
আমরা তখন আজিমপুর শেখ সাহেব বাজারের গলিতে ভাড়া থাকি। সাল ১৯৯৫। আমাদের ঠিক বিপরীত বাড়িটাতেই থাকেন আলী ইমাম। এক সকালে ফোন এলো মিনহাজের। মিনহাজ আহমেদ কিছুদিন আমার সঙ্গে মনোরমা পত্রিকায় কাজ করেছিলো। তখন সে নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের এসিস্ট্যান্ট। মিনহাজ বললো—রিটন ভাই স্যার আপনার সঙ্গে একটু কথা বলবেন।
–কোন স্যার?
–হুমায়ূন স্যার।
এটা সেটা কুশল জিজ্ঞেস করার পর হুমায়ূন ভাই বললেন—বিটিভির জন্যে নতুন একটা নাটক বানাতে যাচ্ছি। নাম নক্ষত্রের রাত। ওখানে ছোট্ট একটা মেয়ের চরিত্রে তোমার কন্যা নদীকে আমার দরকার। চরিত্রটা মোটাসোটা নাদুস-নুদুস একটা বাচ্চার। তোমার মেয়েটা সেই চরিত্রে একদম পারফেক্ট সিলেকশন হবে।
কোনো কিছু সাত-পাঁচ না ভেবেই আমি বললাম—কোনো অসুবিধে নেই হুমায়ূন ভাই। আপনার যখন দরকার তখন যাবে নদী। কবে লাগবে বলেন, আমি পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা করবো।
হুমায়ূন ভাই বললেন—না। তুমি এখনই রাজি হয়ো না। তোমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলো, তারপর আমাকে জানাও। কারণ তুমি যতো সহজে হ্যাঁ বলে দিলে তোমার স্ত্রী হয়তো সেটা বলবেন না। আমার নাটকে পিচ্চি মেয়েটাকে নিয়ে কিছু ফান থাকবে। নাটক অন এয়ারে যাবার পর রাস্তা-ঘাটে লোকজন ওকে দেখলে কমেন্ট করবে। মজা করবে। তোমার স্ত্রী হয়তো সেটা মানতে পারবেন না। আফটার অল মা তো।
আমি বললাম—কথা সত্য। ঠিক আছে, আমি আপনাকে আগামীকাল জানাচ্ছি।
হুমায়ূন ভাই খুব খুশি হলেন—আমার নাটকের জন্যে তোমার ছোট্ট মেয়েটাকে আমার দরকার শুনে তুমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেছো দেখে খুব ভালো লাগলো। তোমাকে তো পুরোটা বলিনি। এই নাটকে তোমার মেয়েটা প্রচুর কলা খাবে আর চড় খাবে। ওর মা লাকি ইনাম ওকে কথায় কথায় চড় দেবেন। সেটাও তোমার স্ত্রী মানতে পারবেন কিনা জেনে নিও।
এবার আমি দমে গেলাম হুমায়ূন ভাইয়ের কথায়—বলেন কী! বারবার চড় খাবে মেয়েটা! তাহলে তো ওর মায়ের আগে আমিই পিছিয়ে যাবো…
টেলিফোনের অপর প্রান্তে হাসতে হাসতে হুমায়ূন ভাই বললেন—চিন্তা করো না, লাকি ইনাম মানুষ খারাপ না। চড় খুব আস্তেই মারবেন হাহ্ হাহ্ হা।
সেদিন দীর্ঘক্ষণ আমি আর শার্লি কথা বললাম ব্যাপারটা নিয়ে। আমাদের দু’জনার আলোচনা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো নদী। শার্লি দ্বিধায় পড়ে গেছে, রাজি হবে কী হবে না! যে মেয়েটাকে আমরা জীবনে একটা চড়ও দিইনি, সেই মেয়েটাকেই অন্য আরেকজন মহিলা সমানে চড় মারবে!
আমি বললাম—হুমায়ূন ভাই বলেছেন লাকি ইনাম মহিলা খারাপ না। চড় খুব আস্তে মারবেন। কিন্তু শার্লি তাতেও কনভিন্সড হয় না। মায়ের মন।
নদীর মতামতের বিষয়টা জানতে চাইলে দেখা গেলো সে রাজি। শুধু রাজিই না, মহা আনন্দিত সে। ওর স্কুলের বন্ধুরা সবাই ওকে টিভিতে দেখবে—তাতেই সে ব্যাপক উৎফুল্ল। কায়দা বুঝে শার্লিকে পরাস্ত করতে গণ-ভোটের আয়োজন করা হলো। ভোটার সংখ্যা তিন। নদী আমি আর শার্লি। নদী নাটকটিতে অভিনয়ের ব্যাপারে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে হাত তুললো বিপুল উৎসাহের সঙ্গে। শার্লি হাত তুললো ‘না’ ভোটের পক্ষে। আমি হাত তুললাম ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। সুতরাং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলো।
নদী সিরিয়াস আর্টিস্টের মতো রিহার্সাল আর শুটিং-এ ব্যস্ত হয়ে পড়লো। নদীর চাইতেও ব্যস্ত হয়ে পড়লো শার্লি। কারণ শিশু শিল্পীর মা হিশেবে ওর রিহার্সাল রেকর্ডিং, জামা কাপড় কস্টিউমের কনটিনিউটি ইত্যাদি ব্যাপারে সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়লো শার্লির ওপর। আমি শুধু প্রথম দিন স্ক্রিপ্ট ও চরিত্র বন্টন ও আনুষঙ্গিক ব্যাপারে হুমায়ুন ভাইয়ের ধানমন্ডির বাড়িতে ডাকা শিল্পীদের বৈঠকে নদী আর শার্লিকে নিয়ে গিয়েছিলাম। হুমায়ূন ভাই তাঁর বাড়িতে বিখ্যাত সব অভিনয় শিল্পীদের চেয়ার বা সোফায় না বসিয়ে ফ্লোরেই বসিয়ে ছিলেন। নিজেও বসেছিলেন ফ্লোরে।
অতঃপর এক পর্যায়ে শুরু হলো রেকর্ডিং পর্ব। ডিএফপির শুটিং জোনে সেট ফেলা হলো ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকের। বিশাল দোতলা বাড়ির সেট। আবুল হায়াত আর দিলারা জামান পরিবারটির বাবা মা। তাঁদের পুত্রকন্যাদের তালিকায় জাহিদ হাসান, আজিজুল হাকিম, শমী কায়সার এবং লাকি ইনাম। এই লাকি ইনামের দুই কন্যা এক পুত্র। তাঁর দুই কন্যার একজন আমাদের নদী। নাটকেও নদীর চরিত্রটির নাম হুমায়ূন ভাই ‘নদী’ই রেখেছেন। নদীর বাবার চরিত্রটি করেছিলেন আবদুল কাদের।
বাংলাদেশে তখন টিভি চ্যানেল বলতে বিটিভি-ই ছিলো সবেধন নীলমনি। নক্ষত্রের রাত প্রচার শুরু হলে সত্যি সত্যি ব্যাপক সাড়া পড়ে গিয়েছিলো। দর্শকরা খুব আগ্রহ নিয়ে তখন হুমায়ূন আহমদের নাটক দেখবেন বলে টিভি সেটের সামনে বসে থাকতেন।
আমাদের ছোট্ট মেয়েটা রীতিমতো স্টার হয়ে উঠলো। নদীকে সঙ্গে নিয়ে ইস্টার্ণ প্লাজা–নিউমার্কেট যেখানেই যাই আমরা, চারিদিকে সচকিত মানুষদের বিপুল উৎসাহ তৈরি হয় ওকে ঘিরে। তরুণদের জটলা থেকে কমেন্ট উড়ে আসে—‘মামা কলা খাবে?’ (নাটকে এই সংলাপটা ছিলো নদীর, আজিজুল হাকিমের উদ্দেশে।) লোকজনের এইরকম হুলুস্থুল কাণ্ডকীর্তি নদী খুব উপভোগ করতো। সারাক্ষণ ওর মুখে লজ্জা মাখা হাসি লেপ্টে থাকতো। একটা সময়ে এসে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ালো যে ভিড়-ভাট্টায় আমার হাত ধরে আমাকে আড়াল হিশেবে ব্যবহার করে তারপর আমাদের সঙ্গে হাঁটতো নদী মার্কেট ও শপিংপ্লাজাগুলোতে।
একটা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে আমরা তিনজন খেতে গেছি, বিল মেটানোর আগে ম্যানেজার একটা কার্ড নিয়ে এলেন নদীর জন্যে—‘তুমি আমাদের রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছো, আমরা খুবই খুশি হয়েছি। এই কার্ডটা একটা বিশেষ ডিসকাউন্ট কার্ড। অনারেবল অতিথিদের আমরা এই কার্ড দিয়ে থাকি। তুমি যখনই আসবে ২০% ডিসকাউন্ট পাবে তোমার সঙ্গে আসা সবাই।’ কী যে খুশি হলো নদী সেই সম্মানটুকু পেয়ে!
আমরা তিনজন বেড়াতে গেছি কক্সবাজার। বিকেলে সমুদ্র সৈকতে হাঁটছি আমরা। কিছুক্ষণ পর পর একেকটা পরিবার কিংবা একেকটা গ্রুপ এসে আবদার করে—‘নদী আমরা তোমার সঙ্গে একটা ছবি তুলি?’
হাসিমুখে নদী সম্মতি জানায়। এভাবে ধুমসে চলছিলো ছবি তোলা পর্ব। এক পর্যায়ে আমি কিছুটা মন খারাপ ভঙ্গি করে নদীকে বললাম, ‘দেখেছিস সবাই তোকেই চিনতে পারছে। আমাকে কেউ চেনে না। কেউ আমার সঙ্গে ছবিও তুলতে আসে না। তুই আমার থেকেও বিখ্যাত।’
আমার কথাটাকে সিরিয়াসলি নিলো নদী। এরপর যারাই আসে ওর সঙ্গে ছবি তুলতে নদী ওদের জানিয়ে দেয়—‘এই যে ইনি আমার বাবা লুৎফর রহমান রিটন। খুব বিখ্যাত ছড়াকার। আপনারা তাঁর সঙ্গেও ছবি তুলুন।’
ছবি তুলতে আসা লোকজন তখন বলে—‘নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই আসেন আসেন ভাই আপনিও আসেন।’ আমি মুখে একটা অটোমেটিক হাসি ফিট করে একই ফ্রেমে ওদের সঙ্গে দাঁড়াই। নদী খুশি হয়। যাক, ওর বাবার একটা হিল্লে হলো!
আমাদের তিনজনের কতো স্মৃতি এই নক্ষত্রের রাতকে ঘিরে। কতো রৌদ্রময় উজ্জ্বল দিন আমরা পার করেছি। কষ্টও ছিলো কিছু নক্ষত্রের রাতে।
একটা কষ্টের ঘটনা বলি।
শুটিং চলাকালে এক রাতে শার্লি ডিএফপি থেকে নদীর সঙ্গে খুব মন খারাপ করা চেহারা নিয়ে ফিরলো। কাহিনি কী? শার্লি দেখলাম গজগজ করছে রাগে। আরে ঘটনা বলবি তো?
শার্লি বললো—ওই বজ্জাত মহিলা লাকি ইনাম আজ আমার মেয়েটাকে সাতটা চড় মেরেছে!
নদীর কাছে বিস্তারিত শুনলাম। ডায়লগ দিতে ভুল করছিলেন তিনি বারবার। শট এনজি হচ্ছিলো। দৃশ্যটা ছিলো নদীকে চড় মারার। সাতবারের মাথায় তিনি শটটা ওকে করাতে পেরেছিলেন। আর এইভাবে সাতবার নিষ্ঠুর মহিলার রাম চড় খেয়েছে বেচারা নদী। শার্লি তো কেঁদেই ফেললো—তুই না বলেছিলি মহিলা আস্তে চড় মারবে? আস্তে তো মারেনি। ঠাস ঠাস করে শক্তি প্রয়োগ করে চড় মেরেছে মহিলা। আশ্চর্য! এই মহিলার কি একটুও মায়া নেই বাচ্চাদের ব্যাপারে!
এইবার একটা সুখের স্মৃতি।
নাটকের শুটিং শেষে হুমায়ূন ভাই আর্টিস্টদের ডিনারে ডেকেছেন তাঁর বাড়িতে। শিশুশিল্পীদের বাবা-মায়েরাও আমন্ত্রিত। রাতে বিখ্যাত বাবুর্চির রান্না করা বিরিয়ানির ভোজ হবে এবং সম্মানির টাকা হিশেবে একটা খাম তুলে দেয়া হবে শিল্পীদের হাতে। শিশুশিল্পীরাও পাবে সেই খাম। নদীর খুব আগ্রহ দেখা গেলো সেই ডিনারে যাবার ব্যাপারে। আমি তখন আমার পত্রিকা ‘ছোটদের কাগজ’ নিয়ে মহাব্যস্ত। শার্লিকে সেই পার্টিতে যাবার ব্যাপারে গোপনে আমার অনাগ্রহের বিষয়টা জানিয়ে রাখলাম। কারণ—পার্টিতে যাওয়া মানেই টাকা নেয়া। আমি হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে টাকা নিতে চাই না। পার্টিতে অনুপস্থিত থাকলে টাকা নেয়ার ব্যাপারটা এভয়েড করা যাবে।
সেদিন আমি বাড়ি ফিরেছি বেশ রাত করে। দেখি আমার গুটলু মেয়েটা মন খারাপ করে বসে আছে।
পরদিন রাতে বাড়ি ফিরে আমি হইচই বাঁধিয়ে দিলাম—নদী নদী কোথায় রে মামনি আয় আয় এদিকে আয়।
পাশের কামরা থেকে নদী এলো ঠিকই কিন্তু ‘বাবার আগমনে’ প্রতিদিনের মতো উচ্ছ্বসিত নয় সে। তার মন খারাপ। আমার ওপর তার প্রচন্ড অভিমান। আমার কারণে হুমায়ূন আঙ্কেলের বাড়ির পার্টিতে যাওয়া হয়নি ওর। খাওয়া হয়নি বিরিয়ানি। পাওয়া হয়নি খাম। সুতরাং অভিমান তো করবেই।
আমি পকেট থেকে একটা খাম বের করে নদীকে দিলাম। খামের ওপর লেখা—‘নদী,শিশুশিল্পী, নক্ষত্রের রাত।’ খামটা হাতে নিয়েই নদীর অভিমানী মুখটা আনন্দে ঝলমল করে উঠলো—বাবা এইটা তুমি কোথায় পেলে?
আমি বললাম—কালকে হুমায়ূন আহমেদের পার্টিতে তুই যাসনি দেখে আজ এই খামটা একটা লোককে দিয়ে আমার অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছেন হুমায়ূন ভাই। আমি জানি না খামের ভেতরে কি আছে। তোর নাম লেখা তো তাই খুলিও নি। তুই-ই খুলে দ্যাখ।
বিপুল উৎসাহে খামটা খুলতে লেগে পড়লো নদী। আঠা দিয়ে খামের মুখ বন্ধ করার পরেও স্কচ টেপ দিয়ে ওটাকে কঠিন ভাবে মোড়ানো হয়েছে। খোলা সহজ নয়। শার্লি ওকে সাহায্য করলো। খাম খুললে দেখা গেলো ওর ভেতরে চকচকে একশো টাকার নোটের একটা বান্ডেল। এতোগুলো টাকা নদী গুণতে পারবে না। আমি তাই গুণে দিলাম। দশ হাজার টাকা। নদীর আনন্দ দেখে কে! এই টাকা দিয়ে সে কি কি করবে তার একটা মৌখিক পরিকল্পনা সে সাজিয়ে ফেললো মুহূর্তেই। এখান থেকে মাকে কিছু টাকা দেবে। বাবাকেও দেবে কিছু। তারপর তিনজনে মিলে চায়নিজ খেতে যাবে। বাবা বিল দেবে না। বিল দেবে নদী। এরপরেও যদি কিছু টাকা বেঁচে যায় তাহলে ইস্টার্ণ প্লাজায় গিয়ে কিছু খেলনা কিনবে।
সেই রাতে আমাদের ডায়নিং টেবিলটা অন্যরকম আলোর বন্যায় হেসে উঠলো। অনেকগুলো উইন্ডচাইম যেনো বাজছে কোথাও। খেতে খেতেই নির্ধারিত হয়ে গেলো—আগামীকাল রাতেই আমরা চায়নিজ খেতে যাবো। এই প্রথম নদী আমাদের চায়নিজ খাওয়াবে ওর নিজের টাকায়। ওর আনন্দটা তাই সবচে বেশি।
রাতে ঘুমুতে গেলাম অনেক প্রশান্তি নিয়ে। আমার মেয়েটার অভিমানী চেহারাটা সারাদিন আমাকে কষ্ট দিচ্ছিলো। ব্যাংক থেকে নতুন টাকার একটা বান্ডেল সংগ্রহ করে অফিসে বসে একটা খামে পিওনকে দিয়ে ‘নদী,শিশুশিল্পী,নক্ষত্রের রাত’ লিখিয়ে সেই খামে টাকাগুলো ভরে প্রথমে গাম দিয়ে খাম বন্ধ করে তারপর স্কচ টেপ দিয়ে ওটাকে কঠিন ভাবে আটকে নিয়েছিলাম। মানুষের জীবনের অনেক গোপন রহস্য থাকে। সেই রহস্য কোনোদিন উন্মোচিত হয় না। আমার জীবনের এই ঘটনাটাও তেমনি। এমনকি শার্লিকেও বলিনি আমি। আজই প্রথম জানবে শার্লি। এই লেখাটি যদি নদীর চোখে পড়ে, তাহলে নদীও জেনে যাবে সেদিন ওর বাবা মিথ্যে বলেছিলো। হুমায়ূন আহমেদ ওকে কোনো টাকা পাঠাননি। বাবাই নিজের টাকাগুলো হুমায়ূন আহমেদের নাম করে তুলে দিয়েছিলো ওর ছোট্ট এইটুকুন হাতে। টাকার উৎসটা মিথ্যে ছিলো কিন্তু আনন্দটা মিথ্যে ছিলো না। স্বল্প আয়ের মধ্যবিত্ত্ব এক বাবা সেদিন দশ হাজার টাকার বিনিময়ে তার কন্যার ‘দশ লক্ষ টাকার আনন্দ’ কিনেছিলো। প্রাপ্তি হিশেবে সেটাও কী কম!
অটোয়া, কানাডা
