
অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও কানাডা ডের মাধ্যমে গ্রীষ্মের সূচনা হয়েছে এবং পর্যটন খাতের প্রত্যাশা মহামারিবিধ্বস্ত খাতটির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বয়ে আনবে এটি। নতুন কোভিড-১৯ ভ্যারিয়েন্টের কারণে গৃহীত জনস্বাস্থ্য বিধিনিষেধ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের ভ্রমণের জন্য প্রতিবন্ধক হওয়ায় খাতটির ঘুরে দাঁড়ানোর গতি শ্লথ হয়ে গেছে। কিন্তু সংক্রমণ কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিধিনিষেধ শিথিল করায় দেশজুড়ে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
বাড়তি চাহিদা পূরণে কর্মী খুঁজে পাচ্ছে না অনেক ট্যুর অপারেটর। হোটেলগুলোতেও অথিতি মহামারি পূর্ববর্তী অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ট্যুরিজম অটোয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথেরিন ক্যালারি বলেন, এই গ্রীষ্ম হবে পুনরুদ্ধারের গ্রীষ্ম।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে কানাডার পর্যটন শিল্পের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে আশা দেখা গেলেও স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার উপাত্ত বলছে, পুনরুদ্ধার সম্পূর্ণ হতে এখনও অনেক বাকি।
অভ্যন্তরীণ পর্যটনের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখঅ যায়, মার্চে ভ্রমণ ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন কার্যক্রম মহামারি-পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে ৫৭ শতাংশ কম ছিল। ক্যালারির হিসাব বলছে, মহামারির কারণে অটোয়া পর্যটন খাতে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি হারিয়েছে। হোটেল কক্ষের চাহিদাা বাড়লেও এখনও তা মহামারি পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ নিচে আছে। ট্যুরিজম অপারেটররা গত দুই বছরে যে রাজস্ব হারিয়েছেন তা পুনরুদ্ধার করতে পারছেন না তারা। কিন্তু আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি। আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি।
নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপক‚লে তিমি দেখতে আটলান্টিকের জলে যাত্রীবোঝাই নৌকা ফিরে এসেছে। সেইন্ট জন’সের দক্ষিণে গ্যাথেরাল’স পাফিন অ্যান্ড হোয়েল ওয়াচের পরিচালক মাইক গ্যাথারেল বলেন, ব্যবসা বাড়ছে। ৩৮ বছরের পারিবারিক ব্যবসাটির জন্য ২০১৯ সাল ছিল দারুণ একটা বছর। কিন্তু ২০২২ সাল তাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বুকিং প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এ বছরটা সত্যিই খুব ব্যস্ততার। ভালোভাবেই খাতটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মহামারির পুরো সময়জুড়ে সরকারের সহায়তা ও কিছু সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা খাতটিকে কর্মী ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। তবে চ্যালেঞ্জ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নৌকা পরিচালনাকে ব্যয়বহুল করে তুলছে। ভাড়া গাড়ির ঘাটতি গ্রাহকদের শহর থেকে গ্রামীণ উপক‚লে আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
ডেস্টিনেশন টরন্টোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়েইর বলেন, টরন্টো এরিয়াতে জুনে হোটেল অকুপেন্সি হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। মহামারি শুরুর পর এটাই প্রথম।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকরা গত এপ্রিলেই ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ বার কানাডা ভ্রমণ করেছেন, ২০২১ সালের এপ্রিলের তুলনায় যা ৮ গুন বেশি। তবে ২০১৯ সালের ট্রিপের অর্ধেক।
