বিপরীত যাত্রা

বিপরীত যাত্রা

রাষ্ট্রপতি অপসারণের মতো হটকারি আয়োজনের অংশ না হওয়ায় বিএনপিকে অভিনন্দন! রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা যে অনেক পরিণত এবং নানাধরণের অংশীজনের আস্থা নিয়ে দেশ পরিচালনা করার জন্য নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলছে, সেটা ক্রমশঃ দৃশ্যমান। ২০০১ সালে জামাতের সাথে জোট গড়ার মধ্য দিয়ে তাদের যে ভুলের যাত্রা, তাতে শেষ পেরেক ঠুকেছিল ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্টে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা। এ ছিল রাজনীতির বিপরীত যাত্রা, সাথে যুক্ত হয়েছিল ভারতের বিরুদ্ধে প্রক্সিযুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠা। বলা বাহুল্য, এর মাশুল দলটিকে দিতে হয়েছে। শুধু বিএনপি তো না, দেশ হিসেবে বাংলাদেশও তার দাম দিয়েছে। ২০০৮ এর পর যা-তা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার মধ্যে রহস্য যদি কিছু থাকে, তো সেটা বিএনপির সেই অরাজনৈতিক কর্মকান্ড; যার সুযোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালের পর ভারতের সাথে প্রক্সিযুদ্ধে জড়ানোর আগে বিএনপির ওপর ভারতের আস্থা কোন অংশেই কম ছিল না। বিগত ১৫ বছর যার মেরামত হয়নি। ভারত কিংবা বিএনপি, কেউ-ই তেমনভাবে চেষ্টাও করেনি। শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত যে এত দ্রুত বিএনপির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং বিএনপিও তাতে সাড়া দেবে, শান্তি কাকু সহ হিজবুত তাহিরির প্রতারকগণ তা ধারণাও করতে পারেনি।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির ব্যাপকভিত্তিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বহুবার লিখেছি। তেমন কিছু কি সত্যি সত্যিই ঘটতে চলেছে?

- Advertisement -

রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নাই। আমার মতে, তেমন সমঝোতার পথে আওয়ামী লীগেই সমস্যা বেশি। সাম্প্রতিক পতনকে তারা কীভাবে মূল্যায়ন করে তার ওপর নির্ভর করছে দেশের তথা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত। অধিকন্তু, রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য যে প্রাজ্ঞতা লাগে, বর্তমান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের মাঝে তার অভাব তীব্র। ২১ আগস্টের ট্রমা থেকে শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার দায় বিএনপির। একে পাশ কাটিয়ে সমঝোতা টেকসই হবে না। ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতাদের অবস্থা ভালো না। ওবায়দুল কাদের নিজেকে জোকার বানানো কেবল না, রাজনীতিকেও মশকরা বানিয়ে ছেড়েছিল। ভদ্রলোককে কোনদিন প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে দেখিনি। বিএনপিতে আছে মীর্জা ফখরুলের মতো প্রাজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদ, যিনি সমঝোতাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম বলে বিশ্বাস করি। বিএনপির তরুণদের মধ্যে রুমিন ফারহানা ভালো করছে। তার সাথে বসতে ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা, বিশেষ করে মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী কিংবা বাহাদুর বেপারীদের দলের শীর্ষে জায়গা দিলে ভালো হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনা একান্তভাবে রাজনীতিবিদদের। রাজনীতিবিদ তো বটেই, শান্তিকাকুর হিজবুত তাহিরি গং যতদ্রুত তা বুঝতে পারবে, ততেই দেশের মঙ্গল।

 

ক্যালগেরি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent