
কোটা আন্দোলনে হতাহতদের বিচার চেয়ে সারাবিশ্বে মুক্তমনা সংস্কৃতি কর্মীরা যে ছাত্রদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবাইকে একচক্ষু দৃষ্টি দিয়ে বিচার করে রাজাকার, জামাত, বিএনপি ও সরকার বিরোধী আখ্যা দিয়ে আরো একটা ভুল করবেন না। বরং সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করার মতো নানান অগ্রগতির মাঝেও এমন কিছু লাগামহীন দুর্নীতির বেপরোয়া ও নির্লজ্জ প্রকাশে বিবেকবান সাধারণ মানুষ চরমভাবে বিরক্ত। তাছাড়া যে কোন রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকারের সভাসমাবেশ করতে উপর্যুপরি বাঁধা দেওয়ার অপ্রকাশিত ক্ষোভও এই আন্দোলনের মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে৷ হতাহত ছাত্রদের বিচার চেয়ে সংস্কৃতি কর্মী ও নানান পেশার মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিচার প্রাপ্তি আমি নিজে দেখেছি আমার পাশে দাঁড়ানো যে নেতা, পেশাজীবি, সংস্কৃতি কর্মী চিৎকার করে তার ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তাঁদের সারাজীবনের কয়েকটি স্থিরিকৃত ফলক আছে – ৫২, ৭১, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ। অতএব, ছাত্রদের কোটা আন্দোলনে বিভিন্ন দাবীর প্রতি সংহতি জানানো লক্ষকোটি মানুষকে একচক্ষু দৃষ্টি দিয়ে জামাত শিবির রাজাকার আখ্যা দিয়ে প্রতিপক্ষ বানাবেন না।
প্রকৃতপক্ষে সরকারের প্রধান থেকে একেবারে নিম্নস্তর পর্যন্ত প্রতিটি কর্মচারীর কাছে সাধারণ মানুষ অথবা অন্য যে কোন দল বা আদর্শের নেতাকর্মীরা কোন তাচ্ছিল্য আশা করে না। কোন একক দল ধর্ম বর্ণ বা আদর্শ দিয়ে শুধুমাত্র একটি পরিবার চলতে পারে। কোন আদর্শবান সমাজ চলতে পারে না। রাষ্ট্র তো অবশ্যই চলতে পারে না। শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, এই বিষয়টি প্রতিটি দেশে, সমাজে, সংগঠনে প্রযোজ্য। অতএব, শুধুমাত্র নিজের দল নয় অপরাপর দলকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল তখনই তার কাছে আপনার জন্য সম্মান, নিরাপত্তা, জানমালের দায়িত্ব বরাদ্দ থাকবে।
কোটা আন্দোলনে নিহত ছাত্রদের জন্য আমরা সবাই মর্মাহত। ক্ষুব্ধ। আমরা দ্রুত বিচার চাই। কোন অবস্থাতেই শুনতে চাই না, নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় কী। এগুলো থাক সরকারের তদন্ত কমিটির কাছে অথবা পুলিশের রিপোর্টে। মানুষ দেখতে চায় সরকার হতাহতের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। খুব কষ্ট হয় সন্তানহারা মায়ের শোকস্তব্ধ মুখচ্ছবিটির কথা ভেবে৷ কিন্তু তারচেয়ে বেশী উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের আগামী দিন নিয়ে। যতক্ষণ না দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের স্বস্তি নাই। শান্তি নাই।
প্রতি মুহূর্তে প্রার্থনা করছি বাংলাদেশে শান্তি ফিরে আসুক। মানুষ পরস্পরকে বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন দিয়ে বলুক, রাজনৈতিক দল বা আদর্শের চেয়ে দেশ বড়। তারচেয়ে বড় মানুষের প্রতি মানুষের মায়া ও ভালোবাসা।
টরন্টো, কানাডা
