
এখন শিবির প্রকাশ্যে আসছে। তাদের মুখোশ উন্মোচন করছে। এই নিয়ে শোরগোল। অনেকে অবাক ও বিস্মিত হচ্ছেন। আমি মোটেও বিস্মিত নই। পূর্বে, জুলাই মাসে কোন এক স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম, ‘ছাত্রদের এই আন্দোলনে জনতার পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মীরাও আছে। ‘
বাস্তবতা ছিল। কিন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তারাই পরিচালনা করেছে। তারাই সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছে। সেখানে কে ছাত্রদল, কে শিবির, কে বাম সংগঠন করে সেটা তৎকালীন বাস্তবতায় কেউ খুঁজে দেখেনি। সবার একটাই লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন।
এখনকার বাস্তবতা ভিন্ন। ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের এই প্রেক্ষাপটে সবাই মন খুলে কথা বলছে। স্বাধীন মতামত দিতে পারছে। আমি, আপনি পছন্দ করি বা না করি সেখানে জামায়াত-শিবির কেন চুপ থাকবে, লুকিয়ে থাকবে? তারা তো তাদের স্বরূপে আবির্ভূত হবে, সেটা স্বাভাবিক নয় কি?
প্রশ্ন হচ্ছে, গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুন: প্রতিষ্ঠায় আপনি তাদের কতটুকু স্পেস দিবেন নাকি ফ্যাসিজমের চর্চা করবেন?
একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আজকে এই জামায়াত-শিবিরের আর্বিভাব হবার পিছনে দায়ী কে বা কারা?
তাহলে ঘটনার পরিস্কার একটা চিত্র চোখের সামনে চলে আসবে। গত পনেরো বছরের অধিককাল ক্যাম্পাসে, হলে কোথাও ভিন্নমত গ্রাহ্য করা হয়নি। সরকারী ছাত্রসংগঠনের হামলা,সন্ত্রাসে ক্যাম্পাসে কেউ দাঁড়াতে পারেনি। সাধারণ ছাত্র হতে শুরু করে সমাজের বিভিন্নস্তরে মানুষের কন্ঠরোধ করা হয়েছে। সেই সব বিষয়ে সবাই জানেন। এখানে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়ার কিছু নেই। শুধু শিবিরের কথাটাই চিন্তা করেন। ছাত্রলীগের হাজার সন্ত্রাসের মধ্যেও তারা ঠিকই সংগঠন গুছিয়েছে। ক্যাম্পাসে কামড়ে পড়েছিল (এখন তো এসব প্রকাশ হচ্ছে।)। সাংগঠনিক কৌশল ঠিক করে ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে তারা অবস্থান করেছে। যা করতে পারেনি ছাত্রদল বা বাম ছাত্রসংগঠনগুলো।
ফ্যাসিবাদের স্টিমরোলার যতবেশী চলবে, পিঠ দেয়ালে ঠেকতে ঠেকতে মানুষ একটা সময় বিদ্রোহ করবেই। ইতিহাস তো তাই বলে। জামায়াত-শিবিরের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। সময় সুযোগ বুঝে তারা এখন প্রকাশ্যে আসছে। শিবিরকে নিয়ে শোরগোল করার আগে নিজেদের ব্যর্থতাগুলো খুঁজে বের করা জরুরি নয় কি?
যখন তাদের রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন ছিল,তখন শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে তাদের জিয়িয়ে রেখেছিল। সাধারণ মানুষের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটায়নি। আবার জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিষিদ্ধ করার অপকৌশল মানুষ ভালভাবে নেয়নি। এমন কি আমরা যারা সারাজীবন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়ে এসেছি।
আমরা কেন ভুলে যাই, তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে..। এর জন্য দায়ী বিগত সময়ের সকল শাসকগোষ্ঠি। তাদের কারণেই এরা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। আমাদের গর্দান দেয়ার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে গেছে। এখন চিল্লাফাল্লা করে তাদের আরো বেশী শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভাবুন, কিভাবে উত্তরণ করা যায়।
যাহোক, এখন ভয়ই লাগে, চারিদিকে এতো ছদ্মবেশী, এতো বেশী অভিনেতা, কে যে কাকে কখন বিপদে ফেলবে বলা মুশকিল।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
