
জনরোষ দমনের জন্য পুলিশের কাছে বেশ কিছু অস্ত্র আছে। যেমন:
১) রাবার বুলেট
২) জলকামান
৩) সাউন্ড গ্রেনেড
৪) সত্যিকারের বুলেট বা গুলি
উপরে উল্লেখিত চারটি অস্রের মধ্যে ৪ নং টি ছাড়া বাকী গুলির ব্যবহারে সাধারণত মৃত্যু হয় না। এগুলি শুধু জনরোষকে নিবৃত করার জন্য কিংবা মবকে ছত্রভংগ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
টিয়ার গ্যাসে সেল নিক্ষেপ করলে চোখ জ্বালপোড়া সহ প্রচন্ড গ্যাসের কারনে দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়, সেই কারনে কেউ টিয়ার গ্যাসের মধ্যে পড়লে সে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। দলবদ্ধ মবকে যত্র ভংগ করার এটি একটি মোক্ষম অস্ত্র।
জলকামান দিয়ে বিক্ষোভরত জনতার উপর গরম পানি নিক্ষেপ করা হয়। এই গরম পানি অসহনীয় মাত্রার গরম পানি কিন্ত ফোসকা কিংবা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হবার সম্ভাবনা নাই। তবে অসহনীয় মাত্রার গরম হবার কারনে মানুষ এই জলকামানের বিরুদ্ধে বেশিক্ষন দাড়িয়ে থাকতে পারে না। সে স্থান ত্যাগ করে।
সাউন্ড গ্রেনেড দেখতে গ্রেনেডের মতই কিন্তু এই গ্রেনেডে কোন বিস্ফোরণ হয় না, শুধুমাত্র প্রচন্ড সাউন্ড হয়। পুলিশ এই গ্রেনেড জনবিক্ষোভকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে এবং কোন রকম বিস্ফোরণ ছাড়াই প্রচন্ড শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। এটিও প্রতিবাদ, বিক্ষোভ যত্রভংগ করার জন্য বেশ কার্যকর অস্র। তবে এর ব্যবহারে মৃত্যু হবার সম্ভাবনা নাই।
পুলিশের আরেকটি বেশ effective অস্র হচ্ছে রাবার বুলেট। এই বুলেট মেটাল মেইড না। রাবারের বুলেট। কাউকে এই রাবার বুলেট গুলি করলে সে প্রচন্ড ব্যথা পাবে কিন্তু মৃত্যু হবে না। এই রাবার বুলেটও পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে যত্রভংগ বা নিবৃত করার জন্য ব্যবহার করে।
আর শেষ অস্র হচ্ছে বন্দুকের গুলি। গুলি করলে মৃত্যু অবধারিত। তবে পুলিশের হাতে থাকা এই অস্রটি হচ্ছে একেবারেই লাস্ট রিসোর্ট। অর্থাৎ পুলিশ একেবারে বাধ্য না হলে গুলি করার নিয়ম নাই। খুব সম্ভব গুলি করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডার লাগে। সেল্ফ ডিফেন্স করার ক্ষেত্রেও পুলিশ গুলি করতে পারে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর আক্রমণ করলে জীবন বাচাতে পুলিশ গুলি করতে পারে। তবে পরবর্তীতে সেই পুলিশকে গুলি করার কারন ব্যাখ্যা করতে হয়।
পুলিশকে উপরে উল্লেখিত অস্রগুলি ব্যবহার করতে হলে প্রশিক্ষন নিতে হয়। প্রশিক্ষণ ছাড়া পুলিশ এই অস্রগুলি ব্যবহার করতে পারে না।
উদাহরণস্বরূপ, টিয়ার গ্যাসের সেল সরাসরি মারার নিয়ম নাই। কারন, টিয়ার গ্যাসের সেল সরাসরি মানুষের গায়ে লাগলে মৃত্যুও হতে পারে। পুলিশ সাধারনত জনবিক্ষোভকে টার্গেট করে টিয়ার গ্যাস সেল সরাসরি না মেরে উপরের দিকে শুট করে এবং সেলটি নিদিষ্ট স্থানে পড়ার পর চোখ জ্বালাপোড়া করা ধোঁয়া বেরিয়ে আসে।
রাবার বুলেট মারারও নিয়ম আছে।ভুলভাবে মারলে বা কাউকে টার্গেট করে একাধিক রাবার বুলেট মারলে মৃত্যু হতে পারে। আবার শরীরের ঝুঁকিপূর্ন স্থানে রাবার বুলেট আঘাত করলেও মৃত্যু হতে পারে। যেমন, কারো বুকের খুব কাছাকাছি লাগলে মৃত্যু হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বুকের নিচেই তো হৃদপিন্ড। রাবার বুলেট যদি হৃদপিন্ডের ঠিক বহিরাবরনে আঘাত করে তবে মানুষ মারা যেতে পারে।
এই বৃহৎ বর্ননার কারন হচ্ছে,শুধুমাত্র সত্যিকারের বুলেটেই যে মানুষ মারা যায় তা নয়, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস সেলের আঘাতেও মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
বাংলাদেশের পুলিশ যে রকম মারমুখী এবং যুদ্ধংদেহী অবস্থায় থাকে তাতে করে তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী জনবিক্ষোভ ছত্রভংগ করতে এই অস্ত্রগুলি সঠিকভাবে ব্যবহার করে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকতে পারে।
এই কারনে পুলিশের দ্বারা কোন মৃত্যু হলে প্রতিটি লাশের ময়নাতদন্ত হওয়া জরুরী। ময়না তদন্ত হলে বুঝা সম্ভব মৃত্যুটা কিভাবে হয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশে এই সব ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাল্টে দেওয় সম্ভব। সেক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত করে লাভ নেই।
স্কারবোরো, কানাডা
