফোর্স গঠনের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, “ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা দেখেছি, তারা সঠিক সেবা খুঁজে পেতে এবং কোন সময়ে কোন সহায়তা প্রয়োজন তা বুঝতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কাটাচ্ছেন। অনেকেই ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়ছেন।” শিবানাথানের মতে, অনেক পরিবারকে রোগ নির্ণয়ের পর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কখনও কয়েক মাস, আবার অনেক ক্ষেত্রে তারও বেশি সময় লেগে যায়। এই বিলম্ব রোগী ও পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে। তিনি বলেন, “বর্তমান ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো সমন্বয়ের অভাব। বিভিন্ন সেবা থাকলেও সেগুলোর মধ্যে কার্যকর সংযোগ নেই। ফলে মানুষ জানতেই পারেন না কোথায় গেলে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে।”
নতুন টাস্কফোর্সে যুক্ত হয়েছে অন্টারিওর বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীরা। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাকিউট কেয়ার হাসপাতাল, বিশেষায়িত জেরিয়াট্রিক সেবা কেন্দ্র, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সংস্থা, হোম ও কমিউনিটি কেয়ার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, অ্যাসিস্টেড লিভিং সেবা সংস্থা, চিকিৎসক সংগঠন, পারিবারিক চিকিৎসক এবং কলেজ অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড নার্সেস। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমেনশিয়া মোকাবিলায় এই ধরনের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগটির প্রভাব কেবল স্মৃতিশক্তি বা মানসিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, সামাজিক সম্পর্ক এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলে। শিবানাথান বলেন, “ডিমেনশিয়া বহু সীমানা অতিক্রম করেছে। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়; এটি সামাজিক, পারিবারিক এবং কমিউনিটি পর্যায়েরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
টাস্কফোর্সের কো-চেয়ার এবং উত্তর-পূর্ব অন্টারিওর প্রথম জেরিয়াট্রিশিয়ান ডা. জোয়ানে ক্লার্ক বলেন, প্রদেশের সব অঞ্চলে ডিমেনশিয়া পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তার মতে, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন হওয়ার পাশাপাশি অনেক মানুষ ডিমেনশিয়ার সম্ভাব্য তকমা নিতে অনিচ্ছুক থাকেন। ডা. ক্লার্ক বলেন, “অনেকেই জানেন না কোথায় গেলে পরীক্ষা করানো যায় কিংবা কী ধরনের সহায়তা পাওয়া সম্ভব। আবার কেউ কেউ মনে করেন ডিমেনশিয়া ধরা পড়লে তারা স্বাধীনতা হারাতে পারেন।” বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স হারানোর আশঙ্কা অনেকের মধ্যে ভয় তৈরি করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই উদ্বেগের কারণে অনেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা মূল্যায়ন করাতে পিছিয়ে যান, ফলে রোগ শনাক্তকরণ আরও বিলম্বিত হয়।
অন্টারিও ডিমেনশিয়া টাস্কফোর্সের লক্ষ্য হলো রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে রোগী ও পরিবারের জন্য একটি সুসংহত পথ তৈরি করা। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা, সেবার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তাদের পরিচর্যাকারীরা আর বিচ্ছিন্ন ও জটিল ব্যবস্থার মধ্যে হারিয়ে যাবেন না। বরং প্রয়োজনের সময়ে সঠিক সেবা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি সহজ এবং কার্যকর হবে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অন্টারিওতে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় নতুন টাস্কফোর্সকে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
