
তথ্য জানার অধিকার বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মানুষের মৌলিক অধিকারের বিষয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ইতিহাসের বিভ্রান্তি সৃষ্টি অথবা ইতিহাসের সত্য থেকে জাতিকে দূরে সরিয়ে রাখা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি সাধারণ চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিন্তা ও মানবিকতার দিক থেকে পৃথিবী এগিয়ে চলেছে; পক্ষান্তরে বাংলাদেশে তথ্য-অধিকারের মতো মানবিক বিষয়েও চলছে চলচাতুরি। যা নয়, তা বলা সঠিক তথ্য প্রদান না করার সামিল। অথবা চাতুরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করাও এর আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী বা ৭৫তম প্রাতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রের শিরোনাম : ‘সংগ্রাম সংকল্প সতত শপথে জনগণের সঙ্গে’ – কথাটির সাথে এই রাজনৈতিক দলটির ঐতিহ্য এবং বর্তমান অবস্থান নিয়েই আজকের আলাপ।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন গঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’; পরবর্তীকালে ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বর্জন করা হয়। এবং স্বাধীন বাংলাদেশে এটি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম ধারণ করে। ২৫ জানুয়ারি ১৯৬৬ তে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত হন এবং ১৮ জানুয়ারি ১৯৭৪ ওই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রবাসে থাকাকালে শেখ হাসিনা দলটির সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হারিয়ে পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। তিনি দেশে প্রত্যবর্তন করেন ওই বছরের ১৭ মে। সেই থেকে লাগাতার তিনি দলটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। দলের গণতন্ত্রহীনতার নেতিবাচকতা ক্রমে দেশের রাজনীতির ওপর চেপে বসেছে এবং এককথায় রাষ্ট্রের সর্বত্র একক আধিপত্য, কর্তৃত্ব ও আবেগের প্রাধান্য স্থান করে নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সম্বন্ধে অনলাইন তথ্য-ভান্ডার ইউকিপিডিয়া বলছে: ‘One of the two most dominant parties in the country, along with its archrival Bangladesh Nationalist Party, it has been the ruling party since 2009, and has since been described as authoritarian.’ Authoritarian-শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো – ‘কর্তৃত্ববাদ’। জার্মানে জন্মগ্রহণকারী স্প্যানিশ সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জুয়ান লিনজ ১৯৬৪ সালে এক গবেষণায় এই কর্তৃত্ববাদের ৪টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ১. সীমিত রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, যা আইনসভা, রাজনৈতিক দল এবং স্বার্থগোষ্ঠী বা ইন্টারেস্ট গ্রুপের সীমাবদ্ধতার সাথে অর্জিত হয়; ২. সামাজিক সমস্যা, অনুন্নয়ন, বিদ্রোহ প্রভৃতি বিষয়গুলোকে আবেগের ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক বৈধতা প্রদান; ৩. ন্যুনতম রাজনৈতিক সংহতি এবং শাসন-বিরোধী কার্যকলাপের দমন এবং ৪. অ-সংজ্ঞায়িত নির্বাহী ক্ষমতা, প্রায়শই অস্পষ্ট ও স্থানান্তরিত, নির্বাহী ক্ষমতা প্রসারিত করতে আগ্রহী বা অভ্যস্ত। তাহলে দেখা যাচ্ছে অনলাইনে থাকা তথ্যভা-ারের সাথে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল বিবৃতির মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। দলটি ঘোষণা দিয়ে বলছে যে, তারা জনগণের সঙ্গে রয়েছে – সংগ্রামে ও শপথে। কিন্তু বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত ওয়েব থেকে জানা যাচ্ছে দলটি ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে জনগণের স্বার্থ এমনকি সাধারণ চিন্তা-প্রকাশের অধিকারকেও ক্ষুণ্ন করে চলেছে। অবশ্য ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পূর্ববর্তীকালের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও ভূমিকা অবশ্যই ইতিবাচক ছিল। পাকিস্তান-বিরোধী আন্দোলন পরিচালনায় এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় ৪ নেতাসহ দলটির বিপুল ভূমিকার কথা অনস্বীকার্য। যদিও ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত’ মুক্তিযুদ্ধে ৭জন বীরশ্রেষ্ঠই বিভিন্ন বাহিনির সদস্য কেন, সে প্রশ্ন রয়ে গেছে এবং ওই-বিষয়ে আলাদা গবেষণা হতে পারে। সামাজিকভাবে বাস্তবতা হলো – দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলটি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে এসে নানান অপকর্ম এবং ব্যর্থতার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ; প্রতিষ্ঠা ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫) গঠনের মাধ্যমে যে স্বৈরতান্ত্রিক ধারণার জন্ম দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাতে জনমনে অস্বস্তি আসে। আর এর পরের ইতিহাস তো সকলেরই জানা।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট মুজিব হত্যার পর দলটি প্রায় ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। প্রায় ৭ বছর বিরতির পর ২০০৯ সালে পুনরায় রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে আসে বৃহত্তর এই রাজনৈতিক দলটি। কিন্তু পতিত স্বৈরাচারের সাথে জোটগঠনের ফলে বিশ্লেষক মহলের বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয় আবারও। আশির দশকে যে জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ-এর সাথে আঁতাত করে এরশাদের স্বৈরশাসনকে প্রলম্বিত করতে সহায়তা করেছিল আওয়ামী লীগ, সেই জামায়াতের প্রতি হঠাৎ অপ্রত্যাশিত বিরাগ এবং ক্ষোভও সাধারণ জনগণের কাছে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। আর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘একতরফা’ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ^-পরিসরে ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বিরুদ্ধে ‘গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ’ (Democratic backsliding)-এর অভিযোগ দৃঢ় হয়। ইউকিপিডিয়ার বিবৃতি: Since 2009, when the Awami League came to power, Bangladesh has experienced democratic backsliding.’ কার্যত, ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ ধীরে ‘সীমিত গণতন্ত্র’ প্রভৃতি রূপ ধারণ করে ক্রমে ক্রমে পেছনের দিকে ধাবিত হতে থাকে আওয়ামী লীগের লাগাতার শাসনামলে।
এবার আসা যাক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী বা বয়সের প্রসঙ্গে। খুব সাধারণ কিন্তু অ-উল্লেখিত প্রশ্নটি হলো – আওয়ামী লীগ নামক এই দলটি কি তার জন্মলগ্ন থেকে ধারাবাহিকভাবে ৭৫ বছর অতিক্রম করেছে? আওয়ামী লীগের প্রকৃত বয়স হিসাব করার আগে দেখে নেওয়া যেতে পারে বাকশাল সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
১. ‘ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মুখে, ২৮ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালে, মুজিব জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ তারিখে সংসদের মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী উত্থাপন করেন। সংশোধনীটি সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এটি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করে দেয় এবং মুজিবুরকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (সংক্ষেপে ‘বাকশাল’) গঠনের কর্তৃত্ব দেয়, যা বাংলাদেশের জাতীয় দলে পরিণত হবে।’ (ইউকিপিডিয়া);
২. ‘১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাকশাল বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে বাকশালের সাথে মিশে যাওয়া সব রাজনৈতিক দল আবার স্বাধীন হয়ে যায়।’ (ইউকিপিডিয়া) – এইসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কার্যত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ছিল না এবং ১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক গণতান্ত্রিক পরিবেশ উন্মুক্ত হলে অন্যান্য দলের সাথে আওয়ামী লীগও রাজনীতি করার সুযোগ লাভ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের বহুল আলোচিত ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত ‘বহুদলীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে এক-দলীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল’। আওয়ামী লীগসহ মোট ৪টি দল (কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-মুজাফফর, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ) তখন একীভূত হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগের আলাদা কোনো অস্তিত্ব থাকে না। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ পর্যন্ত মার্শল ল বা সামরিক আইন তথা সামরিক শাসন প্রচলিত ছিল। ‘১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বহুদলীয় রাজনীতি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং মুক্ত বাজার এবং জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।’ তাহলে দেখা যায়, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে জিয়া বহুদলীয় রাজনীতি ওপেন করার আগ পর্যন্ত এদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকা- পরিচালিত হয়নি। কাজেই আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত বা নতুনভাবে গঠিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে – এটিই সামাজিক বাস্তবতা। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জাতীয় ও অপরাপর কমিটি এবং রাজনৈতিক কর্মকা- বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ বিষয়ে না কোনো গবেষক না কোনো রাজনৈতিক কর্মি নিবিড়ভাবে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া সম্পূরক কতগুলো প্রশ্নও এখানে উত্থাপন করা যেতে পারে।
যেমন: ১. বাকশাল গঠনের ফলে আওয়ামী লীগ যে বিলুপ্ত হয়েছে, তার অর্ডার বা নির্দেশনা আছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর দলটি (অন্যান্য দলও) কোন অর্ডারে কাজ শুরু করেছে? ২. প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমেদ (১৫ আগস্ট থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫) এবং প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (৬ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭)-এর সময়ে কি কোনো রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল?
৩. আওয়ামী লীগ কি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, না-কি নতুনভাবে গঠিত হয়েছে? ৪. পুনর্গঠন হয়ে থাকলে তা কখন, কীভাবে হয়েছে? – বাংলাদেশের ইতিহাসে এগুলো একেবারেই অমীমাংসিত বিষয়। হয়তো কেউ কেউ ভাববেন, এসব আলাপের কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই; অনেকে মনে করতে পারেন আমি হয়তো কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এইসব প্রশ্ন তুলছি। কিন্তু যদি শাদা চোখে দেখা যায়, তাহলে অনুধাবন করা যাবে যে, বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস এমনকি আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও সত্যকে ধারণ করতে হলে এই রহস্যের অনুসন্ধান এবং সত্য উদঘাটিত হওয়া প্রয়োজন।
বিচিত্র সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত জনবিরোধী কাজের জন্য আওয়ামী লীগ বিতর্কিত ছিল। আশির দশকে নতুন করে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে স্বৈরাচার হুসাইন মুহম্মদ এরশাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে দলটি – যা ছিল জনবিরোধী। কারণ এরশাদের সামরিক শাসন দেশের জনগণ প্রথম থেকেই মেনে নিতে পারেনি। যদিও আওয়ামী লীগ ১৯৯০-এর স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনে বিএনপিসহ অন্যান্য প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সহযোগী হয়েছিল কিন্তু ২০০৯ সালে পুনরায় পতিত স্বৈরাচারকে আশ্রয় করে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জনগণের সাথে প্রচ্ছন্নভাবে প্রতারণারই পথ অবলম্বন করেছে। এবং গত প্রায় ১৫ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকারকে লুটে নিয়ে নানান কৌশলে এরশাদের দল জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ববাদী শাসন চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের জাতীয় নির্বাচনে অধিকাংশ নাগরিক ভোট বর্জন করে আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্নতাকে বিশ্ববাসীর কাছে দৃশ্যমান করেছে। কাজেই প্লাটিনাম জয়ন্তীতে যে প্রচারণা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ – জনগণের সঙ্গে রয়েছে বলে দাবি করে, তার কোনো ঐতিহাসিক ও সামাজিক সত্যতা নেই। বরং বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীতে। বাংলাদেশের জনগণের সাথে এই চলচাতুরির ফলাফল দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য খারাপ কিছু বয়ে আনতে পারে। কেননা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান শাসন-দমনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে রয়েছে।
টরন্টো, কানাডা
