
আসুন প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিতে শিখি বিলাসিতাকে বা অপচয়কে নয় I
কেন তিন থেকে পাঁচ বছর পর পর নতুন মডেলের ফোন, ক্যামেরা, টেলিভিশন, নিত্য ব্যবহার্য ব্র্যান্ডেড জিনিসপত্র, ফার্নিচার, কম্পিউটার বা গাড়ি, বাড়ী কেনার জন্য অনেক মানুষের (সবার নয়) মন অস্থির হয়ে উঠে? কেন নতুন মডেলের ফোন কিনতে না পারলে বা আলিশান ঘর বাড়ী, ম্যাটেরিয়ালিস্টিক জিনিসপত্র কিনতে না পারলে মন খারাপ লাগে মানুষের– এই ভেবে যে ইশ! কিছুই করতে পারলাম না জীবনে !
আসলে পুরো বিষয়টিকে বা মানুষের মনোস্তত্ত্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে এক শক্তিশালী ইকোনোমিক আইডিয়া আর তা হলো “কোনসুমেরিসম ইকোনোমিক থিওরি” অর্থাৎ“বেশি বেশি ভোগ করো” বা “বেশি বেশি জিনিস কেন বা কনসিউম করো”বেশিরভাগ মানুষই এই ইকোনমিক থিওরিতে প্রোগ্রামড হয়ে গেছে I এটা পরিবর্তন করা খুব কঠিন হয়ে গেছে আজকের দিনে I
আমার দীর্ঘ বিশ বছরের প্রবাস জীবনে আমি বড় বড় শপিং মল গুলোতে ঢুকিনি বললেই চলে I আমাদের সংসারের ৯০ % জিনিসপত্র সেকেন্ড হ্যান্ড শপস ভ্যালু ভিলেজ থেকে কেনা I আমাদের বাড়ী,গাড়ি সবই পুরোনো I আমার এতে এতটুকুও দুঃখ নেই কারণ সজ্ঞানে নিজেকে একটু একটু করে “কোনসুমেরিসম ইকোনোমিক থিওরি”র বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে তৈরী করেছি I আমাদের আজও সংসারে ভোগ / বিলাসী শব্দের কোনো স্থান নেই আর সেটাই আমাদের গর্ব I নতুন বছরে যেন আরো কৃচ্ছতা সাধন করে জীবনকে সহজ বানাতে পারি, আত্মিক সমৃদ্ধির জন্য নিভৃতে আমরণ সাধনা করে যেতে পারি, সেটাই নিজেদের সাথে একান্ত প্রতিশ্রুতি I
ভোগের সংস্কৃতি সামাজিক অসমতা বৃদ্ধি করে যা অস্বীকার করবার কোনো উপায় নেই আর তাই নিজেদের আবিষ্কার করা অন্য জীবনপদ্ধতির কথা সবার সাথে শেয়ার করে গেলাম I না এতে কোনো লজ্জা নেই আমার । আমি বিশ্বাস করি সমাজে সমতা রক্ষা করতে হলে আধুনিক, রুচিশীল, শৈল্পিক এবং সাধারণ জীবনযাপনের কথা বলে যেতেই হবে।
N.B: ভ্যান্স প্যাকার্ড এর The Hidden Persuaders বইটা পড়াটা জরুরি I তিনি তাঁর বইতে বলেছেন মার্কেট পলিসি কিভাবে অর্থহীন ক্রয়কে উৎসাহিত করে, যা প্রয়োজনীয়তাকে না বরং বিলাসিতাকে প্রমোট করে।
ক্যালগেরি, কানাডা


