সিলেট টু টরোন্টো…

সিলেট টু টরোন্টো

এভাবেই কাটছে সময়। এভাবেই যেন সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে আর পুরনো স্মৃতিগুলো যেন ততই জীবন্ত নিকট থেকে নিকটতর হচ্ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ #কানাডা কানাডার টরোন্টো “তে আজকাল কত কিছু মনে ভেসে উঠে। সিলেটের পায়রায় ও মদিনা মার্কেট ও জল্লারপার দীর্ঘদিন ছিলাম, বাসা থেকে বের হয়েই লাক্কাতুরা ঘুরতে যাওয়া বন্ধু দের নিয়ে বাসায় আড্ডা দেয়া সহ কত স্মৃতি।

এক যুগের ও বেশি সময় কাটিয়েছি জিন্দাবাজার আমার অফিস হওয়ার সুবাদে মোটরসাইকেল ও রিক্সার টুংটাং শব্দ গাড়ির হর্ন এর মাঝে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের বিরক্তিকর ও যানজটের নগরী, মানুষ যখন জীবনের স্বাচ্ছন্দের প্রত্যাশায় পাড়ি দেয় নিজ দেশ ছেড়ে আর চলে আসে সপরিবারে বা একা উন্নত দেশে উন্নত জীবনের আশায় কত শত স্বপ্ন বুনে আগামীর জন্য। অথচ দিন মাস বছর চলে যাওয়ার পরও দেশের বাইরের অপূর্ব সুন্দরের মাঝেও পুরনো স্মৃতি যখন মানুষের মনে নাড়া দেয়। তখন সে আর উন্নত দেশের উন্নত জীবনকে সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না।

- Advertisement -

যে জায়গায় ছোট থেকে বড় হয়েছি, কাজ বলি আর বন্ধু বান্ধব যেখানে জীবনের হাঁটাচলার হাতে খড়ি, ছোট্টবেলার খেলাধুলা ফেঞ্চুগঞ্জ জন্মস্থান হলেও বেড়ে ওঠা শমসেরনগর। এই বছরের জানুয়ারী তে দেশ ত্যাগ করা হয়ত আর দেশে যাওয়া হবে না। এখন প্রতি দিন আশায় আছি কবে এই দেশ এর নাগরিকত্ব পাবো।বাংলাদেশটাকে অনেক দূরে মনে হয়, মাত্র তেইশ ঘন্টার একটা ফ্লাইট, যেখানে গেলে মাটির গন্ধ বা আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব পাওয়া যায়। যে রাস্তায় হাঁটলে ছোটবেলার স্মৃতি ফিরে পাওয়া যায় যে জায়গা গুলোতে বসলে শৈশব কৈশোর এবং যৌবন মনে পড়ে এখানে আর যাওয়া হবে না, কত দিন পর যেতে পারবো তাও আর কোন ঠিক নেই। দেশ থেকে আসার কয়েক মাসের মাথায় অনেক কিছু হয়েছে অনেক পরিবর্তন। আমারও সময় ফুরিয়ে আসছে তবুও মনে হয় উন্নত জীবনের আশায় এসেছি উন্নত দেশে কিন্তু মন তো পড়ে আছে আমার সেই প্রিয় দেশে।

আবেগ দিয়ে জীবন চলে না, কিন্তু আবেগকে তো এড়ানো যায় না আবেগ থেকে যায় হৃদয়ের মাঝে, এবং বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই জীবন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের জোর কমে যাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে কেমন যেন উন্নত দেশের পরিবেশের মধ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি সময়ের সাথে। বাংলাদেশের সমস্ত উদ্ভট খবর শুনে শুনে নিজের মধ্যে আতঙ্ক গড়ে উঠছে প্রতিনিয়ত, তাই আজকাল ইচ্ছাটাও দিন দিন মরে যাচ্ছে। দেশে যদি কেউ অসুস্থ হয় তাহলে কি দ্রুত চিকিৎসা পাবে নিশ্চয়ই না, বরঞ্চ বাণিজ্য হবে। কল করলে কি এম্বুলেন্স আসবে প্যারামেডিক্স ঘরে বসে প্রাথমিক জরুরী ট্রিটমেন্ট দিবে নিয়ে যাবে সিরিয়াস হলে হসপিটালে তারপর হেলথ কার্ড নিয়ে চিকিৎসা সেরে বাসায় চলে আসব বিনে পয়সায়?

প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে দিবে ফ্যাক্স করে বা ই-মেইলে, যদি এই গ্যারান্টি না থাকে তাহলে দেশে কেন যাবে মানুষ। তবে কি এটা আমার মনের ভয় নাকি বাস্তবতা ? স্কয়ার হসপিটাল, ল্যাবএইড এ সমস্ত নামিদামি হসপিটালের বিষয়ে যখন উদ্ভট খবর গুলো দেখি তখন আতঙ্ক কাজ করে যে কারো। আজকাল তো প্রায়ই দেশের বাইরে মানুষ ট্রিটমেন্ট করে গিয়ে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আসলে কারো আস্থা নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলার কোন বালাই নেই প্রিয় মাতৃভূমিতে। তাই হয়তো এতটাই দুর্বল দেশ…

সভ্য বা সভ্যতা কবে আসবে কে জানে… আমরা মনেপ্রাণে চাই একটা সভ্য দেশ সব্য জাতিতে পরিণত হোক প্রিয় বাংলাদেশ। এখানে সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক সুচিকিৎসার ও শিক্ষার সু ব্যবস্থা হোক। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য বাইরের দেশে না যেতে হয়,এমনটাই প্রত্যাশা করি।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent