
কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জানিয়েছেন যে দেশটি নৌ-ক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১২টি নতুন সাবমেরিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করছে। এই সিদ্ধান্তকে দেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে কানাডার নৌবাহিনী সীমিত সংখ্যক পুরোনো সাবমেরিনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মন্ত্রী ব্লেয়ার বলেন, “আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্ব ক্রমেই বেড়ে চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলতে থাকায় নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পদের ওপর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী সাবমেরিন বহর অপরিহার্য।”
বর্তমানে কানাডার নৌবাহিনীতে চারটি ভিক্টোরিয়া-শ্রেণির সাবমেরিন রয়েছে, যা ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্য থেকে কেনা হয়েছিল। তবে এই সাবমেরিনগুলো প্রায়শই রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সেবা থেকে বাইরে থাকে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরেই নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন সংগ্রহের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার সরকারের ঘোষণার মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, নতুন ১২টি সাবমেরিন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি সমুদ্র টহল পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ে আসবে। এর মধ্যে কিছু হবে ডিজেল-ইলেকট্রিক চালিত, আবার কিছুতে থাকবে উন্নত এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন (AIP) ব্যবস্থা, যা দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম। ফলে কানাডা শুধুমাত্র আর্কটিকেই নয়, বরং আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও কার্যকর টহল দিতে পারবে।
এই প্রকল্পে ব্যয় হবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, যা আগামী কয়েক দশক ধরে কানাডার প্রতিরক্ষা বাজেটে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। তবে সরকার মনে করছে, এটি শুধুমাত্র নিরাপত্তার জন্য নয়, অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। সাবমেরিন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশীয় শিপইয়ার্ড ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
যদিও এই ঘোষণাকে অনেকেই প্রশংসা করেছেন, সমালোচকরা ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কানাডার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সাবমেরিন সংগ্রহের ফলে কানাডার নৌসীমা নিরাপত্তা এবং আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাবশালী উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। এটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং কানাডাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, ১২টি আধুনিক সাবমেরিন সংগ্রহের ঘোষণা কানাডার প্রতিরক্ষা নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি শুধু আর্কটিকের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি খাত ও কর্মসংস্থানেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
