
স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের তিন স্তরের যে মাস্ক দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্টারিওর কোনো কোনো বাবা-মা। তারা বলছেন, মাস্কগুলো খুব বেশি বড় এবং অতি সংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। সশরীরে পাঠদান শুরু হওয়ায় প্রাদেশিক সরকার শিক্ষাকর্মীদের এন৯৫ মাস্ক এবং শিক্ষার্থীদের তিন স্তরের কাপড়ের মাস্ক সরবরাহ করেছে।
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিভিন্ন আকৃতির মাস্ক স্কুল বোর্ডগুলোতে পাঠানো হয়েছে। কিছু বোর্ড বলেছে, মাস্কগুলো কিছু শিক্ষার্থীর জন্য বেশি বড়। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।
টরন্টোর বাংলাদেশি কানাডিয়ান আজফার হোসেন বলেন, আমার চার ও ছয় বছরের সন্তানরা স্কুল থেকে তিন স্তরের কাপড়ের মাস্ক পেয়েছে। কিন্তু এটি এতো বড় যে তা আমার ছোট সন্তানের মুখে হচ্ছে না। মাস্কগুলোর আকার ছোট-বড় করার সুযোগ আছে, তারপরও চার বছরের শিশুদের জন্য এটা অনেক বড়। সম্প্রতি আমি আমার সন্তানদের উপযোগী এন৯৫ মাস্ক কিনেছি এবং সেগুলো তাদেরকে দেবো বলে ভেবেছি। কারণ এগুলো তাদের মুখের সঙ্গে ভালোভাবে আটকে থাকে এবং এগুলোর মানও উন্নত।
কিছু শিক্ষার্থীর জন্য মাস্কের আকার বেশি বড় বলে কিছু মন্তব্য তারা শুনেছে বলে জানিয়েছে কেউ কেউ। বোর্ডের মুখপাত্র হিদার লোনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যাতে সঠিক মাপের কাপড়ের মাস্ক প্রদান নিশ্চিত করা হয় স্কুল প্রশাসনকে সেটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ভর্তির ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাস্কগুলো তারা পেয়েছে। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা পেয়েছে চাইল্ড মাস্ক। ১ থেকে ৬ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা পেয়েছে ইয়ুথ মাস্ক এবং গ্রেড ৭ ও ৮ এর শিক্ষার্থীরা পেয়েছে অ্যাডাল্ট মাস্ক। পর্যাপ্ত সংখ্যক ও প্রয়োজনীয় মাপের মাস্ক যাতে বিদ্যমান থাকে সেজন্য স্কুল বোর্ডও নিজেরা আরও কিছু মাস্ক কিনেছে।
বেশি বড় কিছু মাস্ক শিক্ষার্থীদের মুখ থেকে পড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ডারহাম স্কুল বোর্ডও। এজন্য তারা স্কুল প্রশাসনকে ছোট মাস্ক বিতরণের অনুরোধ জানিয়েছে।
স্কারবোরোতে বসবাসরত রঞ্জন রায় বলেন, তার সাত বছরের মেয়ে এ সপ্তাহে স্কুল থেকে একটি মাস্ক পেয়েছে, যা অনেক বড়। এটির মানও মাঝারি ধরনের। মাস্কের ওপরের অংশ এতোটাই বড় যে নাক আটকে থাকে না। প্রস্থও খুব বড়। কানের জন্য যে ফিতা দেওয়া হয়েছে তা মাস্ক মুখের সঙ্গে শক্ত করে আটকানোর উপযোগী নয়। ক্রয়াদেম দেওয়া এন৯৫ মাস্ক হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তার মেয়ে পরিবারের কেনা মেডিকেল মাস্ক্ই পরবে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the Local Journalism Initiative.
