
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ থেকে মনে হয়েছে, মাইনাস টু বলতে তারা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে মাইনাস করা বুঝিয়েছেন।
এর কিছু যুক্তিও আছে।
বাংলাদেশে এই দুই দলই বেশির ভাগ সময় দেশ শাসন করেছে কিন্তু দুই দলই দেশে সুশাসন কায়েম করতে সক্ষম হয়নি। দুই দলই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। দুই দলই কম বেশি দুর্নীতি করেছে। দুই দলই দলিয়করনের রাজনীতি করেছে৷ ফলে দেশে কোন ভালো সিস্টেম দাঁড়াতে পারেনি বরং দুই দলই দেশের সমস্ত সিস্টেমকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তাই জনগনের একটি অংশের মধ্যে একটি তৃতীয় ধারার প্রত্যাশা জোরদার হয়েছে। জনগনের এই অংশটি মনে করে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বাইরে একটি নতুন ধারা আসুক যারা দেশকে সুশাসন দিবে এবং দেশকে একটি সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসবে। এই নতুন ধারা দেশে এমন একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করবে যাতে কোন সরকারই স্বৈরাচারী হতে পারবে না, সর্বস্তরে জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠিত হবে, কেউ দুর্নীতি করে পাড় পাবে না।
কিন্তু এই নতুন ধারা শক্তি সঞ্চয় করতে সক্ষম হবে না যত দিন বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে থাকবে।
তাই এই দুই দলকে মাইনাস করে দিতে পারলে তৃতীয় ধারা তাদের পথ করে নিতে পারবে এবং এটি করতে হবে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে। ক্ষমতার বাইরে থেকে এটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
জনগনের একটি অংশের মধ্যে উপরে যা উল্লেখ করেছি সেই রকম একটি প্রত্যাশা কাজ করছে৷
জুলাইয়ের ৫ তারিখ আওয়ামী লীগের পতন হবার পর বাংলাদেশের কোথাও আওয়ামী লীগের তেমন কোন অস্তিত্ব নেই। এমন কেউ নেই যে দলের পক্ষে হাল ধরবে, কথা বলবে।
আওয়ামী লীগের এই অবস্থা হবার পর একমাত্র বৃহৎ শক্তি হিসাবে মাঠে আছে বিএনপি নামক দলটি।
তাই বিএনপিকে যদি মাইনাস করা সম্ভব হয় তবে তৃতীয় শক্তিটি খুব সহজে বাঁধাহীনভাবে তাদের কাজ এবং উদ্দেশ্য এগিয়ে নিতে পারবে। বিএনপি মাঠে থাকলে প্রতি পদে পদে বাঁধা দিবে। তাই বিএনপিকে মাইনাস করা জরুরী।
এটি হচ্ছে মাইনাস টু ফর্মুলা।
কিন্তু এই মাইনাস টু বাস্তবায়ন করা কঠিন।
কারন, বিএনপি- আওয়ামী লীগ; এই দুই দল মিলে জনসমর্থন আছে ৭০% থেকে ৭৫%।
এই বিপুল জনসমর্থন মাইনাস হবে কিভাবে? জনসমর্থনকে মাইনাস করা তো সম্ভব না।
সম্ভব হতে পারতো যদি এই অন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের জনসমর্থন ধরে রাখতে পারতো। ৫ ই জুলাই পরবর্তী তাদের সেই জনসমর্থন ছিল। সেই জনসমর্থন কি পরিমান তার কোন পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব নয় কিন্তু অনুমান করা যায় সেই জনসমর্থন ভালোই ছিল। ফলে সেই জনসমর্থন বিএনপি- আওয়ামী লীগ মিলে যে ৭০% থেকে ৭৫% জনসমর্থন আছে তার জায়গা দখল করতে পারতো।
কিন্তু এই সরকার নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের ফলে সেই জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছে। তারা দুই দলের যে প্রদর্শীত পথ সেই পথের বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী কোন কিছুই এই পর্যন্ত করে দেখাতে সক্ষম হয়নি।
তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এই সরকার বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দুই পরিবারকে মাইনাস করতে চায়। অর্থাৎ দুই প্রধান দল বিএনপি – আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে অস্তিত্বশীল থাকবে ঠিকি কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে “জিয়া” এবং ” শেখ” পরিবারকে মাইনাস করা হবে। আমার দৃষ্টিতে এটিই মাইনাস টু। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে দুই পরিবার মাইনাস।
বিএনপি থেকে জিয়া পরিবার মাইনাস হবে আর আওয়ামী লীগ থেকে শেখ পরিবার মাইনাস হবে।
এই মাইনাসের কারন হচ্ছে, এই দুই পরিবারের প্রভাবের কারনে দুই প্রধান দলে শিক্ষিত, মেধাবী এবং যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসতে পারতো না। ফলে দেশ সঠিক নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
শেখ এবং জিয়া পরিবার থেকে যারাই নেতৃত্বে এসেছে তাদের চেয়ে অনেক যোগ্য, মেধাবী এবং যোগ্য ব্যক্তি আছে যারা দলের হাল ধরতে পারলে দেশে ভালো শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো।
এই দুই পরিবারই দুই দলে যোগ্য নেতৃত্ব আসার পথে অন্তরায়।
তাই মাইনাস টু বলতে আমি শেখ এবং জিয়া পরিবারের মাইনাস বুঝি।
দুই প্রধান দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মাইনাস করার চিন্তা শুধু অবাস্তবই নয়, অসম্ভবও বটে।
স্কারবোরো, কানাডা
