কানাডার প্রাইভেট সেক্টরে কর্মসংস্থানে নতুন ধারা: বড় কোম্পানিগুলো চালু করল ফ্লেক্সিবল ও হাইব্রিড কর্মপরিকল্পনা

কানাডার প্রাইভেট খাতে এক নতুন কর্মসংস্থানের ধারা শুরু হয়েছে যা দেশটির শ্রমবাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে

কানাডার প্রাইভেট খাতে এক নতুন কর্মসংস্থানের ধারা শুরু হয়েছে, যা দেশটির শ্রমবাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা কর্মীদের জন্য ফ্লেক্সিবল, হাইব্রিড এবং অন-ডিমান্ড কর্মপরিকল্পনা চালু করতে যাচ্ছে। এই নতুন মডেলকে শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন “কর্মসংস্থানের নতুন যুগের সূচনা”।

কানাডার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রাইভেট সেক্টরে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ কর্মী কাজ করছে। মহামারির পর থেকে দূরবর্তী কাজের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও, এখন অনেক প্রতিষ্ঠান হাইব্রিড মডেল বাস্তবায়ন করছে। এই মডেলে কর্মীরা সপ্তাহে নির্দিষ্ট কিছু দিন অফিসে উপস্থিত থাকবেন এবং বাকি দিনগুলো বাসা থেকে কাজ করবেন। প্রায় ৬৫% কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে এই ধরণের হাইব্রিড বা ফ্লেক্সিবল কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করবে।

- Advertisement -

নতুন কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কর্মীরা স্বল্পমেয়াদি বা প্রকল্পভিত্তিক চুক্তিতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, টরন্টোর একটি বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী বছর ২,০০০ কর্মীকে ৩ থেকে ১২ মাস মেয়াদি অন-ডিমান্ড কন্ট্রাক্টে নিয়োগ দেবে। একইভাবে, ভ্যাঙ্কুভারের একটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা তরুণ কর্মীদের জন্য ফ্লেক্সিবল কর্মঘণ্টার পাশাপাশি পার্ট-টাইম রিমোট ওয়ার্কও চালু করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নতুন ধারা দেশে শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মিলেনিয়াল ও জেনারেশন জেড প্রজন্মের কর্মীরা ফ্লেক্সিবল কর্মপরিবেশকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৪% তরুণ কর্মী উচ্চ বেতনের চেয়ে কর্মপরিবেশ ও সময়ের স্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো এই নতুন মডেলের মাধ্যমে তরুণ কর্মীদের আকৃষ্ট করতে পারছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ফ্লেক্সিবল ও চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তাকে দুর্বল করতে পারে। এতে কর্মীদের জন্য পেনশন, স্বাস্থ্যসুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ইতোমধ্যেই সরকারের কাছে দাবি তুলেছে যে, এই ধরণের কর্মীদের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক যাতে তাদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকে।

অন্যদিকে, নিয়োগকারীরা মনে করছেন, ফ্লেক্সিবল কর্মপরিকল্পনা তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং খরচ কমাবে। অফিস স্পেস রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমবে, আবার কর্মীদের সন্তুষ্টিও বৃদ্ধি পাবে। অনেক প্রতিষ্ঠান বলেছে, এই মডেল অনুসরণ করলে দক্ষ কর্মী ধরে রাখা আরও সহজ হবে।

সব মিলিয়ে, কানাডার প্রাইভেট সেক্টরে কর্মসংস্থানের এই নতুন ধারা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি যেমন কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা, সামাজিক নীতি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জও বয়ে আনছে। আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা দেশের শ্রমনীতি, কর্পোরেট সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামোতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন পুরো শ্রমবাজারের নজরে।

- Advertisement -

Read More

Recent