দূর থেকে কতো ভুল দৃশ্যই না রচিত হয়!!
জীবনে একবারই সুযোগ হয়েছিল মহাশূন্যে ঘুরে বেড়ানোর – অসীম আকাশে!
সাথে ছিলো একটি বই, কিছু ড্রাই ফুড, পানি আর কিছু ব্যক্তিগত সরঞ্জাম। মহাশূন্যে যাবার আগে কিছু প্রস্তুতি লাগে, বিশেষত শারীরিক সক্ষমতা অর্জনের জন্য। সেসব না হয় করা গেলো। ও আরেকটা বিষয় লাগবেই, সেটা হলো সাহস।
মহাশূন্যে যাবার পর যেটা সবার আগে মনে হয় সেটা হলো বিচ্ছিন্নতা। মনে হয় আমি কি আর পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারবো? দ্বিতীয়ত দেহ হয়ে পড়ে নির্ভার। পানিতে ডুব দিলে এক আঙ্গুলের ওপর শরীরের ভার বহন করা যায়। আর মহাশূন্যে একেবারেই নির্ভার।
নীলিমায় নক্ষত্র বীথির শান্তি- এটি একজন নামকরা কবির কবিতা থেকে নেয়া। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় আকাশে নক্ষত্র রাজির মধ্যে ভেসে বেড়ানোতে বোধহয় এক ধরনের অদ্ভুত শান্তি আছে। অথচ চোখ বন্ধ করে যখন ভাবি তখন ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ ভয়াবহ লাগে! গ্রাভিটি সিনেমায় এই ভয়াবহতার কিছুটা পরিচয় মিলে।
তারমানে মহাশূন্যে গভীর অন্ধকারে বাতাসহীন পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো। ধরে নিলাম সাথে অক্সিজেন মাস্ক ও সিলিন্ডার আছে। আছে প্যারাস্যুট আর এক বোতল পানি। তারপরও এক তারার থেকে আরেক তারার দূরত্ব তো অনেক। ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অথচ আশ্চর্য এই ভয়াবহ পরিবেশ টাকে কবির কাছে কতো রোমান্টিক!!
আবার মহাশূন্যে থেকে পৃথিবীর সমুদ্রকে মনে হয় অনাবিল নীল রঙের এক স্বপ্নীল সমারোহ। কিন্তু কাছে এসে সেই অতলান্তিক সমুদ্রে ঝাঁপ দিলে বরফ শীতলতায় নির্ঘাৎ মৃত্যু।
তাহলে কি ভয়াবহ পরিবেশ সুদূর থেকেই সুন্দর??
পুনশ্চ: গল্পের শিরোনাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস থেকে নেয়া

