নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোন বিতর্ক থাকবে না

টরন্টোতে এখন চলছে তুষারপাতরেজাউল ইসলাম

বাংলাদেশের সব দল না হোক প্রধান দলগুলির মধ্যে মাইন্ডসেট এই হতে হবে যে, দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা থাকবে  এবং নির্বাচনে যে ফলাফল হবে তা তারা মেনে নেবে। জয় পরাজয়কে তারা স্বাভাবিকভাবে নেবে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোন দল  বিতর্ক করতে পারবে না। কোন দলই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করবে না। তারা জনগনের উপর ক্ষমতার ভার ছেড়ে দেবেন।

এই মাইন্ডসেট না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশের মূল সমস্যার সমাধান হবে না।

- Advertisement -

খেয়াল করলে দেখা যায় বাংলাদেশে স্বাধীন উত্তর বেশির ভাগ বড় বড় আন্দোলন হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নিয়ে।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল এবং সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মেনে নিয়েছিল। এরপর বেশ কয়েকটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হয়েছিল। দেশে জনগন ভেবেছিল সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নটি মীমাংসিত হয়ে গেছে। এই নিয়ে তাদের আর চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু দেখা গেলো দুই প্রধান দলের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার মানসিকতার কারনে সেই মীমাংসিত বিষয়টিও টিকে থাকতে ব্যর্থ হলো।

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠু করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের অর্ধেক সমস্যা মিটে যেতো। কারন, তখন প্রতিটি এমপি, মন্ত্রীকে সৎ থাকতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে এবং নিজ নির্বাচনী আসনে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। তানাহলে নির্বাচনের সময় জনগন তাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে না। জনগন ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ আর অসৎ এমপি, মন্ত্রীদের বর্জন করবে। এইভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা থাকলে সরকারের মধ্যে একটি সার্বিক জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠিত হতো। সরকারও তখন সতর্ক থাকতো যাতে পরবর্তীতে জনগনের ভোট পাওয়া সম্ভব হয়। সেই কারনে সরকারও সুশাসন কায়েম করার চেষ্টা করতো। বিরোধী দলগুলিও জনগনের ভোট পাওয়ার জন্য নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন কাজ করতো।

কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা তাদের মাইন্ডসেট ঠিক করতে পারেনি। একই পুরোনো কৌশলে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ভাবনাই তাদেরকে সব সময় তাড়িত করেছে। তাই তারা বার বার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছে। ফলে তাদেরকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই জনগন বিদায় দিয়েছে।

এই অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। সেক্ষেত্রে এই অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং দেশের রাজনৈতিক দলগুলিকে মাইন্ডসেট ঠিক করতে হবে। তারা সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবেন কিনা তা তাদেরকে নির্ধারণ করতে হবে। আবার যদি একই চিন্তা ভাবনা থাকে যে, তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখবে তবে আমি নিশ্চিত তারা এই ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনবেন না।

ইতিমধ্যে এর কিছু আলমত দেখা যাচ্ছে। বিএনপি নানা রকম হিসাব নিকাশ শুরু করে দিয়েছে। তারা হিসাব করছে তাদের জন্য এই অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করা লাভজনক হবে, নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা লাভজনক হবে। এই দোটানায় পড়ে বিএনপির আইনজীবিরা বার বার আবেদন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার রিভিউ শুনানি পিছিয়ে দিচ্ছে।

আবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও তাদের অধীনেই নির্বাচন করতে চাচ্ছে।।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে না এনে অন্তবর্তীকালীন সরকার কেন তাদের অধীনেই নির্বাচন করতে চাচ্ছে তা যে কারো পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব। এদের টার্গেট মূলত একটি দলকেই। এই কারনেই তারা আগামী নির্বাচন তাদের অধীনেই করতে চাচ্ছে। আবার স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের প্রতিও এই সরকারের বিশেষ পক্ষপাত আছে। তাহলে কিভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তা বোধগম্য নয়!!

তাহলে কি দাঁড়ালো, সবাই শুধু মুখে মুখেই সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে, ভিতরে ভিতরে তাদের অন্য ভাবনা।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া একটি সুদূরপরাহত ব্যাপার।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent