ভারত-কানাডার রাজনীতি

ভারত কানাডার রাজনীতি

ভারত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র।

প্রথমত ভারত নিজের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। সাম্প্রতিক অতীতে সেটা বহুবার প্রমানিত। পৃথিবীর অন্যতম গোমাংস রপ্তানীকারক দেশ হওয়া সত্বেও শুধু গরুর মাংস খাওয়ার অজুহাতে ভারতে অনেক মানুষের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে। এরকম আরো নানা উদাহরণ দেয়া যাবে।

- Advertisement -

দ্বিতীয়ত নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি সাম্প্রদায়িক দেশ। ভারত তার নিজ দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অসংখ্য উদাহরণ আছে। অতি সম্প্রতি আজমীর শরিফ নিয়ে কাল্পনিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে যেটাতে ক্ষমতাসীনদের মদদ আছে মনে করার যৌক্তিকতা আছে।

তৃতীয়ত ভারত তার দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি রাষ্ট্রের দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এটা সুষ্পষ্ট রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যেটা সে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

চতুর্থত প্রতিবেশী কোন একটি দেশের সাথেও নরেন্দ্র মোদির ভারত সুপ্রতিবেশীর সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে নি। ভারতের পাকিস্তান এবং চীনের সীমান্তে আগে থেকেই যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান। শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ভারতের কাছ থেকে সরে গেছে বেশ আগেই। নেপাল ভুটানের মত রাষ্ট্রও ভারতকে এখন আর সুপ্রতিবেশী মনে করে না।

পন্চমত ভারত রাষ্ট্রীয় মদতে অন্য দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে নিজ দেশের স্বাধীনতাকামী প্রাক্তন নাগরিক হত্যার সুস্পষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত। কানাডার মত শান্তিপূর্ণ দেশের তরফে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে।এই ধরনের অভিযোগের ফলাফল প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য অপরিহার্য ক্ষতির কারণ এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধরনের একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক অপতৎপরতায় লিপ্ত। ভারতের এই অপতৎপরতা কেবল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে তাই-ই না, একটি অস্হিতিশীল আন্চলিক পরিস্থিতি তৈরি করবে যা ভারতকে দীর্ঘ মেয়াদী পরিনতির সম্মুখীন করতে পারে। অবশ্য নরেন্দ্র মোদীর ভারত এসব তোয়াক্কা করে এমনটা মনে হয় না।

আমাদের করনীয়: আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পশ্চিম এবং উত্তরের সীমান্তে যেটা অলরেডি বিরাজমান ভারত তার পূর্বান্চলে একটি যুদ্ধের মত পরিস্থিতি কোনভাবেই এফোর্ড করতে পারবে না। যদি তাই হতো শ্রীলংকাকে ভারত তাহলে হাতছাড়া হতে দিত না। নেপাল এবং ভূটানের পরিবর্তন মেনে নিত না। আমাদের বেলায় স্বজন হারানোর বেদনায় ভারত অতিপ্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় এই বেদনা উপশম হবে। আমাদের অতিপ্রতিক্রিয়ার দেখানোর কোন প্রয়োজন আছে সেরকমটা মনে করি না।

 

হ্যামিল্টন, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent