গুরুম গুরুম

গুরুম গুরুম

শিমুল বিসন্ন বোধ করছিল, বহুদিন পর লুবাকে মিস করছিল সে। কাল থেকে ভাবছে একটা ফোন দিলে কি খুব অন্যায় হবে? সেই যে ভাইভার পর দিন চলে গেল আর দেখা হয় নি কত বছর হবে? ৫/৬ । দুই একবার ফোন দিয়েছিল নিজে থেকেই । টুকটাক কথা সংসারের গল্প , এই । আজ শিমুলের ছন্নছাড়া লাগছে , ও ফোন দিলে কি খুব অন্যায় হবে, কেন হবে !ছেড়ে যাবার অধিকার শুধু মেয়েদের !কয়েক বার গত কালের মেয়েটাকেও মনে পড়েছে । মেয়েটা এক দৃশটিতে তাকিয়ে ছিল তার দিকে। ও কি চেনে তাকে?কিছু কি বলতে চাইছিল! লুবার সাথে কি ওর পরিচয় আছে? শিমুল শান্ত বোধ করল , ফোন দেবার কারন খুজে পেয়ে । ফোন দিতেই
মেয়ে পছন্দ হল?
তুমি চেন মেয়েটাকে ?
আশু , আমার রুমমেট।তুমি চিনতে পারনি?তার খুব মন খারাপ হয়েছে , তুমি ওর সাথে কথা বলনি তাই।

আচ্ছা, তাই পরিচিত লাগছিল।আর কি বলল?
আর কিছু না, এতদিন পর হঠাৎ মনে পড়ল ?
হঠাৎ আর কই , সব সময় মনের ভেতরেই থাক আজ বাইরে আনলাম।
লুবা চুপ হয়ে গেল। গত কাল থেকেই ভাবছিল শিমুলকে ফোন দেবে, আজ ও ফোন না দিলে হয়তো সে নিজেই ফোন দিত। আশুকে কেন বিয়ে করবে শিমুল? করবে না। আশু কেন!

- Advertisement -

কি ? চুপ করে গেল।
লুবা তবুও চুপ করে থাকল। আর একটা কল আসছে মনে হয় মিজান। আজ ফেরার কথা কিন্তু শিমুলের ফোন কাটতে ইচ্ছে করছে না।লুবা ফোন ধরে চুপ করে থাকল।

মাঝে মাঝে খুব অবাক লাগে জানো , কত দিন পর তোমার সাথে কথা হচ্ছে ! কিন্তু যেভাবে শুরু কর মনে হলো গত কালও কথা হয়েছে। এখন বল তোমার রুমমেট পাত্রী হিসেবে কেমন হবে?
লুবা কিছু বলার আগেই নাহার আপা এসে ফোন ধরিয়ে দিল মিজানের ফোন।শিমুল ফোন রেখে দিল।

ঝিরঝির খুব নরম বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিল , চোখে মুখে এসে লাগছিল বারবার। এই শহরের রুপ বদলেছে অনেক , তেমন কেউ নেই যার সাথে দেখা করতে ইচ্ছে করে কোন কারন ছাড়াই বেড়িয়েছে। রিক্সায় বসে থেকেই সজিবকে হেঁটে যেতে দেখল, ডাকবে কি না ভাবতে ভাবতেই রিক্সা ওকে পেরিয়ে গেল।ব্যস্ত ডাক্তার দেখা হয় না অনেক দিন, কথাও হয় না অনেক দিন ।সজিব ছোট ছিল বয়সে কিন্তু ছোট বেলায় এ পাড়ার দলের দুই ওপেনার ছিল তারা দুজন । সামনে গিয়ে রিক্সা ছেঁড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। খুব অগোছালো লাগছিল ছেলেটাকে চোখ মুখে রাজ্জের ক্লান্তি । শিমুলকে দেখতেই চিৎকার দিল । শিমুল খুশি হয়ে গেল। মনে হল বাকি দিনটা ভাল কাটবে।আসলে দুজন দুজনকে পেয়ে বেঁচে গেল।

আজ বাড়িতে শিমুলের সব ভাই বোনদের আসার কথা , চাচাতো খালাতো নিজের সবার আসার কথা শিমুলের আসার ১০ দিন হল। ছুটি ৩৪ দিন । ফ্লোরিডা ষ্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে phd করছে , শেষের দিকে খুব বেশি হলে আর বছর খানেক লাগবে।প্রতিবার দেশে আসে আর বিয়ের তোরজোড় শুরু হয়। যদিও এখনো ঠিক করেনি কি করবে । থেকে যাবে না ফিরবে । ইউনিভার্সিটির চাকরিটা আছে চাইলেই ফিরতে পারবে, মাস্টারি করতে খারাপ লাগেনা। গুগলে একটা অফার পেয়েছে গত কাল রাতে । কি করবে জানে না। তবে মজার বিষয় প্রত্যেক মেয়ের বাবা এই বিষয়ে সচেতন। গত ডিসেম্বারে তো খুব বাজে একটা ঘটনা ঘটল । মেয়ে দেখতে গেছে , প্লেন থেকে নেমেই। মেয়ে সৈয়দপুর আম আই এস টি তে পড়ে । অল্প কথা হল ,ব্যাগ গুছিয়ে সবাই গাড়িতে উঠতে সে আর মেয়ে হাঁটতে হাঁটতে এয়ার পোর্টের বাঁকটা পার হয়েছে ।গত মার্চ পর্যন্ত ফোনেও কথা হয়েছে। ভালই ছিল সুন্দর একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল তাদের । ঝামেলা বাধল জুনে বিয়ে করতে আসবে এই জন্য টিকিট কাটার খবর পাবার পর। তারপর জানল তার প্রেমিকের গল্প । টিকিট বাতিল করেনি , আর যোগাযোগ করার ইচ্ছে হয়নি । আব্বার কষ্ট খুব মন খারাপ ছিল কিছু দিন, মেয়ের বাপের সাথে তার ভাল একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল । শিমুলও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিল কিন্তু ফলাফল শুন্য।

সজিবকে নিয়ে বাড়িতেই ফিরল শিমুল । শিমুলের ছোট বোন লিলি , চাচাতো ভাই ফয়সাল সজিবের সাথে স্কুলে পড়ত । বাড়িতে আসতে সজিব না করল না । দুপুরে খেয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা দিল ।হালকা লাগছিল । লিলি এক ফাঁকে বলে গেল ‘ তোর বউ খোঁজ নেয় না তোর ? ফোন তো একবারও বাজল না! বউ কই রে?বাড়ি থাকলে ডাক দেখি একটু ।‘

শিমুল ভাইদের বাড়ির সবাইকে ছোটবেলে থেকেই তার খুব পছন্দ , পলাশ আপাকে বেশি। বাচ্চা দুইটা কত বড় হয়েছে ! মামা খালাদের আড্ডা থেকে তাদের তোলাই যাচ্ছিল না । আর পলাশ আপা দুলাভাইয়ের উপর চড়াও ।বেচারা বাচ্চা উদ্ধারে এসে নিজেই বসে গেছে। উঠবে উঠবে করছিল, আন্টি থামিয়ে দিল । সজিব বের হলো সারে ১১ টায়।বের হয়ে ঠিক করল প্রথমে রিমঝিমের সাথে কথা বলবে তারপর জড়ি ।

শিমুল , পলাশ আপার কাছে আশুর ফোন নাম্বার চাইতেই সে বিস্ফরিত হল। লিলি অবশ্য মজা পেল। মেয়ে দেখেনি সে কিন্তু তার সব সময় মনে হয়েছে ভাইয়ার জন্য এমন কাউকে লাগবে যে ঝুপ করে তার ভাইয়ের প্রেমে পড়বে আর উঠতে পারবে না । ডুবে যাবে। লিলি মনে মনে খুব চাইল । আশু নামের মেয়েটা ডুবে যাক ।

মিজানের রুমে ঢুকতে অনেক দেরি হয়েছিল গত কাল। শেষ দিন ছিল । বাড়িতে আর ফোন দেয়া হয়নি । সকালে ফোন হাতে নিতেই দেখে জড়ির ১০ টা মিস কল আর ছোট একটা ম্যাসেজ ‘ দাদা কবে ফিরবি”। গত ১৫ দিন এত ব্যস্ত ছিল কোথাও যেতে পারেনি, এর আগেও কয়েক বার দিল্লি আসেছে তাই কোথাও যাবার বা দেখার তারা নেই । কিছু কেনাকাটা করা যায়। লুবার ফোন খুজল , লুবা প্রয়োজন ছাড়া ফোন দেয় না।তাদের সম্পর্কটা যেন কেমন, খেই পায় না মিজান।এই যে মাঝে মাঝেই এখানে সেখানে যায় সে কখনো কিছু আবদার করে না, কিছু নিয়ে গেলে খুশি হয় কি না বুঝতে পারে না। লুবার মন যে কোথায় বাস করে সে খুজেই পায় না।লুবার সাথে তার দেখা তার এক বন্ধুর বিয়েতে প্রস্তাব সে নিজেই দিয়েছিল। যে আগ্রহ নিয়ে শুরুটা করেছিল সে আগ্রহে ভাঁটা পড়েছে অনেক আগে । এখন শুধু ভেসে বেড়ানো এক জনের পিছু পিছু অন্য জন। সে কোন কারন খুজে পায় না , কেন এমন !লুবা চাইলেই তাদের গল্পটা অন্য রকম হতো. ।এলোমেলো ভাবতে ভাবতেই ফোন দিয়ে দেখে ওয়েটিং ,দুবার তিনবার ধরল না ফোনটা । ভাল লাগছিল না।নাহার আপাকে ফোন দিল । আপাই লুবাকে ধরিয়ে দিল
বল…
কিছু না, তোমাদের কিছু লাগবে?
না, আম্মাকে বল কিছু লাগবে কি না। জড়ির কিছু হয়েছে ? আপা বারবার কখন ফিরব জানতে চাইছিল।
ফের তারপর । তোমার ফ্লাইট কখন?
দুপুরে , সকালে টিকিট পাইনি । শিলিগুড়ি হয়ে আসবো বাড়ি পৌছতে রাত হবে ।
ঠিক আছে।
মিজান কিছুক্ষণ চুপ করে জানতে চাইল, আমি ফোন দিচ্ছিলাম দেখতে পাও নি?
হু, কথা বলছিলাম।
লুবা, ভাল আছ তুমি?বাচ্চারা?
হ্যাঁ ।
লুবা, আমাকে নিয়ে তোমার কোন অসন্তুষ্টি আছে? কোন দ্বিধা ?কোন সমস্যা ?
না। ঠিক আছে সব, কোথাও কোন সমস্যা নেই ।
মিজান ফোন রেখে দিল, বড় একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসলো ভেতর থেকে । লুবা তার সামনে থাকে , কাছে থাকে না। মিজানকে ওকে খুজে পায় না।সম্পর্কটা কি শুকিয়ে গেছে? শুধু লুবা একটু চাইলেই গল্পটা অন্য রকম হতো । একদম অন্যরকম ।
বুড়িমারি ঢুকেই নাহার আপার কাছ থেকে সব শুনে নিল মিজান। বাড়ি পৌছতে পৌছতে রাত ১০টা । আব্বা আম্মা বসে ছিল কথা বলতে , জড়ি ওত পেতে বসে ছিল। বিয়েতে তার তেমন মত ছিল না কিন্তু মানাও করেনি । কথা বলতে ভাল লাগছিল না। সে লুবাকে খুজছিল , লুবা বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত। কারো সাথে কথা না বলে শুয়ে পড়ল মিজান।

সজিব বের হবার পর থেকেই শাহানা সুলতানার মাথা ঘুরতে শুরু করেছিল, রান্না করতে গিয়ে পরে গেলেন। রিমঝিম প্রেসার মেপে দেখে ৯০/৬০ । তখন থেকেই শুয়ে আছেন। জড়ির সাথে কথা হয়েছে কয়েকবার । সজিবকে ফোন পাওয়া যায়নি। রিমঝিমকে কি বলবে খুজেই পান না। রিমঝিম তার ভাজতি একমাত্র ভাইয়ের মেয়ে , এ বাড়িতে গত বছর এসেছিল কোচিং করতে সজিব বি সি এস এর পড়া নিয়ে ব্যাস্ত । মাঝে মাঝেই দুজন এক সাথে পড়তে বসতো । একদিন সজিবের বাবা ওদের একসাথে দেখে শাহানা সুলতানাকে বলেছিল ছেলের পাত্রী দেখ আর মেয়েটাকে এত মিশতে দিও না। তিনিও ভাবনায় পড়েছিলেন , রিমঝিমের মেডিকেলে হল না দেখে মনে মনে খুশি হয়ছিলেন ।ঢাকায় গিয়ে প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি হল। সজিবের ৪২ এ হয়ে গেল। সাথে সাথে তার মা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলো । শাহানার মাথায় হাত । কি করবেন! সজিবের আশেপাশে সব সময় রিমঝিমকে দেখা যায় । শাহানা পাত্রী দেখতে শুরু করলেন, প্রথম বার মেয়ে দেখে আসার পর বাড়িতে ভয়াবহ অবস্থা। রিমঝিম গিয়ে সজিবের ঘরে দরজা দিয়ে বসে থাকল । শাহানা অবাক হয়ে দেখলেন ছেলে তাদের কথা শুনছে না। সে এই মেয়েকেই বিয়ে করতে চায়।দুজনেই হতবাক হয়ছিলেন। একটাই সন্তান তাদের তাও কত সাধনার ।বিয়ের ১১ বছর পর সজিবের জন্ম আজমির গিয়েছিল মানত করতে চিকিৎসা তো চলছিলই । তারা দুজন সেই যে নিজেদের আঁকরে ধরেছিল এখনো ধরে আছে । সেই ছেলে…… ! ওর বাবা শুধু বলেছিল চাকরি হয়েছে । নিজেরটা দেখে নাও। আমরা বহু বছর তুমি ছাড়া একসাথে ছিলাম , বাকি জীবনও না হয় থাকব। পরদিন মা মেয়ে চলে গেল।

এইরকম দিনে জড়ির সাথে দেখা । নাহার RDA ট্রেনিং করতে আসলো ৭ দিনের জন্য । বাচ্চাদের দেখা করাতে জড়ি নিয়ে এসেছিল । সেখানেই দেখা। বাড়ি ফিরে সুইসাইডের ভয় দেখিয়েছিল ছেলেকে ১ মাসের মাথায় বিয়ে হয়ে গেল সজিবের।এই ৩ মাস যে কিভাবে কেটেছে এক উপরওয়ালা জানে। জড়ি লক্ষ্মী একটা মেয়ে , ওকে কিছু বলার মুখ নেই তার।কিন্তু এখন কী করবে!

গত কাল রিমঝিমকে দেখার পর থেকেই বারবার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল।একটাই তো ছেলে ।তার জীবনটাই এলোমেলো করে ফেলল ! কলিং বেলের শব্দ হতেই পায়ের শব্দ পেল ,রিমঝিম দৌড়ে যাচ্ছে দরজা খুলতে । আগেও এমন করত সজিব আসার সময় হলে দরজার সামনে ঘুর ঘুর করতো । শাহানা উঠলো না।মেয়েটা হরবর করে এটা সেটা বলে যাচ্ছে । সজিব মায়ের ঘরে ঢুকল ।বিছানার পাশে বসে রিমঝিমকে সামনে বসাল। হাত দুটো ধরে বলল

‘আমি তোকেই ভালবাসি রিমু । কিন্তু একটা ভুল হয়ে গেছে , জড়িকে আমি আমাদের মধ্যে নিয়ে এসেছি । ও নিজ থেকে আসে নাই। আমি চাই বা না চাই মেয়েটাকে আমার সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। তোকে ছেড়ে যাবার সুযোগ আছে , ও কে কিভাবে ছাড়ব ! তুই আমাকে মাফ করতে পারবি না?’
রিমঝিম হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ঝড়ের গতিতে বেড়িয়ে গেল।
সজিব গুটি শুটি হয়ে মায়ের পাশে শুয়ে পড়ল ।মা জানো , খুব ছোটবেলা মাঝ রাতে যখন ঘুম ভেঙ্গে যেত , আমি কান পেতে তোমাদের কথা শুনতাম। তুমি আর বাবা কথা বলতে আমি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম। সব বুঝতে পারতাম তা না।আমার ভাল লাগতো শুনতে।আমারও অমন একটা সময় পেতে ইচ্ছে করত। কই আমি তো পেলাম না!বাবা যখন শাহানা সুলতানা বলে ডাক দেয় আমার সব গুলো ইন্দ্রিয় এক সাথে জেগে উঠে আমিও তো অমন করে কাউকে ডাকতে চেয়েছিলাম! কই আমিতো পারি না…
শাহানা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। সজিবের বাবা এক কোনে বসে মা ছেলেকে দেখছিল।

শেরওয়ানির গালা চাপা লাগছে , এই কদিনে কি মোটা হয়েছে সে! ধুর নিজে গিয়ে মাপ দিল , উপরের বোতামটা খোলা রাখল । গত কদিন যে গরম ছিল সে চিন্তায় ছিল এই কাপড় কি ভাবে পরবে! কপাল ভাল আজ আবহাওয়া ভাল । সকালবেলা এক দফা বৃষ্টি হয়েছে ।আজকে তার বিয়ে ,আর ৬ দিন পর তার ফিরে যাওয়ার কথা। পলাশ আপা খুব অসন্তুষ্ট , লিলি অবশ্য খুশি ।আম্মা আব্বা মেনে নিয়েছে ছেলের ইচ্ছা। আশুর সাথে খুব একটা কথা হয়নি তার । মেয়েটা কথা কম বলে চুপ করে শোনে। কেন সে আশুকেই বিয়ে করবে বলে ঠিক করল বলতে পারবে না। মনে হয় লুবার সাথে একটা সংযোগ আছে তাই। গত কিছু দিনে লুবার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি ফোন বন্ধ ।মেইল করেছিল কার্ডের একটা ছবি । কোন উত্তর নেই। আবার ভাবছে এখন কি লুবাকে ভাবা ঠিক হচ্ছে!

গাড়িতে উঠার আগে সজিবের বউ জড়িকে দেখল , ছেলেটা কয়েক দিনে কেমন শুকিয়ে গেল। জড়ি আম্মা আপা সবার সাথেই আছে । সব চেয়ে লিলিকে আনন্দিত মনে হচ্ছে। গাড়ি ছাড়ার সাথে সাথে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি !

আশুর ঘুম ভেঙেছে বৃষ্টির শব্দে , উঠেই ছাদে গেছে হিম বরফের মত পানি শরীরে পড়ছিল । মনে হচ্ছিল হাত পা কেটে কেটে যাচ্ছে ।তারপর ভাল লাগছিল । কখনো কখনো বৃষ্টির দিন গুলো মায়াময় হয় । আজকের দিনটা তেমন। আজ তার বিয়ে।আম্মার চিৎকারে নিচে নেমে এসেছে ।পার্লারে বসে থেকেই বুঝেছে জ্বর আসছে , হালকা কাঁপুনি অনুভব করছিল। তবুও বারবার আয়নায় নিজেকে দেখছে আর অবাক হচ্ছে, কি সুন্দর লাগছে তাকে! স্বপ্নের মত কেটেছে গত কিছু দিন । শিমুল ভাই না শিমুল ফোন করে বলেছিল, আমি হ্যাঁ বললে আপনি কি হ্যাঁ বলবেন?
হাতে মাত্র ৬ দিন! হোক , ৬ দিন কম কি? কম না।সে এই লোকটার জন্য অনন্ত কাল অপেক্ষা করতে পারবে।বরের পাশে বসেই আশু বিশাল একটা হাঁচি দিল । শিমুল ভাল করে তাকাল আশুর দিকে , মেয়েটার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। টকটকে লাল , কিন্তু দৃষ্টি পরিস্কার। চোখ সরিয়ে নিল না। শিমুল একবারে অনেক কিছু দেখে ফেলল , এত গভীর !

সকালে উঠে শুনল , খালা আজ আসতে পারবে না। লুবাবার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল , মিজান ঢাকা যাওয়ার কথা ৯ টায় ফ্লাইট । সে প্রথমে দুধ পুড়িয়ে ফেললো , তারপর রুটি ,তারপর ভাজি । মিজান একটা ডিম খেয়ে বেড়িয়ে গেল। লুবার হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছিল । বড় ছেলের বয়স সারে ৪ ছোটটার ২ । কিছু দিন ধরে মন ছটফট করছে ভাল লাগছে না। মিজানের খোঁজ নেয়া হয় না, একসাথে দু দণ্ড বসা হয় না, মন ভাল না জেনেও পাশে দাঁড়ানো হয় না। তার ইচ্ছে করে না। সংসার তার বোঝা মনে হচ্ছে ।

মিজান এয়ার পোর্টে বসে বাড়ির ছবিটা মনে করছিল।লুবাকে কেমন উদ্ভ্রান্ত দেখাচ্ছিল । মেয়েটা সামনেই থাকে কিন্তু সাথে থাকে না। লুবাকে খুজতে খুজতে তার হয়রান লাগে। কোথায় সমস্যা ? লুবা কি অসুখী ? তাকে ভালবাসে না জানে কিন্তু কেন বাসে না তা জানে না। জড়িকে নিয়ে কত বড় একটা চিন্তা গেল লুবা নিরুত্তাপ । সজিবকে বুদ্ধিমান বলতে হবে , সে জড়িকে মানাতে পেরেছে। ছেলেটাকে শুরু থেকেই তার পছন্দ হয়নি , আপা আর আম্মার পছন্দ সে না করেনি । কিন্তু সজিব জড়িকে নিয়ে যেতে পারলো , এক ভনিতা ছাড়া সবাইকে মানিয়ে জড়িকে নিয়ে গেল। জড়িটাও চলে গেল। মিজানের খালি মনে হচ্ছে লুবা কেন এভাবে তার সাথে নাই! সে কেন একা ! অফিস এ ফোন দিয়ে পিয়ন লুতফাকে তার বাসায় যেতে বলল । সে না থাকলে মেয়েটা ওদের সাথে থাকে । একটা রাত কাল সকালেই ফিরবে । মিজান শুধু ভাবছিল সে কার কাছে ফেরে কোথায় ফেরে….

- Advertisement -

Read More

Recent