
কিছু দিন আগে আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় বয়োজোষ্ঠ( অনুমতি নেইনি বলে নাম উল্লেখ করলাম না ) টেলিফোন করলেন । কিছু দিন আগে উনার একটা অপারেশন হয়েছে । কুশল বিনিময় কালে জানতে পারলাম উনি এখন মোটামুটি সুস্থ্য আছেন । তবে সম্পূর্ণ সুস্থ্য হতে বেশ কিছু দিন আরো লাগবে । আমি উনার সঙ্গে ফেসবুকে সংযুক্ত থাকার দরুন উনার লেখা পড়ার সুযোগ ও সৌভাগ্য হয়ে থাকে । দীর্ঘ দিনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন । উনার লেখা পড়ে অনেক সময় আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েছি , আবার নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক সুদূরে নিজের কোন স্মৃতির মধ্যে ডুব সাতার দিয়ে এসেছি । অনেক সময় তীব্র আবেগের তাড়নায় চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছে । সুতীক্ষ্ণ জীবনবোধের বর্ণনার মধ্যে এক ধরনের মায়াবী হাতছানি আছে । নিজেকে হারিয়ে ফেলার একটি আহ্বান আছে ।
তিনি কথা প্রসঙ্গে বললেন , বয়স্ক মানুষ দেখলেই তিনি তাদের সঙ্গে জমিয়ে কথা বলেন , কারন বয়স্ক মানুষদের মনে অনেক ধরনের এবং বিচিত্র সব গল্প জমা হয়ে আছে । জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে যে জীবন শেষ প্রান্তে এসে থেমে যায় সেখানে অফুরন্ত গল্প জমা হয়ে থাকে । সেই গল্প গুলি শুনতে পারার মধ্যে তৃপ্তি আছে , আছে নিজের স্মৃতির সঙ্গে মিতালী করার মত আনন্দ অনুভূতি ।
যাই হোক, তাঁর মনে এক অদ্ভুত খেয়াল এসেছে এবার । আমি শুনে বেশ চমৎকৃত হলাম ! তিনি বললেন , মানুষ তাঁর জীবদ্দশায় মৃত্যুর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসতে পারে কিনা । সেটির প্রচেষ্টা কেউ করেছেন কিনা , এমন কোন অভিজ্ঞতা কি আছে ? তিনি তাঁর অপারেশনের সময় শৈল চিকিৎসকের কাছে এই অভিপ্রায়ের কথা ব্যক্ত করলেন । এনেস্থেশিয়ার ক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মৃত্যুর কোন অনুভূতি, অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব কিনা তা তিনি শৈল্য চিকিৎসকের কাছে বললেন । শৈল্য চিকিৎসক তাঁকে পূর্ণ এনেস্থেশিয়া দিবেন বলে জানালেন । এক পর্যায়ে অপারেশনের অংশ হিসাবে এনেস্থেশিয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হলো । তিনি বললেন , সব ইন্দ্রিয় আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে গেল । এক পর্যায়ে সমস্ত বোধের বাইরে চলে গেলেন তিনি । সেখানে কিছুই আর অনুভব কর সম্ভব ছিল না ।তিনি পুরোপুরি চেতনার বাইরে চলে গেলেন । সেই চেতনার বাইরের জগতটি জানা সম্ভব ছিল না। সেটি কি মৃত্যু অনুভূতি ? চেতন জগত থেকে অচেতন জগতে চলে যাওয়া আবার অচেতন জগত থেকে চেতন জগতে ফিরে আসার মধ্যবর্তী যে সময় তাকে তো জানা গেল না ! সেটি কেমন ? কি তার রূপ ?
আমি আশা করি এক দিন তিনি এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন । হয়ত জীবদ্দশাতেই ।
টরন্টো, কানাডা
